চট্টগ্রাম সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০

করোনার ভ্যাকসিন: টাকা দিয়ে অগ্রিম বুকিং দেয়ার পরামর্শ কারিগরি কমিটির

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ৫:৪৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনার ভ্যাকসিন: টাকা দিয়ে অগ্রিম বুকিং দেয়ার পরামর্শ কারিগরি কমিটির

জাতীয় কারিগরি কমিটি দ্রুত ভ্যাকসিন সংগ্রহ ও বিতরণ নিশ্চিত করার জন্য কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছে। ভ্যাকসিন সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় রয়েছে কয়েকটি দেশ ভ্যাকসিন কিনার টাকা অগ্রিম জমা দিয়েছে। সে হিসেবে বাংলাদেশকেও অগ্রিম টাকা জমা দিয়ে বুকিং দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। এছাড়া সীমিত আকারে আসন্ন দূর্গাপূজা উদযাপন করাও পরামর্শ দেয়া হযেছে।
জাতীয় কারিগরি কমিটির চেয়ারপারসন অধ্যাপক  ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ সভাপতিত্বে গত বৃহস্পতিবার (১৭ই সেপ্টেম্বর) কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ১৯তম অনলাইন সভায় এ পরামর্শ দেয়া হয়। সভায় পরামর্শক কমিটি দ্রুত ভ্যাকসিন সংগ্রহ ও বিতরণের প্রস্তুতিতে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য  সরকারকে সাধুবাদ জানায়।
সভায় কমিটি জানায়, কোনো কোনো টিকার জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রার কোল্ড চেইন ব্যবস্থা আমাদের নেই। ভ্যাকসিন নির্বাচনের ক্ষেত্রে সে বিষয়টির দিকে লক্ষ্য রাখা যেতে পারে অথবা উল্লেখিত তাপমাত্রার কোল্ড চেইন ব্যবস্থা করা যেতে পারে। কোন একটি ভ্যাকসিনের জন্য কাজ না করে একাধিক উৎসের সঙ্গে যোগাযোগ ও ভ্যাকসিন সংগ্রহের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। বিশেষ করে যেসব দেশে ভ্যাকসিন তৈরিতে সে দেশের সরকারের সম্পৃক্ততা আছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।
ভ্যাকসিন প্রাপ্তির পর প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভ্যাকসিন প্রদানের কার্যক্রম করতে হবে এবং এখনই ভ্যাকসিন ডিপ্লয়মেন্ট প্ল্যান চূড়ান্ত করা প্রয়োজন। ভ্যাকসিন প্রদানের পরবর্তী সময়ে ভ্যাকসিন এর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ফলোআপ করার ব্যবস্থাও থাকতে হবে। ভ্যাকসিন বিষয়ক বিশেষ কমিটিতে নাইট্যাগ ও জাতীয় পরামর্শক কমিটির প্রতিনিধি রাখার পরামর্শ দেয়া হয়। ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে ট্রায়াল কার্যক্রমের উপযুক্ত ও দক্ষ প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। আইসিডিডিআরবি’র সাথে সরকারি প্রতিষ্ঠান যেমন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, আইইডিসিআর ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানসমূহকে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।
কমিটির পরামর্শ দিয়েছে, বর্তমানে পিসিআর টেস্টের মাধ্যমে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হচ্ছে যার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। কোভিড-১৯ পরীক্ষার পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারলে আরও বেশি কোভিড-১৯ সংক্রমণ সনাক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ উদ্দেশ্যে এন্টিজেন ও এন্টিবডি টেস্টের জন্য একাধিকবার পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় পরামর্শক কমিটি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে রোগ নির্ণয়ে এন্টিজেন টেস্টের নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এন্টিজেন ও এন্টিবডি টেস্টের ব্যাপারে একটি নীতিমালা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে যেসব জেলায় পিসিআর টেস্টের সুবিধা নেই এবং বিশেষায়িত হাসপাতালে এন্টিজেন টেস্টের পরিকল্পনা দাখিল করা হয়েছে। এন্টিজেন টেস্ট কিটের যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে একটি সাবধানতার বিষয়ও এখানে রয়েছে যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ ধরণের কিটের এখনও অনুমোদন দেয়নি। জাতীয় পরামর্শক কমিটি মনে করে তিন পদ্ধতিতে (পিসিআর, এন্টিজেন ও এন্টিবডি টেস্ট) কোভিড-১৯ পরীক্ষা কার্যক্রম পাশাপাশি থাকলে তা কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখন সেরোসার্ভিল্যান্স নিয়ে কাজ করার সময় এসে গেছে যার জন্য এন্টিবডি টেস্ট চালু করাও প্রয়োজন। যে সব কারণে কোভিড-১৯ পরীক্ষা কমে গেছে সেগুলো দূর করে কোভিড-১৯ পরীক্ষার সংখ্যা আরও বাড়ানো দরকার যা করা গেলে বিশ্বমহামারী নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সংক্রমণ পরিস্থিতির একটি পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে। কোভিড-১৯ পরীক্ষা বাড়ানোর জন্য জনগণের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। নমুনা সংগ্রহের বুথের তালিকা প্রকাশ্য স্থানে প্রদর্শন (ডিসপ্লে) করা প্রয়োজন। এছাড়া নমুনা সংগ্রহের ও পরীক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন। পরীক্ষা দ্রুত করার জন্য অটো এক্সট্রাকশন এর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি তাদের পরিবার পরিজনও কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছে। এ সভা মনে করে স্বাস্থ্যকর্মীদের হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের পর কোয়ারান্টাইনের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা আবশ্যক। স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের অনুদানপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য সঠিক তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ের কাছে দাখিল করা প্রয়োজন। তালিকাটি জাতীয় কারিগরি পরামশর্ক কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে একটি সাবকমিটি গঠন করে এবং ডাক্তার, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে সম্পৃক্ত করে প্রস্তুত করার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
যেসব মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষায় কাজ করেছে সরকার ইতোমধ্যে প্রমার্জনার মাধ্যমে তাদের নিয়োগ প্রদান করেছে। এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বেশ কিছুপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবক মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অন্তর্ভুক্ত হননি। তাদের নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার জন্য জাতীয় কারিগরি পরামশর্ক কমিটি সরকারের নিকট সুপারিশ করছে। কোভিড-১৯ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে জনসাধারণ এর মধ্যে এক ধরণের শৈথিল্য দেখা যাচ্ছে। জনসাধারণকে আরও সচেতন ও কোভিড-১৯ প্রতিরোধে জনগণের সক্রিয় অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
আগামী অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় কোভিড-১৯ মহামারির পরিস্থিতিতে সীমিত পরিসরে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূর্গাপূজা উদযাপন করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়। সভা মনে করে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দূর্গাপূজার আচরণবিধি প্রস্তুত করে দেয়া প্রয়োজন।
পূর্বকোণ/আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 93 People

সম্পর্কিত পোস্ট