চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২০

২৮ এপ্রিল, ২০১৯ | ৩:০০ পূর্বাহ্ণ

নৌবহরে যুক্ত অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘সংগ্রাম’ ও ‘প্রত্যাশা’ চট্টগ্রামে

সমুদ্রকে শত্রুমুক্ত রাখতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হলো আরো দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা সংগ্রাম’ ও ‘বানৌজা প্রত্যাশা’। চীনে নির্মিত এ যুদ্ধজাহাজ দুটি গতকাল শনিবার দুপুর দুইটায় চট্টগ্রাম নেভাল জেটিতে এসে পৌঁছায়। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকা চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল আবু আশরাফ জাহাজ দুটিকে স্বাগত জানান।
জাহাজ দুটিকে স্বাগত জানানো শেষে কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল আবু আশরাফ গণমাধ্যমকে জানান, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নৌবহরে আধুনিক প্রযুক্তি ও যুদ্ধ সরঞ্জামে সজ্জিত দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ যুক্ত হয়েছে। এতে করে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নৌবহরের সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এধরনের যুদ্ধ জাহাজ নৌবহরে যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সকল স্তরের নৌ সদস্যদের মনোবল । ১১ পৃষ্ঠার ৮ম ক.

আরো বৃদ্ধি হবে। এবং তাদের উপর সমুদ্রকে নিরাপদ ও শত্রুমুক্ত রাখার যে দায়িত্ব রয়েছে তা পালন করতে তারা আরো বেশি সক্ষম হবে। এছাড়া জাহাজ দুটিতে রয়েছে অত্যাধুনিক থ্রিডি র‌্যাডার, ভূমি থেকে আকাশ ও ভূমি থেকে ভূমিতে উৎক্ষেপণযোগ্য মিসাইল, ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম ও র‌্যাডার জ্যামিং সিস্টেমসহ হেলিকপ্টার অবতরণ ও উড্ডয়নের জন্য ডেক ল্যান্ডিং সুবিধা’।
জাহাজ দুটিতে থাকা হেলিকপ্টার ডেক ল্যান্ডিং ও মিসাইলের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ‘জাহাজ দুটিতে ভূমি থেকে আকাশ ও ভূমি থেকে ভূমিতে উৎক্ষেপণযোগ্য যে মিসাইল আছে তা ব্যবহার করে আমরা যে কোনো টার্গেটকে আঘাত হানতে সক্ষম হবো। এছাড়া জাহাজ দুটিতে যে হেলিকপ্টার ডেক আছে তার মাধ্যমে আমরা সমুদ্রে জাহাজের পাশাপাশি হেলিকপ্টার প্রেরণ করে আকাশ পথেও নজরদারি বাড়াতে পারবো’। এসময় যুদ্ধ সরঞ্জামে সজ্জিত অত্যাধুনিক যুদ্ধ জাহাজ দুটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নৌবহরে যুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
এদিকে অত্যাধুনিক এ যুদ্ধজাহাজে থাকা আধুনিক সরঞ্জামগুলো পরিচালনা করতে চীনে বাংলাদেশের ১৮০ জন নৌ সদস্য পূর্বে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বলে জানান জাহাজ দুটির নির্মাণ কাজে প্রধান তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করা কমোডর সাব্বির।
নৌবাহিনী সূত্রে আরো জানা যায়, চুক্তি অনুযায়ী ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট স্টিল কাটিং এর মাধ্যমে জাহাজ দুটির নির্মাণ কাজ শুরু করে চীনের শিপ বিল্ডিং এন্ড অফশোর ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেড। ৯০ মিটার লম্বা ও ১১ মিটার প্রস্থের জাহাজ দুটি নির্মাণ শেষে গত ২৮ মার্চ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর গত ১২ এপ্রিল চীনের সাংহাই বন্দর হতে যাত্রা শুরু করে চীনের ইয়ানতিয়ান বন্দর ও মালয়েশিয়ার কেলাং বন্দর হয়ে দীর্ঘ ৮ হাজার কিলোমিটার সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে গতকাল চট্টগ্রাম নেভাল জেটিতে এসে পৌঁছায় জাহাজ দুটি। জাহাজ দুইটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে পারে। এছাড়া সমুদ্রে দীর্ঘ সময়ব্যাপী মোতায়নযোগ্য এ জাহাজ দুটির মাধ্যমে সমুদ্রে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও জলদস্যুতা রোধ ও উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি অর্থনীতির বিভিন্ন কর্মকা- পরিচালনায় অধিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলেও জানানো হয়।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 392 People

সম্পর্কিত পোস্ট