চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২০

সর্বশেষ:

সীমিত আকারে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখতে ৫ নির্দেশনা

১৭ এপ্রিল, ২০২০ | ৬:৫০ অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ আলী

প্রণোদনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার জারি

করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ৯৭ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ এর সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকসমূহে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো এখন প্রণোদনা প্রদানের কাজ শুরু করবে।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ইতিপূর্বে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন/ভাতা পরিশোধ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ৫ হাজার কোটি টাকার একটি আপদকালীন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন। বর্তমানে সেটিসহ মোট আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের পরিমাণ হয়েছে ৯৭ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা।
সরকার ঘোষিত প্রণোদনাগুলো হচ্ছে, রপ্তানিমুখী শিল্পখাতে ৫ হাজার কোটি টাকা, বড় শিল্পখাতে ৩০ হাজার কোটি, মাঝারি, ক্ষুদ্র (কুটির শিল্পসহ) ২০ হাজার কোটি, কৃষিখাতে ৫ হাজার কোটি, এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) ১২ হাজার ৭৫০ কোটি, প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্স স্কিম ৫ হাজার কোটি এবং চিকিৎসা, কর্মহীন, সারে ভর্তুকি ও বিবিধ বাবদ ২০ হাজার কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট ঋণ গ্রহিতাগণ ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করে সার্কুলার অনুযায়ী ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠান সমূহের জন্য স্বল্পসুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল প্রদানের লক্ষ্যে ৩০ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণ সুবিধা প্রণয়ন করে সরকার। মূলত এ খাতে সরকারের বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো প্রণোদনার আওতায় আসবে। বাণিজ্যিক ব্যাংক সমূহ সংশ্লিষ্ট শিল্প/ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে তাদের নিজস্ব তহবিল হতে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ এই ঋণ দেবে। এ ঋণ সুবিধার সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। প্রদত্ত ঋণের সুদের অর্ধেক অর্থাৎ ৪.৫০ শতাংশ ঋণ গ্রহিতা শিল্প/ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিশোধ করবে এবং অবশিষ্ট ৪.৫০ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে প্রদান করবে। একই সুদের হার সুবিধায় ক্ষুদ্র (কুটির শিল্পসহ) ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল প্রদানের লক্ষ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণ সুবিধা প্রণয়ন করা হয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে তাদের নিজস্ব তহবিল হতে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ ঋণ প্রদান করবে। এ ক্ষেত্রে যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের সর্বনি¤œ ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ কোটি টাকার মূলধন রয়েছে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানই এ খাতে প্রণোদনা সুবিধা পাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তিত ইডিএফ (এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড)- এর সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে ইডিএফ-এর বর্তমান আকার ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে। ফলে ১.৫ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অতিরিক্ত ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা ইডিএফ তহবিলে যুক্ত হবে। ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট ফাইনেন্সিং স্কিম নামে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন ঋণ সুবিধা চালু করছে। এ ঋণ সুবিধার সুদের হার ৭ শতাংশ। রপ্তানিমুখী গার্মেন্টসখাতে শুধুমাত্র ২ শতাংশ সার্ভিস চার্জ নেওয়া হবে। দুই বছরে মধ্যে এ ঋণ পরিশোধ করা যাবে। কৃষিখাতে ৫ শতাংশ সুদের মধ্যে কৃষক ১ শতাংশ এবং সরকার অবশিষ্ট ৪ শতাংশ সুদ পরিশোধ করবে। বাজেট খাত থেকে এ ঋণ দেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) নিজাম উদ্দীন আহম্মদ চৌধুরী দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনার মধ্যে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আমাদের কাছে বেশিরভাগ প্রণোদনার সার্কুলার এসে গেছে। রপ্তানিখাতে যারা উৎপাদিত পণ্যের ৮০ শতাংশ রপ্তানি করে এবং বিগত জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেছে, মূলত তারাই রপ্তানিখাতে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আসবে।
অপরদিকে কৃষি খাতের উদ্যোক্তারা যারা করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাঁরা সুবিধা নিতে পারবেন। এই প্যাকেজের সুফল হিসেবে খাদ্য নিরাপত্তা বাড়বে, একই সঙ্গে করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা লাভবান হবেন। তাঁরা আবার উৎপাদনে ফিরে আসতে পারবেন।
নিজাম উদ্দীন আহম্মদ চৌধুরী বলেন, প্রণোদনা প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে মোট ৫০ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করতে হবে। সংকট কাটিয়ে উঠতে ব্যাংকগুলো নিজেদের সম্পদ থেকে শিল্প ও সেবা খাতে ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করবে। ৯ শতাংশ সুদে বিতরণকৃত অর্থের ৪ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দেবে উপকারভোগী, বাকি অংশ দেবে সরকার।
ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার আরেকটি ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে। এই ঋণের সুদ হারও ৯ শতাংশ। তবে ৪ শতাংশ দেবে উদ্যোক্তারা বাকি ৫ শতাংশ দেবে সরকার’।
এদিকে করোনায় কর্মহীন ২ কোটি শ্রমজীবী মানুষকে নগদ প্রণোদনা দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিপিডি। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘সরকার ঘোষিত প্রণোদনায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সুনিদির্ষ্ট কোন বরাদ্দ নেই। তাই বড় ধরনের দুর্যোগের আগে দ্রুত এই প্রণোদনা দেওয়া হোক’।
তিনি বলেন, ‘দেশে যাদের ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা মাসিক বেতন তাদের জন্য প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা করে প্রণোদনা দেওয়া হোক। এতে দুই মাসে ২ কোটি শ্রমজীবী মানুষের জন্য সরকারের ব্যয় হবে ২৭ হাজার থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা’।

The Post Viewed By: 707 People

সম্পর্কিত পোস্ট