চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

‘অবাঞ্ছিতের ঘটনা সরকার করাচ্ছে’

১৫ অক্টোবর, ২০২০ | ৭:৫৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘অবাঞ্ছিতের ঘটনা সরকার করাচ্ছে’

ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান ও ডাকসু সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে একই সংগঠনের ২২ সদস্য। তবে নূরের দাবি, এটি সরকার করাচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে এ দাবি করে তিনি বলেন, তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নামে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার বিষয়টি সরকারই করাচ্ছে। এ নিয়ে আমাদের বলার কিছু নেই। আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না। এটা আসলে সরকারই করাচ্ছে। সরকারি দলের পৃষ্ঠপোষকতায় এরা আসলে এই কাজগুলো করছে।

নুর বলেন, আমরা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ হিসেবে কোটা সংস্কার আন্দোলন করেছিলাম। সেই আন্দোলনের পরে যেহেতু আমরা একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার দিকে যাচ্ছি সেখানে আমরা নামটি সংশোধন করে আমরা “বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ” করেছি। এখন আগের নাম নিয়ে কেউ যদি দাবি করে সেটা আমাদের বিবেচ্য বিষয় না। তারপরও একজন সংগঠন করতেই পারে।

এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবে নূর ও রাশেদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার পর ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে বলা হয়, তাদের আর্থিক অস্বচ্ছতা, নারী কেলেঙ্কারি, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত, নীতি-নৈতিকতাহীন আচরণ, তৃণমূলকে অবমূল্যায়ন, ত্যাগী ও পুরাতন নেতাদের সাময়িক বহিস্কার করাসহ নানাবিধ বিষয় নিয়ে আপনাদের সামনে কথা বলার জন্য আমরা উপস্থিত হয়ে বুকভরা দুঃখ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ভয় থাকা সত্ত্বেও। এদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললেই তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ফোন কল, ম্যাসেজের মাধ্যমে নানাবিধ হুমকি-ধামকি দেয়া হয়। যা ইতোমধ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গেও করা হয়েছে। এটা অনেকটা সরকারেরবিরোধী মতকে দমিয়ে রাখার যে প্রবণতা তারই অন্য রূপ। এরা নিজেরাই অনলাইন নীতিমালা করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের এক প্রকার মানসিকভাবে অত্যাচার করে যাচ্ছে দিনরাত। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল বৈষম্যমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে মিলেমিশে কাঁধে কাঁধ রেখে একসঙ্গে পথ চলা, সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে ভালো। কিন্তু সে আদর্শ থেকে তারা আজ যোজন যোজন দূরত্বে সরে গেছে। বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে স্লোগান নিয়ে আমরা আমাদের সাংগঠনিক যাত্রা শুরু করেছিলাম। সেই সংগঠনে নিজেরাই বারবার যারা রাজনীতির নামে হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে চায় তাদের মাধ্যমে অন্যায়ের শিকার হচ্ছি। গুটিকয়েক নেতার অহমিকা, অহঙ্কার, একরোখা সিদ্ধান্তের কারণে সাংগঠনিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে আমাদের হাজারো মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে গড়ে ওঠা সংগঠন। এরই ফলশ্রুতিতে একে একে বিভিন্ন কেলেঙ্কারি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে যা খুবই লজ্জাস্কর এবং দুঃখজনক।

পরে নূরকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. রাশেদ খাঁন বিবৃতিতে নতুন আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা তাদের দলের কেউ না বলে দাবি করেন।

 

 

পূর্বকোণ/আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 136 People

সম্পর্কিত পোস্ট