চট্টগ্রাম সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আল্লামা কাযী মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম হাশেমীর জীবনী
আল্লামা কাযী মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম হাশেমীর জীবনী

২ জুন, ২০২০ | ৬:২০ অপরাহ্ণ

আল্লামা কাযী মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম হাশেমীর জীবনী

ইমামে আহলে সুন্নাত, রাহনুমায়ে শরীয়ত ও তরিক্বত, উস্তাজুল ওলামা, শাইখুল মুহাদ্দেসিন আল্লামা কাযী মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম হাশেমী (রহ.) বায়েজিদ থানাধীন জালালাবাদের সম্ভ্রান্ত মুসলিম কাযী পরিবারে হাশেমী বংশে ১৯২৮ সালের ২৯ শে ডিসেম্বর রবিবার রাতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা শাহ্ সুফী মাওলানা কাযী আহ্ছানুজ্জমান হাশেমী (রা.)। মাতা ছিলেন চট্টগ্রাম শাহী জামে মসজিদের সাবেক ইমাম ও খতীব আল্লামা ছফিরুর রহমান হাশেমী (রা.) কন্যা। তাঁর পুর্বপুরুষ ইমাম হোসাইন (রা.) এর বংশধর। তাঁর পিতার পূর্বপুরুষ মদীনা শরীফ হতে হিজরত করে বাগদাদে আসেন। ওখান থেকে দিল্লীর বাদশাহ্ আওরঙ্গজেব আলমগীরের আমলে কাযীউল কুজাত বা প্রধান বিচারপতি হয়ে দিল্লীতে আসেন। দিল্লী থেকে নবাবী আমলে ইসলাম খাঁর অনুরোধে কাযীর দায়িত্ব গ্রহণ করে বিশেষত ইসলাম প্রচারে চট্টগ্রামে আসেন।

বাল্যকাল থেকেই আল্লামা হাশেমী প্রতিভাবান ছিলেন। ছয় বছর বয়সে কোরান মজীদ খতম করেন। উর্দু, ফার্সি, আরবী, বাংলার প্রাথমিক জ্ঞান পিতার কাছ থেকে অর্জন করেন। প্রাইমারী স্কুল পাশ করে পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালিন ওয়াজেদিয়া আলীয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। ১৯৪৫ সালে জামাতে পঞ্জুমের পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কৃতিত্বের স্বাক্ষর স্বরূপ সনদ ও মাদ্রাসার পক্ষ থেকে গোল্ড মেডেল লাভ করেন। ১৯৪৯ সালে জমাতে উলা পর্যন্ত শিক্ষা কৃতিত্বের সাথে সম্পন্ন করেন। তিনি তাঁর উস্তাদ আল্লামা মুছা মুজাদ্দেদী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর কাছ থেকে আরবী ভাষার বিভিন্ন বিষয়ে পা-িত্য লাভ করেন। জমাতে উলা পাশ কওে ওয়াজেদিয়া মাদ্রাসায় একবছর শিক্ষকতা করেন। এরপর মাদ্রাসা-ই আলীয়া ঢাকাতে ১৯৫১ সালে টাইটেল ক্লাশের হাদীস বিভাগে ভর্তি হন। ওই সময়ে তিনি সন্ধ্যাকালীন ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে উর্দুতে ডিপ্লোমা কোর্সও সম্পন্ন করেন। তিনি তখনকার সময়ের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা মুফতি সৈয়দ আমীমুল এহছান মুজাদ্দেদী বরকতী(ক.) সান্নিধ্যে থেকে ইলমে হাদীস, ফেকাহ, তাফসীর ইত্যাদি বিষয়ের উপর গবেষণা করেন।

১৯৫২ সালে হযরত মুফতী সাহেব (র.) তাঁকে “নাইলুল মুরাম বে-আসানিদে আশ্ শায়খ নূরুল ইসলাম” বিশেষ সনদ ও সম্মাননা প্রদান করেন। এছাড়া তিনি প্রখ্যাত আরবী সাহিত্যিক আল্লামা আবদুর রহমান কাশগরী (র.)-এর স্নেহ লাভেও ধন্য হন। ঢাকা হতে শিক্ষা সমাপনীর চট্টগ্রাম ওয়াজেদিয়া আলীয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতায় যোগ দেন এবং প্রধান মুহাদ্দিসের পদ শূন্য হলে তিনি ওই পদে নিযুক্ত হন। মাদ্রাসার অভ্যন্তরে তাঁকে টাইটেল সাহেব সম্বোধন করা হতো। এছাড়াও তিনি পটিয়া শাহ্চাঁন্দ আউলিয়া আলীয়া মাদ্রাসা, ষোলশহর জামেয় আহমদিয়া সুন্নীয়া আলীয়া মাদ্রাসা, হাটহাজারী অদুদিয়া সুন্নীয়া মাদ্রাসায় বেশ কিছুদিন যাবৎ হাদীসে নববী(দ.) পড়ান।

তিনি বেশকিছু গ্রন্থ রচনা করেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, (১) নসীহাতুত্ তালেবীন। (২) যাদুল মুসলেমীন। (৩) আকাঈদে বাতেলা। (৪) সত্যের আহবান। (৫) আদ্দুররুত-দলায়ল বে-কেরাহতিল জামাতে ফিন্ নাওয়াফেল। (৬) আল আরবাইন ফি মুহিম্মাতিদ্ দ্বীনে। (৭) মেরাজুল মু’মিনিন। (৮) মুসলমানদের সম্বল পরহেজগারদের দিশারী। (৯) ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) কেন? (১০) নূরে মোস্তফা। (১১) আল্লামা আহ্ছানুজ্জমান হাশেমী (রহঃ)-এর জীবনী গ্রন্থ। (১২) শাযরাতুয যাহাব। (১৩) দো‘আর ভা-ার। (১৪) তাযকেরাতুল কেরাম। (১৫) ওয়াযায়েফে হাশেমীয়া।

আল্লামা হাশেমী ১৯৮০ সালে জামাতে আহলে সুন্নাতের অঙ্গসংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা গঠনে গুরু দায়িত্ব পালন করেন। সুন্নী আকিদাভিত্তিক একমাত্র রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা‘আতের কেন্দ্রীয় পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান, আহলে সুন্নাত সম্মেলন সংস্থা-বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা, এদেশের আ‘লা হযরত চর্চা ও গবেষণার সংগঠন আ‘লা হযরত ফাউন্ডেশন-বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা, জাতীয় ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক।
আল্লামা হাশেমী নিজ বাড়িতে ১৯৬৪ সালে আহ্ছানুল উলুম জামেয়া গাউছিয়া আলীয়া মাদ্রাসা হেফজখানা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। মাদ্রাসার সাথে মসজিদে গাউছিয়া রেফাঈয়া-এরও ভিত্তি দেন। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে অগণিত মসজিদ ও মাদ্রাসা স্থাপন করেন। ১৯৮৭ সালে “আঞ্জুমানে মুহিব্বানে রাসূল (দ.) গাউছিয়া জিলানী কমিটি” নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনের ব্যবস্থাপনায় ১২ দিনব্যাপী ঐতিহাসিক ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্বে সুন্নীয়তের প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় ১৯৮৯ সালে প্রথম সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেন। ১৯৯২ সালে দ্বিতীয়বার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার সফর করেন। এরপরও আরও  বেশ কয়েকবার আমিরাত সফর করেন। ১৯৯৪ সালে আমেরিকার বিভিন্ন রাজ্য সফর করেন।

পূর্বকোণ/ ইফতেখারুল ইসলাম- এএ 

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 454 People

সম্পর্কিত পোস্ট