চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

এমপিওভুক্তিতে বাধা দেয়ার অভিযোগে জাবির ভিসির পদত্যাগ দাবি
এমপিওভুক্তিতে বাধা দেয়ার অভিযোগে জাবির ভিসির পদত্যাগ দাবি

২১ জুন, ২০২০ | ৩:১৬ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

এমপিওভুক্তিতে বাধা দেয়ার অভিযোগে জাবির ভিসির পদত্যাগ দাবি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে এমপিওভুক্তির বিরোধিতাকারী আখ্যা দিয়ে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফোরাম চট্টগ্রাম বিভাগের নেতারা।

আজ রবিবার (২১ জুন) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স মাস্টার্স শিক্ষক ফোরাম চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সহ সভাপতি মাহাবুবুর রহমান, হুমায়ুন করিম, নুর নবী, মাকসদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রোমেন দে, মোহাম্মদ রাসেল, কাজী এমদাদুল হক, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সুকান্ত নন্দী, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক রিম্পা মুৎসুদ্দী, মোহাম্মদ মামুন, প্রচার সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, প্রকাশনা সম্পাদক নাজিম উদ্দীন ও মোয়াজ্জেম হোসেন।

বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফোরাম চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত শুধু বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সের অনুমোদন দিচ্ছে, কিন্তু শিক্ষকদের বেতনের দায়িত্ব নিচ্ছে না। অথচ একই কলেজের ইন্টারমিডিয়েট, ডিগ্রীর শিক্ষকরা এমপিও পান, মাদ্রাসায় কামিল পর্যন্ত এমপিও আছে, শুধু আমাদের নেই।

কলেজ থেকে যে সামান্য ভাতা দেয়া হতো তাও এখন ৯০ ভাগ কলেজে ফান্ড না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে ২৫’শ কোটি টাকা অলস পড়ে আছে, যা একটি এফডিআর করে তার সুদ থেকে শিক্ষকদের বেতন দিতে পারে।

তাছাড়া, ২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজগুলোকে শতভাগ বেতন দেয়ার নোটিশ দেয়া হয়। আজ পর্যন্ত এসব কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ এসে তদারকি করেননি, এই শিক্ষকরা আসলে কত টাকা বেতন পাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সভাপতি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ২০১৭ সালে অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির বিষয়ে একটি সুপারিশ আসে এবং এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতামত চেয়েছিলো। কিন্তু ভিসি কোনও মতামত দেননি। অর্থাৎ তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অমান্য করেছেন।

এদিকে, বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফোরাম চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, ‘পরীক্ষার খাতা কাটার সম্মানী বাবদ ২০১৮ সালের অনার্স প্রথম বর্ষের টাকা আমরা এখনও পাইনি। কেন্দ্রীয়ভাবে এসব বিষয়ে আমরা বলে আসছি, কিন্তু ভিসি কিছুই আমলে নিচ্ছেন না।’

অন্যদিকে, সর্বশেষ জনবল কাঠামো ২০১৮ সংশোধনীতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিও’র বিরোধীতা করেন বলে অভিযোগ করেন নেতারা।

তারা আরও বলেন, ‘আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। আমরা শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা উপমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি, ডিসির মাধ্যমে স্মারকলিপি দিয়েছি এবং তাদের সঙ্গে বৈঠক করে যখন সবকিছু গুছিয়ে আনি, তখনই ভিসির বিরোধিতায় সব ভেস্তে যায়। তাই এই মুহূর্তে এমপিওভুক্তিতে বাধা দেওয়ার জন্য আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগ দাবি করছি।’

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 159 People

সম্পর্কিত পোস্ট