চট্টগ্রাম সোমবার, ২৫ মে, ২০২০

আল কুদসঃ মুসলমানদের জাগরণের দিন

২২ মে, ২০২০ | ৩:৫৪ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

আল কুদসঃ মুসলমানদের জাগরণের দিন

ইহুদিবাদীদের কবল থেকে জেরুজালেম আল-কুদসকে মুক্ত করার প্রত্যয় নিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের স্থপতি ইমাম খোমেনী ১৯৭৯ সাল থেকে প্রতি বছর রমজানের শেষ শুক্রবার পালন করা হয় বিশ্ব আল কুদস দিবস। সে হিসেবে আজ বিশ্ব কুদস দিবস।
কুদস অর্থ পবিত্র। ‘আল কুদস’ বলতে বোঝায় ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে পবিত্র ভূমিতে অবস্থিত পবিত্র মসজিদ, যা মসজিদুল আকসা বা ‘বায়তুল মুকাদ্দাস’ নামে পরিচিত। হজরত ইবরাহিম (আ.) কর্তৃক কাবাঘর নির্মাণের ৪০ বছর পর তাঁর ছেলে হজরত ইসহাক (আ.)-এর সন্তান হজরত ইয়াকুব (আ.) ফিলিস্তিনের জেরুজালেম নামক স্থানে ‘আল আকসা’ মসজিদটি নির্মাণ করেন। এরপর তাঁর ছেলে হজরত ইউসুফ (আ.)-এর বংশধর হজরত দাউদ (আ.)-এর সন্তান হজরত সুলায়মান (আ.) তা পুনর্নির্মাণ করেন। রমজান মাসের শেষ শুক্রবার জেরুজালেম নগর প্রতিষ্ঠা করেন।

মুসলমানদের কাছে জেরুজালেম শহরটি আল কুদস নামেও পরিচিত। যে তিনটি মসজিদের উদ্দেশে ইবাদতের নিয়তে সফরের অনুমতি আছে, তার একটি হল আল-আকসা মসজিদ।
১৯৪৮ সালের ১৫ মে ব্রিটিশ সরকারের সহযোগিতায় ফিলিস্তিনে অবৈধ ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সেখানকার মুসলমানদের ওপর বিপদ নামতে শুরু করে।

ইহুদিবাদীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং মুসলমানদের ওপর হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। তাদের অত্যাচারে জর্জরিত আরবরা জীবন বাঁচাতে দলে দলে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। তা সত্ত্বেও তখনও বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের দখলে ছিল। কিন্তু আরবদের দুর্বলতার মুখে ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধে তা মুসলমানদের হাতছাড়া হয়ে যায়।

ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনগণ দীর্ঘদিন ধরে তাদের আবাসভূমি ও আল-কুদস (বায়তুল মুকাদ্দাস) উদ্ধারের জন্য রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম চালিয়ে যেতে থাকে। এর পর থেকে মুসলিম জনগণ স্বাধীনতাযুদ্ধের সূচনা করে।
ইহুদিদের ঘৃণ্য পরিকল্পনা সচেতন মুসলমানদের সংগ্রামী প্রতিরোধ আন্দোলনের মুখে পরিপূর্ণভাবে সফল হতে পারেনি। সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনগণ ফিলিস্তিনি মুসলিমদের এ প্রতিরোধ আন্দোলন সমর্থন করে আসছে। ১৯৭৯ সাল থেকে আল-আকসা মসজিদ মুক্তির লক্ষ্যে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ প্রতি বছর আল-কুদস দিবস পালন করে আসছে।
ইহুদিবাদী ইসরাইল ৭০ বছর ধরে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড জবর দখল করে বর্বর নির্যাতনের ধারা অব্যাহত রেখেছে। ফিলিস্তিনিদের আশা আকাঙ্ক্ষাকে জাগ্রত রাখা এবং ইসরাইলের প্রতি বিশ্ব মুসলমানের ঘৃণা প্রকাশ হয় এই কুদস দিবস পালনের মধ্য দিয়ে। এটি এখন শুধুমাত্র ফিলিস্তিনিদের দিবস নয়, এটি এখন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের দিবসে পরিণত হয়েছে। তাই প্রতি বছর এই দিবস পালনে মানুষের মাঝে আগ্রহও বাড়ছে।

কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিধিবিধান পালন করার স্বার্থে এবার বিশ্ব কুদস দিবসের মিছিল হচ্ছে না। তবে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে ফিলিস্তিন সংকটের গুরুত্ব বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার জন্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ভাষণ দেবেন। 

দিবসটি উপলক্ষে আল-কুদস কমিটি বাংলাদেশ ও ইরান দূতাবাসের উদ্যাগে প্রতি বছর রাজধানীতে আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে থাকে। জুমার নামাজের পর মসজিদুল আকসা মুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।

পূর্বকোণ/ এএ

The Post Viewed By: 68 People

সম্পর্কিত পোস্ট