চট্টগ্রাম রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

এসপি মাসুদকে আসামি করার আবেদন খারিজ
এসপি মাসুদকে আসামি করার আবেদন খারিজ

১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ৯:৫১ অপরাহ্ণ

উখিয়া সংবাদদাতা

এসপি মাসুদকে আসামি করার আবেদন খারিজ

মেজর সিনহা হত্যা মামলায় কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনকেও আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করেছেন মামলার বাদি সিনহার বড়ো বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম (কক্সবাজার সদর-৪) তামান্না ফারাহর আদালতে তিনি এই আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিকেলে আবেদনটি নামঞ্জুর করা হয়। পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট ফরিদুল আলম জানিয়েছেন, আবেদনের একটি একটি অবজারভেশনও দিয়েছে আদালত।

বাদিপক্ষের আইনজীবী সিনিয়র এডভোকেট মোহাম্মদ মোস্তফা জানান, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন মেজর সিনহা হত্যা মামলার তদন্ত কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেই চলেছেন। তিনি সিনহা হত্যা মামলার আসামি বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকতকে কারাগারে ডিভিশন দেয়ার জন্য চিঠি দিয়েছেন। আসামিদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। অর্থাৎ এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন তার দাপ্তরিক কার্যক্ষমতা আসামিদের পক্ষে কাজে লাগাচ্ছেন। তাই তাকে মেজর সিনহার হত্যা মামলার আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি ফৌজদারি আবেদন করেছি। সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার স্বার্থে তাকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

মামলার বাদি ও মেজর সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস জানান, এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন ঘটনার শুরু থেকেই আসামিদের পরোক্ষ-প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। মেজর সিনহার মানহানি করেছেন। ঘটনার পরদিন তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, মেজর সিনহার গাড়িতে তিনি ইয়াবা ও মাদকদ্রব্য পেয়েছিলেন। একজন পুলিশ সুপার হিসেবে তিনি এটি বলতে পারেন না। তিনি তদন্ত কাজে প্রতিনিয়ত বাধা সৃষ্টি করে চলেছেন।

মেজর সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস আদালতে ১০টি অভিযোগ এনে নতুন করে আবেদন দেন। অভিযোগগুলো হল:

১. অবমাননাকর প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন।

২. গুরুত্বপূর্ণ অফিসে ক্ষমতাসমূহ অপব্যবহার।

৩. হত্যার পর ইন্সপেক্টর লিয়াকতকে মামলার দায়ভার থেকে মুক্তি পাওয়ার পন্থাসমূহ শিখিয়ে দেয়া।

৪. আহত অবস্থায় মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে চিকিৎসা প্রদানে অনীহা ও কোনো ভূমিকা না রাখা।

৫. পুলিশের মামলার সাক্ষীদের আসামি করে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করার পর অজ্ঞাতনামা অপহরণ মামলা দায়ের করা।

৬. অত্র মামলার আসামি প্রদীপ কুমার দাশকে মেডিকেল লিভ দিয়ে পাঠিয়ে দেয়া।

৭. আসামি প্রদীপ দাশকে কারাগারে ডিভিশন দেয়ার জন্য চিঠি দেওয়া।

৮. আসামি প্রদীপ কুমার দাশের সঙ্গে কারা ছিল, র‌্যাব তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইলে আসামি পাঠাতে গড়িমসি করে জটিলতা সৃষ্টি করা, সংশ্লিষ্ট অনেককে অন্যত্র বদলি করে দেয়া।

৯. অত্র মামলার ঘটনার পর পুলিশের করা মিথ্যা মামলা অনুযায়ী মিডিয়াতে আসামিদের পক্ষে বক্তব্য প্রদান করে নিহত মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে একজন মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে বক্তব্য প্রচার করে মানহানি ও অপদস্থ করা। ও

১০. ঘটনার পর পাশে লিখিত আসামি (এ বি এম মাসুদ হোসেন) মিডিয়াকে মিথ্যা বিবৃতি দিয়ে শামলাপুরের লোকজন গাড়ির আরোহীদের ডাকাত সন্দেহ করে খবর দেন। এই সময়ে তল্লাশি চেকপোস্টে গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু মিথ্যাভাবে বলেন যে, গাড়ির আরোহী পিস্তল বের করে পুলিশকে গুলি করার চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায়। আরও জানান যে, গাড়িটি তল্লাশি করে ৫০ পিস ইয়াবা, কিছু গাঁজা, দুটি বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার করে, যা আদৌ সত্য নয়। এতে নিহত মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের অবমাননাকর বিধায় কক্সবাজারের পুলিশ সুপার প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছেন।

পুলিশ সুপারকে আসামি করার কারণ সম্পর্কে বাদি শারমিন ফেরদৌস বলেন, কক্সবাজারের পুলিশ সুপারকে মামলার আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা না হলে ন্যায় বিচার পাবার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। আদালতের কাছে আমার প্রত্যাশা, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এসপি মাসুদকে উক্ত মামলায় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করবেন।

কক্সবাজার আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, বৃহস্পতিবার মেজর সিনহা হত্যা মামলার কার্যদিন ছিল না। কিন্তু মামলার বাদি শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌসি কয়েকটি যুক্তি উত্থাপন করে একটি আবেদন করেছেন, কক্সবাজারের এসপিকে সিনহা হত্যা মামলায় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্তি করার। আবেদন শুনানির পর তা নামঞ্জুর করে মামলা তদন্তকালে কেউ হস্তক্ষেপ কিংবা প্রভাব বিস্তার করলে ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার মামলার তদন্ত কর্মকর্তার রয়েছে রয়েছে বলে একটি অবজারভেশন দেয় আদালত। তাই আবেদনটি আমলে নেয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের টেকনাফের কাছে বাহারছড়া চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা। ওই ঘটনায় সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস গত ৫ অগাস্ট কক্সবাজারের হাকিম আদালতে নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেখানে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে ১ নম্বর এবং টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে ২ নম্বর আসামি করা হয়।

 

 

 

 

 

 

পূর্বকোণ/কায়সার-আরপি

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 280 People

সম্পর্কিত পোস্ট