চট্টগ্রাম বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

২২ অক্টোবর, ২০২০ | ১:৫৮ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

যুদ্ধাপরাধী সৈয়দ কায়সারের মৃত্যু পরোয়ানা জারি

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জাতীয় পার্টির সাবেক প্রতিমন্ত্রী রাজাকার সৈয়দ মুহম্মদ কায়সারের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (২২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার সাঈদ আহমেদ বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার আমরা মৃত্যু পরোয়ানা জরি করেছি। পরোয়ানা কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকার ডিসি অফিসে অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কায়সারকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল রেখে রায় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নিজের নামে ‘কায়সার বাহিনী’ গঠন করে যুদ্ধাপরাধ সংঘটনকারী হবিগঞ্জ মহকুমার রাজাকার কমান্ডার ও শান্তি কমিটির সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারকে সর্বোচ্চ সাজাসহ ২২ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

একাত্তরে ১৫২ জনকে হত্যা-গণহত্যা, দুই নারীকে ধর্ষণ, পাঁচজনকে আটক, অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায় এবং দুই শতাধিক বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন ও ষড়যন্ত্রের ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে ১৪টিই প্রমাণিত হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে প্রথমবারের মতো অন্য অপরাধের পাশাপাশি ধর্ষণের দায়ে ফাঁসির আদেশ পান কায়সার। সাঁওতাল নারী হীরামনি ও অপর নারী মাজেদাকে ধর্ষণের অপরাধ দু’টি প্রমাণিত হয় রায়ে। ওই দুই বীরাঙ্গনা নারী ও ধর্ষণের ফলে বীরাঙ্গনা মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া যুদ্ধশিশু শামসুন্নাহার প্রথমবারের মতো ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্যও দেন কায়সারের বিরুদ্ধে।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৫২ জনকে গণহত্যা, দুই নারীকে ধর্ষণ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধে অংশগ্রহণ ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে প্রত্যক্ষ সহযোগিতার দায়ে ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ হবিগঞ্জ মহকুমার মুসলিম লীগ নেতা সৈয়দ মুহম্মদ কায়সারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ফাঁসির সাজা বাতিল চেয়ে আপিল করেন কায়সার।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগিতায় ৫০০ থেকে ৭০০ ‘স্বাধীনতাবিরোধী’কে নিয়ে নিজেই ‘কায়সার বাহিনী’ গঠন করেন এ মুসলিম লীগ নেতা। মুক্তিযুদ্ধের শেষদিকে তিনি লন্ডনে পালিয়ে যান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দেশে ফেরেন এ রাজাকার কমান্ডার।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 105 People

সম্পর্কিত পোস্ট