চট্টগ্রাম শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০

১১ অক্টোবর, ২০২০ | ২:৪৮ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায়ও স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হলেও সংক্রমণ ঠেকাতে দেশে কার্যকরী কোন ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। অধিকাংশ মানুষই বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করছেন। অর্ধেকেরও বেশি মানুষ বাইরে বেরুতে মাস্ক পরছেন না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বালাই নেই কারো মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ।

বিভিন্ন সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, সারাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হিসেবে সর্বোচ্চ আক্রান্ত জেলা পাঁচটি। এগুলো হল- ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া, ফরিদপুর ও সিলেট। এ জেলাগুলোতে আক্রান্তের হার অন্যান্য জেলার তুলনায় তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। অন্যদিকে এ পাঁচটি জেলার মধ্যে রাজধানী ঢাকায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার খুবই বেশি। ঢাকা মহানগরীতে গড়ে প্রতিদিনি এক হাজারেরও বেশি মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছে। ঢাকার পরেই আছে চট্টগ্রাম।

গত ২৯ অক্টোবর করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত ব্যবস্থাপনা গ্রুপের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জনস্বাস্থ্য অনুবিভাগ) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল। সভায় করোনার সম্ভাব্য দ্বিতীয় ওয়েব (দ্বিতীয় ঢেউ) মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলার প্রবণতার বিষয়টি উঠে আসে। সভায় ২৯ অক্টোবর পূর্ববর্তী ছয়দিনের জেলাভিত্তিক করোনা পরিস্থিতির ডাটা পর্যালোচনায় জনগণের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে আলোচনা হয়। করোনার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণ করতে ঢাকা মহানগর, চট্টগ্রাম, বগুড়া, ফরিদপুর, সিলেট জেলায় ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (ডিজি) সুপারিশ করা হয়। এছাড়া প্রতিদিনের ডাটা পর্যালোচনা পরবর্তীতে যে সকল জেলার করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে মর্মে প্রতীয়মান হবে, সে সকল জেলাতেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে সুপারিশ করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ জানান, ঢাকাসহ সারাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বর্তমানে তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে। আক্রান্ত রোগীর সুস্থতার হার অনেকাংশে বেড়ে গেছে। তবে আসন্ন শীত মৌসুমে এর প্রকোপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য ও রোগতথ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা প্রতিনিয়ত মুখে মাস্ক পরিধান, নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা ও সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে ঘন ঘন হাত ধুয়ে ফেলাসহ করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করলেও কে শুনে কার কথা। মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা দিনকে দিন বরং কমছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার সেকেন্ড ওয়েব শুরু হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার বড় খেসারত দিতে হতে পারে। সুতরাং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে সরকারকে কঠোর হতে হবে বলে তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ।

পূর্বকোণ/ এস

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 86 People

সম্পর্কিত পোস্ট