চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

৬ জুলাই, ২০২০ | ৭:৩৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্লে ব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর আর নেই

ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। আজ সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে এন্ড্রু কিশোরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। পরে সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটের দিকে রাজশাহীতে বোনের ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। বড় বোনের স্বামী ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, ডাক দিয়েছেন দয়াল আমারে, সবাই তো ভালবাসা চায়- এমন অনেক গান নিয়ে গত শতকের ৮০ দশক থেকে শুরু করে টানা দুই দশক বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে গানের জগতে ছিল তার রাজত্ব। মৃত্যুকালে প্লেব্যাক এ সংগীত শিল্পীর বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। তিনি স্ত্রী লিপিকা ও দুই সন্তান রেখে গেছেন।

তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এন্ড্রু কিশোরের জীবন

১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে এন্ড্রু কিশোরের জন্ম। সেখানেই শৈশব ও কৈশোর কাটিয়েছেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতে অনুরক্ত ছিলেন তিনি। প্রাথমিকভাবে সংগীতের পাঠ শুরু করেন রাজশাহীর আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনায় ভর্তি হলেও গানই ছিল তার ধ্যান-জ্ঞান। মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময় তিনি রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, আধুনিক গান, লোকগান ও দেশাত্মবোধক গানে রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হন।

গানের নেশায় একসময় রাজধানীতে ছুটে আসেন এন্ড্রু কিশোর ছুটে আসেন। ১৯৭৭ সালে মেইল ট্রেন-এ আলম খানের সুরে ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে গান গাওয়া শুরু হয়েছিল। এরপর বাদল রহমানের এমিলের গোয়েন্দা বাহিনীতেও কণ্ঠ দেন তিনি। ১৯৭৯ সালে প্রতিজ্ঞা চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে’ গান গাওয়ার পর তাকে আর পেছনে ফিরতে হয়নি।

তার গাওয়া ভালবেসে গেলাম শুধু, সবাই তো ভালবাসা চায়, আমার বুকের মধ্যে খানে, আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা, আমি চিরকাল প্রেমেরও কাঙাল, বেদের মেয়ে জোছনা আমায় কথা দিয়েছে- এমন অনেক গান এখনও মানুষের মুখে ফেরে। গান গেয়ে আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জেতেন তিনি। ৯০ এর দশকের শেষ দিক পর্যন্ত চলচ্চিত্রের গানে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল তার। ওই সময়েও তার গাওয়া ‘পড়ে না চোখের পলক’ গানটি ছিল তুমুল জনপ্রিয়।

বেশ কিছু দিন অসুস্থ থাকার পর এন্ড্রু কিশোরের ক্যান্সার ধরা পড়ে। ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে সিঙ্গাপুরে নয় মাস ধরে চিকিৎসা নিয়ে গত ১১ জুন দেশে ফেরার কথা থাকলেও ১০ জুন এক পরীক্ষায় তার শরীরে আবারও লিম্ফোমার অস্তিত্ব মেলে। বিদেশ থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে ছিলেন রাজশাহীতে চিকিৎসক বোনের বাড়িতে। পরদিন রাজশাহী নগরীর মহিষবাতান এলাকায় বোন শিখা বিশ্বাসের ক্লিনিকে ভগ্নিপতি ও চিকিৎসক প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে ছিলেন এন্ড্রু কিশোর।

গতকাল রবিবার বিকালে এন্ড্রু কিশোরের শারীরিক অবস্থা আরও সঙ্কটাপন্ন হয়ে ওঠার খবর ছড়িয়ে পড়ে। তিনি কারও সঙ্গেই কথা বলতে পারছিলেন না।

সেদিন রাতে স্ত্রী লিপিকা এন্ড্রু স্বামীর ফেসবুক ফ্যান পেজে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস লিখেন। তাতে তিনি এন্ড্রু কিশোরের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে ভক্তদের তার জন্য প্রার্থনা করতে বলেন।

 

 

 

 

পূর্বকোণ/আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 455 People

সম্পর্কিত পোস্ট