চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মন্ত্রীর দেহরক্ষীর গুলিতে আহত যুবকেরও মৃত্যু

২৪ এপ্রিল, ২০২০ | ২:৪৮ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

মন্ত্রীর দেহরক্ষীর গুলিতে আহত যুবকেরও মৃত্যু

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের দেহরক্ষী এএসআই কিশোর কুমারের গুলিতে আহত মাঈনউদ্দিন মাহিন (৩৪)  মারা গেছেন।সাতদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর বৃহস্পতিবার রাত দুটায় সাভারে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। কালিয়াকৈর থানার পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এই হাসপাতালে গত ১৬ এপ্রিল রাত থেকে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। নিহত মাহিন কালিয়াকৈর থানার সীমান্তবর্তী এলাকা টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকার আজগানা গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল রাতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বডিগার্ড কিশোর কুমার সরকার তার মাদক ব্যবসায়ী দুই বন্ধুকে ডেকে এনে গুলি করেন। পরে ঘটনাস্থলেই মারা যান টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকার আজগানা গ্রামের সফুরের ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম ওরফে শহিদ (৩৫)। আর মাহিনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার পরদিন নিহত শহিদের স্ত্রী মোসা. মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় মামলা (নম্বর ৭) করেন। পরে প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১৭ এপ্রিল দুপুর সোয়া ১টার দিকে সাভারের আশুলিয়ার শিমুলিয়ায় বন্ধু তারাইরুলের বাসা থেকে মন্ত্রীর বডিগার্ড সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) কিশোর কুমারকে (৩৩) সরকারি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড তাজা গুলিসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি কালিয়াকৈর উপজেলার কুতুবদিয়া গ্রামের নারায়ন কুমার সরকারের ছেলে। কিশোর পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) নিরাপত্তা বিভাগে চাকরি করে মন্ত্রীর বডিগার্ড হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালিয়াকৈর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. মনিরুজ্জামান খান জানান, মাহিমের বুকের ডান পাশে ও পেটের উপরে দুটি গুলি লেগেছিল। গুলি দুটি তার শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। এক সপ্তাহ লাইফ সাপোর্টে থেকে আজ ভোরে তার মৃত্যু হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের পর দাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, মাহিন মৃত্যুর আগে জবানবন্দীতে বলেছে কিশোর নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দুজনকে গুলি করেছে। নিহত দুজন ও ঘাতক পরস্পর বন্ধু ছিলেন। তিনজন একসঙ্গে বসে প্রায়ই নেশা করত। কিশোর সন্দেহ করতো তার স্ত্রীর সঙ্গে মাহিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। তবে কিশোরের স্ত্রী মাহিন নামে কাউকে চেনে না বলে দাবি করেছে।

এদিকে, তদন্তে পুলিশ সদস্য কিশোরকে দোষী প্রমাণ করতে সব ধরনের আলামত ও প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালিয়াকৈর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. মনিরুজ্জামান খান।

 

 

পূর্বকোণ/এম

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 321 People

সম্পর্কিত পোস্ট