চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আঘাত হানতে পারে শেষরাতে

১৯ মে, ২০২০ | ৩:৪৭ পূর্বাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর

শক্তিশালী হয়ে ভয়ঙ্কর রূপ সুপার সাইক্লোন আম্ফান’র

আঘাত হানতে পারে শেষরাতে

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র ­বন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত

উপকূলীয় এলাকায় মাইকিং, ­প্রস্তুত জেলা প্রশাসন
শক্তিশালী হয়ে সুপার সাইক্লোনে রূপ নিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’। এটি উপকূলের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে। ঘূর্ণিঝড়টি আজ মঙ্গলবার গভীর রাত বা বুধবার সকালে চট্টগ্রাম ও খুলনার মধ্যবর্তী অঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে সাগর প্রবল বিক্ষুুব্ধ হয়ে উঠায় পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। তবে ঘূর্ণিঝড়ের পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি শুরু করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। ‘আম্ফান’ এর সম্ভাব্য আঘাত/ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবেলায় গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন অনলাইনে সভা করেছে।
ইতোমধ্যে উপকূলীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে মেডিকেল টিম। উপকূলীয় এলাকা থেকে মানুষ যাতে আগেই নিরাপদ স্থানে সরে যায়, সেজন্য মাইকিং করা হচ্ছে।
এদিকে গতকাল সোমবার আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফান উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে বর্তমানে পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। এটি সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্ধর থেকে ৯৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ/দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ/দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরো ঘনীভূত হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে। পরবর্তীতে দিক পরিবর্তন করে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে মঙ্গলবার শেষরাত থেকে বুধবার বিকেল বা সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২১০ কি.মি, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। এই অবস্থায় মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ০৭ (সাত) নম্বর বিপদ সংকেত এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ০৬ (ছয়) নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। যাতে স্বল্প সময়ের নোটিশে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে। সেই সাথে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।
এ সম্পর্কে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান কে কেন্দ্র করে গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সম্ভাব্য আঘাত/ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবিলায় গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রস্তুতিমূলক সভা করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে তারা প্রস্তুতিমূলক সভা সম্পন্ন করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৪৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও দুই হাজার ২৬৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১ হাজার ২৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এছাড়াও, সম্ভাব্য দুর্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রাণালয়/দুর্যোগ ব্যবস্থানপা অধিদপ্তর কর্তৃক বরাদ্দকৃত জি.আর ক্যাশ দুই লাখ ২০ হাজার টাকা ২৮.৩৩ মেট্রিক টন চাল ১৩৩ বান্ডিল ঢেউটিন, ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ৫০০টি তাবু প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
গতকাল বিকেলে ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের জারি হওয়ার পর চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে রেড এলার্ট-৩ জারি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে বন্দরের জেটি থেকে জাহাজ খালি করা শুরু হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, সব জাহাজের ইঞ্জিন সার্বক্ষণিক চালু রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্দরে আসা ছোট জাহাজগুলো কর্ণফুলী সেতুর উজানে আর বড় জাহাজগুলো কুতুবদিয়া-মাতারবাড়ি চ্যানেলে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সংখ্যক গাড়ি ও খাবার পানি মজুদ রেখেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দোহা জানান, নগরীর ১০টি উপকূলীয় ওয়ার্ডে ১০টি মেডিকেল টিম, সিটি কর্পোরেশনের ১০টি স্কুল আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও পরিস্থিতি বিবেচনা করে মঙ্গলবার সকাল থেকে উপকূল নিকটবর্তী লোকজনদের মাইকিং করে সতর্ক করা হবে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 351 People

সম্পর্কিত পোস্ট