চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২০

সর্বশেষ:

ধনী আমলার আদুরে কন্যাকে দেখতে যায়নি স্বজনদের কেউ
ধনী আমলার আদুরে কন্যাকে দেখতে যায়নি স্বজনদের কেউ

১৪ জুলাই, ২০২০ | ৮:৫১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩ দিনের রিমান্ডে ডা. সাবরিনা

ধনী আমলার আদুরে কন্যাকে দেখতে যায়নি স্বজনদের কেউ

ধনী আমলার আদুরে কন্যা হলেও গত দু’দিনে পরিবারের কোনও সদস্য ডা. সাবরিনার সঙ্গে দেখা করতে থানা বা কোর্ট হাজত প্রাঙ্গণে যায়নি। এদিকে, গত সোমবার গ্রেপ্তারের পর থানা হাজতে র্নিঘুম রাত কাটিয়ে গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর রহমানের কোর্টে তাকে নেয়ার পর পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট ডেলিভারি দেয়ার প্রতারণার মামলায় জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফকে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর রহমান শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। তেজগাঁও থানা পুলিশ এদিন সাবরিনাকে আদালতে হাজির করে তাকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করে।

অন্যদিকে পুলিশের রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করে সাবরিনার পক্ষে জামিনের আবেদন করেনে সাইফুল ইসলাম সুমনসহ কয়েকজন আইনজীবী। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে এই চিকিৎসককে তিন দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

গতকাল সোমবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। গত রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও জোনের একটি টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে পুলিশি হেফাজতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

থানা হাজতে যেভাবে রাত কাটালেন ডা. সাবরিনা :

হেলথ কেয়ারের জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তার জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের চিকিৎসক সাবরিনা শারমিন হুসাইন ওরফে সাবরিনা আরিফ চৌধুরী গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) থানা হাজতে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। জানা গেছে, মাঝেমধ্যে পায়চারী করেছেন। কথা বলেছেন পুলিশের নারী প্রহরীদের সঙ্গে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেজগাঁও থানার এক কর্মকর্তা বলেন, থানায় নেয়ার পর সাবরিনাকে কিছুক্ষণ একজন পুলিশ কর্মকর্তার কক্ষে বসানো হয়েছিল। এরপর তাকে নারী-শিশুদের হাজতে রাখা হয়। রাতে থানা হাজতেই কাটে তার সময়। দু/তিনজন নারী প্রহরী সেখানে ডিউটিতে ছিলেন। তাদের সঙ্গে মাঝে মাঝে কথা বলেছেন। থানা থেকে সরবরাহ খাবারই রাতে খেয়েছেন তিনি।

মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন ডা. সাবরিনা :

করোনার নমুনা পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা। ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ১৯৯৩ সালে এসএসসি ও পরে এইচএসসি পাস করেন। এরপর এমবিবিএস পাস করেন সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে। সাবরিনা ২৭তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারের চাকরি পাওয়ার পর তার প্রথম পোস্টিং হয় দিনাজপুরে। পরে বদলি হয়ে আসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজে। সেখান থেকে যোগ দেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে।

সাবরিনার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে। তার বাবা সাবেক সচিব সৈয়দ মোশাররফ হোসেন। তিনি ঢাকার শ্যামলীর পিসি কালচার রোডের নিজ বাড়িতে বসবাস করেন। তার দুই মেয়ের মধ্যে ডা. সাবরিনা বড়। সাবরিনার প্রথম স্বামীর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, তিনি টেলিফোন সেবা সংক্রান্ত একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা।

মূলতঃ ডা. সাবরিনা চৌধুরী দ্বিতীয় বিয়ে করার পর বেপরোয়া হয়ে উঠেন। গ্রেপ্তারের পর সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এমন তথ্যই পেয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সূত্র বলছে, আরিফের সঙ্গে বিয়ের পর বেপরোয়া হয়ে ওঠেন সাবরিনা। ওভাল গ্রুপের সিইও আরিফের চতুর্থ স্ত্রী এই নারী চিকিৎসক। তারা দু’জনে দেশে-বিদেশে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও ঠিকাদারি কাজ পেতে নানামুখী তদবির করেন সাবরিনা। এক্ষেত্রে সাবরিনা বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)-এর কয়েকজন নেতাকে কাজে লাগান বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করে আসা ডা. সাবরিনা আরিফুল গ্রেপ্তার হওয়ার পর করোনা সনদ জালিয়াতির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসার পরই স্বামীকে তড়িঘড়ি তালাক নোটিস পাঠান।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত সাবরিনার হাত ধরেই করোনার স্যাম্পল কালেকশনের কাজটি ভাগিয়ে নেয় অনেকটা অখ্যাত জেকেজি নামে এই প্রতিষ্ঠান। প্রথমে তিতুমীর কলেজে মাঠে স্যাম্পল কালেকশন বুথ স্থাপনের অনুমতি মিললেও প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার অন্য এলাকা এবং অনেক জেলা থেকেও নমুনা সংগ্রহ করছিলেন তারা। তবে স্বামী-স্ত্রী মিলে করোনা টেস্ট করলেও তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের নয়। স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের এক চিকিৎসককে মারধর করেন আরিফ চৌধুরী। পরে এ ঘটনায় স্বামীর বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় জিডি করেন ডা. সাবরিনা।

 

 

 

 

 

পূর্বকোণ/পি-আরপি

The Post Viewed By: 178 People

সম্পর্কিত পোস্ট