চট্টগ্রাম বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি মোসলেহউদ্দীনকে হস্তান্তর

২২ এপ্রিল, ২০২০ | ৬:৩৮ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি

বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি মোসলেহউদ্দীনকে হস্তান্তর

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আরেক খুনি রিসালদার মোসলেউদ্দিনকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এমনটি দাবি করেছে ভারতের এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকা।

মঙ্গলবার ভারতের দুইটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সীমান্তের কোনো একটি স্থলবন্দর দিয়ে আগের দিন তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এনডিটিভি চ্যানেলের এক খবরে বলা হয়, রিসালদার মোসলেউদ্দিনকে সোমবার সন্ধ্যায় একটি স্থলসীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিয়েছে ভারতের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা। এই ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কিছুই জানতে পারেনি বলে ওই খবরে বলা হয়।

এতে বলা হয়, এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া বঙ্গবন্ধুর খুনি আবদুল মাজেদই রিসালদার মোসলেউদ্দিনের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানান। তবে মোসলেউদ্দিনের ছবি এবং ভিডিও প্রকাশিত হলে তাতে কিছু বিভ্রান্তি দেখা দেয়। বিভিন্ন সূত্র দাবি করে যে, কয়েক বছর আগে মারা গেছেন মোসলেউদ্দিন।

এদিকে ভারতের ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দু এক খবরে জানায়, সম্ভবত মোসলেউদ্দিনকে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ পক্ষ থেকে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার বিষয়ে অপেক্ষায় আছে।

এর আগে সোমবার পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, ভারতের গোয়েন্দাদের সহযোগিতায় মোসলেউদ্দিনকে উত্তর চব্বিশ পরগনায় একটি গ্রাম থেকে আটক করা হয়।

গোয়েন্দা সূত্রে পত্রিকাটি আরও জানায়, উত্তর ২৪ পরগনার একটি আধাশহরে ইউনানি চিকিৎসক সেজে ভাড়া থাকছিল মোসলেউদ্দিন। সে-ও ফেরার হওয়া ফাঁসির আসামি। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট মুজিবের বাড়িতে হানা দেওয়া দলটির সামনের সারিতে ছিল মোসলেউদ্দিন। অনেকের দাবি, মোসলেউদ্দিনই গুলি করে হত্যা করেছিল মুজিবকে।

এর আগে বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি আবদুল মাজেদকে ৭ এপ্রিল গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালতে দেওয়া পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁকে রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ভারতীয় গণমাধ্যমে বলা হয়, সে দেশের গোয়েন্দারাই মাজেদকে আটক করে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয়। এরপর ১২ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। মাজেদ ২২–২৩ বছর ধরে ভারতে অবস্থান করছিলেন। তিনি সে দেশের পাসপোর্টও নিয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যে ছয় আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন, তাদের মধ্যে মোসলেউদ্দিন একজন।

ওই ছয়জনের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত ১১ এপ্রিল মধ্যরাতে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার খুনি পলাতক রয়েছেন।  তারা হলেন খন্দকার আবদুর রশীদ, শরিফুল হক ডালিম, নূর চৌধুরী ও এ এম রাশেদ চৌধুরী। তারা সবাই সাবেক সেনা কর্মকর্তা।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 1364 People

সম্পর্কিত পোস্ট