চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

কোন ওষুধ বিজ্ঞানসম্মত পরীক্ষার এখনো শেষ ধাপ অতিক্রম করেনি

১৬ এপ্রিল, ২০২০ | ৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ

ডা. আফতাব উজ্জামান

করোনাভাইরাস

কোন ওষুধ বিজ্ঞানসম্মত পরীক্ষার এখনো শেষ ধাপ অতিক্রম করেনি

করোনাভাইরাস মহামারীতে বিশ্ব আজ বিপর্যস্ত। অনিশ্চয়তা এবং আতঙ্কে কাটছে দিন। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন, চিকিৎসার জন্য কার্যকর ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে কি? যদি না হয়ে থাকে তবে আর কতো সময় প্রয়োজন?
প্রথমে বলে নেয়া দরকার যে একটা ওষুধ বাজারে আসার আগে বেশ কিছু পরীক্ষার ধাপ অতিক্রম করতে হয়। প্রথমে ল্যাবরেটরিতে ওষুধের কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। এরপর সাধারণত প্রাণী দেহে পরীক্ষা চালানো হয়। তারপর অল্প কিছু রোগী বা স্বেচ্ছাসেবকের উপর পরীক্ষা চালানো হয়। এই ধাপে ওষুধের কার্যকারিতা যেমন দেখা হয়, তেমনি দেখা হয় ওষুধটি মানুষের শরীরে কতোটা নিরাপদ। কার্যকর এবং নিরাপদ প্রমাণিত হলে অনেক মানুষের উপর বড় আকারের পরীক্ষা চালানো হয়, এসব পরীক্ষায় কঠোর নিয়ম মানতে হয়। এই শেষ ধাপটি অতিক্রমের আগে নিশ্চিত করে বলা যায় না ওষুধটি কার্যকর এবং নিরাপদ কিনা। এতোগুলো ধাপ অতিক্রম করতে সাধারণত অনেক মাস, এমনকি বছরের বেশি সময় প্রয়োজন হয়। করোনাভাইরাসের কোন ওষুধ এখনো এই শেষ ধাপ অতিক্রম করতে পারেনি, কিছু ওষুধ শেষ ধাপে রয়েছে, কিছু ওষুধ রয়েছে আগের ধাপে। অতএব নিশ্চিত ফলাফল জানতে আরো কয়েক মাস সময় প্রয়োজন হবে।
আজকাল সামাজিক এবং সংবাদ মাধ্যমে বিভিন্ন ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে কথা শোনা যায়। এই ওষুধগুলো অন্যান্য অসুখের চিকিৎসার জন্য বাজারে প্রচলিত ছিল। বিশ্বের বিভিন্ন হাসপাতালে ডাক্তাররা কিছু রোগীকে এসব ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করেছেন এবং ভালো ফল পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। বাজারে প্রচলিত বিধায় এসব ওষুধকে প্রাথমিক কিছু ধাপ অতিক্রম করতে হয়নি। বাংলাদেশে তিনটি ওষুধের কথা প্রায়ই শোনা যায়। এর মধ্যে ক্লরকুইন এবং হাইড্রক্সিক্লরকুইন ম্যালেরিয়া সহ অন্য কিছু অসুখের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এজিথ্রমাইসিন এন্টিবায়োটিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই ওষুধগুলো নিয়ে বড় আকারের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আরেকটা ওষুধের খবর বাংলাদেশি সংবাদ মাধ্যমে এসেছে, জাপানি ওষুধ এভিগান। এটা জাপানে প্রচলিত অন্য অসুখের চিকিৎসার জন্য। এটা নিয়েও বড় আকারের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এছাড়া আমেরিকায় রেমডেসিভির নামের একটা ওষুধ, যা ইবোলা ভাইরাসের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, একটা ছোট পরীক্ষায় ভালো সফলতা দেখিয়েছে। এটা সহ আরো কিছু ওষুধ পরীক্ষার শেষ ধাপে বা তার আগের ধাপে রয়েছে। এখানে একটা কথা বলা প্রয়োজন যে, মহামারীর ভয়াবহতা এবং সময়ের স্বল্পতার কারণে অনেক দেশেই ডাক্তাররা এসব ওষুধ ব্যবহার করছে বড় পরীক্ষায় কার্যকারিতা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিশ্চিত হবার আগেই।
ওষুধ ছাড়াও আরেকটা চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা চলছে। মানুষের শরীর ভাইরাস মোকাবিলার জন্য শরীরে এন্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম। আক্রান্ত হবার কয়েক সপ্তাহ পরে যথেষ্ট এন্টিবডি শরীরে তৈরি হয়। আক্রান্ত হয়ে যারা সুস্থ হয়েছেন তাদের শরীর থেকে এন্টিবডি নিয়ে চিকিৎসার চেষ্টা করা হচ্ছে। ল্যাবরেটরিতে এবং ঘোড়ার শরীরে এই এন্টিবডি তৈরির চেষ্টা চলছে বা তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে।
ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে একটা বড় হাতিয়ার হল ভ্যাকসিন। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা করছে বেশ কয়েকটা দেশ। ওষুধের মতো ভ্যাকসিনকেও পরীক্ষার কয়েকটা ধাপ অতিক্রম করতে হয়। প্রচলিত পন্থায় ভ্যাকসিন তৈরিতে বছরের বেশি সময় প্রয়োজন হয় এবং অনেকের ধারণা আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ের আগে ভ্যাকসিন তৈরি এবং বাজারজাত করা সম্ভব হবে না। তবে কয়েকটা প্রতিষ্ঠান নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করে এই সময় কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে যাতে করে এ বছরের শেষ নাগাদ তা বাজারজাত করা যায়।
পরিশেষে বলা যায়, করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় এখনো কোন ওষুধ বড় এবং বিজ্ঞানসম্মত পরীক্ষার শেষ ধাপ অতিক্রম করেনি। অতএব কোন ওষুধ সফল কি ব্যর্থ তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হতে পারে আরো কয়েক মাস পরে। তা সত্ত্বেও ডাক্তাররা বিভিন্ন ওষুধ এবং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। কিছু ওষুধ নিয়ে প্রাথমিকভাবে আশাবাদী হওয়ার কারণ রয়েছে। বিজ্ঞানীরা নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
লেখক পরিচিতি : অবসরপ্রাপ্ত, মেডিসিন ও ইমার্জেন্সি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ,
নিউজিল্যান্ড

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 318 People

সম্পর্কিত পোস্ট