চট্টগ্রাম শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২০

সর্বশেষ:

কোভিড পরীক্ষায় ফি বাতিলের দাবি জানাল ক্যাব

৪ জুলাই, ২০২০ | ৯:৩১ অপরাহ্ণ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

কোভিড পরীক্ষায় ফি বাতিলের দাবি জানাল ক্যাব

চরম অব্যবস্থাপনায় ও অপ্রস্তুতির মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ এর চিকিৎসা শুরু হয়। পরীক্ষায় কিট সংকট, ল্যাবগুলিতে জনবল সংকট, ১৫-২০ দিন পরীক্ষার ফল প্রদান, লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে পরীক্ষা দিতে না পারা, রেজাল্ট পেতে বিড়ম্বনা, পরীক্ষার ফলে নানা ত্রুটি, একজনের ফলাফল আরেক জনের নামে ইস্যু করা, চিকিৎসক ও নার্সের জন্য পিপিই ও মাস্ক সংকট, পিসিআর মেশিন সংকট, সরকারী-বেসরকারী হাসপাতালে ডাক্তার ও নার্স সংকট, রোগী ভর্তি করছে না। তাছাড়াও অক্সিজেন, আইসিইউ, সাধারন বেড এবং সর্বোপরি কোভিডের সাথে জড়িত ওষুধের আকাশচুম্বি দাম ও বাজার থেকে উধাও। এধরনের বহুবিধ সংকটের মধ্যে দিয়ে দেশে কোভিড চিকিৎসা চলছে। আর যেখানে টেস্ট করাতে ও ফলাফল পেতে মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই সেখানে এই অব্যবস্থাপনা দূর না করে হঠাৎ করে সাধারণ রোগীদের কোভিড পরীক্ষায় ফি নির্ধারণ করলেন সরকার। বিষয়টি দেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। কারন সংবিধানের ১৭নং অনুচ্ছেদ এ রাষ্ট্রের নাগরিকদের চিকিৎসা ও মহামারীকালে যাবতীয় সুবিধা রাষ্ট্র নিশ্চিত করার কথা বলা আছে। তাই অবিলম্বে কোভিট পরীক্ষার ফি গ্রহনের নির্দেশনা বাতিল করে পরীক্ষা ও চিকিৎসায় যাবতীয় জটিলতা দূর করে রাষ্ট্রের নাগরিকদের সংকটকালীন সময়ে জরুরি এই চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন কনজ্যুমারস  এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম। ৪ জলাই ২০২০ গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ  সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, ক্যাব যুব গ্রুপের সভাপতি চৌধুরী কে এনএম রিয়াদ ও সম্পাদক নিপা দাস উপরোক্ত দাবি জানান।

বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা মহামারীর কঠিন দুর্যোগে একদিকে মানুষ কর্মহীন, আয় রোজগার হারিয়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে দারুন ভাবে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সেখানে টেস্টের পরীক্ষার ফি সাধারণ রোগীদের জন্য ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ হিসাবে আর্বিভূত হয়েছে। সরকার একদিকে সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোভিড আক্রান্ত হলে তাদের জন্য ৮-১০ লাখ টাকা সরকারি অনূদান দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আর সংকটকালীন সময়ে রাষ্ট্র নাগরিকদের বিপদে পাশে না থেকে উল্টো পরীক্ষা ফি নির্ধারণ করে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ফি নির্ধারণ শুধু অমানবিক নয়, অগ্রহনযোগ্য ও কল্যানকামী রাষ্ট্রের কাছে আশা করা যায় না।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, রাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন পেশাজীবিদের জন্য পৃথক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা হলেও সাধারণ রোগীদের ভাগ্য সেই জরাজীর্ণ সরকারি  হাসপাতাল ছাড়া কিছুই নাই। সেখানে আবার ভিআইপি, ভিআইপি নামে সব সুবিধাগুলি উপরতলার মানুষরা দখল করছে। চিকিৎসা সর্বজনীন না হলে এ অবস্থার পরিত্রাণ নেই।

বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, করোনার মহামারী কালে সরকার প্রধান হিসাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দিনে ২০ ঘন্টা পরিশ্রম করে সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে অবিরাম পরিশ্রম করছেন। আর সেখানে সরকারের একশ্রেণীর কর্মকর্তারা নানা ফর্মূলা দিয়ে মানুষের ভোগান্তি বাড়াতে নানা ফন্দি ফিকির করছেন, যা প্রধানমন্ত্রীর কঠিন পরিশ্রম ও ত্যাগকে ম্লান করার জন্য নীল নকশা  কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার।

পূর্বকোণ/এএ

The Post Viewed By: 155 People