চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

লঞ্চে ধর্ষণের পর হত্যা: ‘ধর্ষক’ গ্রেপ্তার
লঞ্চে ধর্ষণের পর হত্যা: ‘ধর্ষক’ গ্রেপ্তার

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ৯:১২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

লঞ্চে ধর্ষণের পর হত্যা: ‘ধর্ষক’ গ্রেপ্তার

ঢাকা থেকে বরিশালগামী এমভি পারাবত-১১ লঞ্চের কেবিনের এক নারী যাত্রীর হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। গ্রেপ্তাকৃতের নাম মনিরুজ্জামান চৌধুরী (৩৪)। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে রাজধানীর দারুস সালাম এলাকা থেকে তাকে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বরিশাল পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ সুপার জানান, ঢাকা থেকে বরিশালগামী পারাবত-১১ লঞ্চের ৩৯১ নম্বর সিঙ্গেল কেবিন থেকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কেবিন পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে লঞ্চের স্টাফরা ওই কেবিনে গিয়ে দরজা খোলা অবস্থায় অজ্ঞাত নারীর মৃতদেহ খাটের ওপর দেখতে পায়। তাৎক্ষণিক নৌ-পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হলে তারা মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট সুরতহাল ও অন্য আলামতের ভিত্তিতে বিষয়টি হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার পরে তদন্তে নামে। তদন্তের প্রথমভাগেই পিবিআই অজ্ঞাত ওই নারীর পরিচয় জানতে পারে।

নিহত ওই নারীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস লাবনী। তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আদমপুর এলাকায়। তিনি ঢাকায় মিরপুরের পল্লবীতে দুই সন্তান নিয়ে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন।

এদিকে সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা ওই নারীর সঙ্গে লঞ্চে আগমনকৃত ব্যক্তির সন্ধানে নামে পিবিআই। শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিকে একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে লাবনীর ব্যবহৃত ওড়না, মোবাইলসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি মনিরুজ্জামানকে লঞ্চে যে শার্টটি পরিহিত অবস্থায় সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গেছে, সেটিও উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনিরুজ্জামানের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পিবিআই পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, তারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। রাতে লঞ্চযোগে বরিশাল যাওয়ার পথে কেবিনে তাদের ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে লাবনীকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করা করে সে। লঞ্চটি বরিশালে পৌঁছালে মনিরুজ্জামান কৌশলে পালিয়ে বাসযোগে ঢাকা চলে যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার মরিরুজ্জামান রাইড শেয়ারের চালক ছিলেন। এটি তার তৃতীয় বিয়ে। আর নিহত লাবনীরও আগে বিয়ে হয়েছিল।

লাবনীর পরিবারের দাবি, গত রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) চাকরির প্রলোভনে ঢাকার সদরঘাট থেকে মনিরুজ্জামানের সঙ্গে লাবনী লঞ্চযোগে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন। ওইদিন রাত ৯টা পর্যন্ত লাবনীর সঙ্গে ফোনে কথা হয় তার বাবার।

তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশাল সদর নৌ থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ওই দুজনের মধ্যে বিয়ে হয়েছিল নাকি পরকীয়া, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি হত্যার মূল রহস্য উদঘাটনে আরও সময় লাগবে। এই ঘটনায় নৌ-পুলিশ বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তারকৃত মনিরুজ্জামানকে তাদের হেফাজতে নেয়া হবে।

 

 

 

পূর্বকোণ/আরপি

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 64 People

সম্পর্কিত পোস্ট