চট্টগ্রাম বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

ভ্যাকসিনে বিলিয়ন ডলার খরচে আপত্তি নেই

১৬ এপ্রিল, ২০২০ | ৪:২৬ পূর্বাহ্ণ

ভ্যাকসিনে বিলিয়ন ডলার খরচে আপত্তি নেই

করোনা ভাইরাস নিয়ে ‘বিশ্ব-প্রস্তুতি’ বিষয়ে ২ এপ্রিল স্কাইপে-তে নেয়া বিল গেটস’র সাক্ষাৎকার এটি। নিয়েছেন ফিনান্সিয়াল টাইমস- এর ভেনেসা কর্তেকাস। আর ফিনান্সিয়াল টাইমস-এ এটি ছাপা হয়েছে ৯ এপ্রিল। সাক্ষাতকারটি অনুবাদ করে পূর্বকোণ পাঠকদের জন্য ছাপা হলো।

  • সমস্যাটি যে এত বড় হয়ে যাবে তা বেশিরভাগ দেশ বুঝতেই পারেনি
  • যতক্ষণ না একটা কার্যকর ‘টীকা’ পাচ্ছি, আমরা ঝুঁকিতে রয়ে যাচ্ছি
  • বৈশ্বিক বাণিজ্য দারুণ একটা ধাক্কা খেতে চলেছে নিঃসন্দেহে

ফিনান্সিয়াল টাইমস : বছর পাঁচেক আগেই আপনি সাবধান করেছিলেন যে, বৈশ্বিক বিপর্যয় যুদ্ধ নয় বরং একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাস। কিন্তু কেউই তেমন গা করল না। যারাও একটু আমলে নিয়েছিল তাদের প্রস্তুতিটাও তেমন আহামরি কিছু নয়। কেন?
বিল গেটস : যথেষ্ট কিছুই হয়নি। একটা নিয়ম পর্যন্ত তৈরি করা হয়নি। আমরা আসলেই এটার চেষ্টা ও সমাধানের জন্য কোন পরিসংখ্যানমূলক পরীক্ষা করিনি, তাহলে কিভাবে আমরা চিকিৎসার সাথে সংযোগ করব? কিভাবে আমরা চলমান টিকাগুলোর সাথে যাবো? এক্ষেত্রে কিছু বিনিয়োগও ছিল- যেমন আমাদের ফাউন্ডেশন, ওয়েল্কম ট্রাষ্ট এবং কিছু সংখ্যক সরকারের তৈরি সংগঠন ‘সেপি’ বা (ঈবঢ়র, ঃযব ঈড়ধষরঃরড়হ ভড়ৎ ঊঢ়রফবসরপ চৎবঢ়ধৎবফহবংং ওহহড়াধঃরড়হ), তো কিছু কাজ হয়েছিল এটুকুই। কিন্তু অতীতের দিকে তাকালে অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় হ্যাঁ এটাই সত্য। কিন্তু মূল কথা হল- গবেষণা ও পরিকল্পনা এবং পরিসংখ্যানমূলক পরীক্ষাই তখন দরকার ছিল বেশি- অথচ শুরুর দিকেই তা বন্ধ করে দেয়া হল।
এফটি : এবং বর্তমান বিশ্বের সাড়া অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশই আজ নিন্দিত হচ্ছে যথেষ্ট পরীক্ষা না করার কারণে এবং দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে। বিশ্বের সাড়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংকটকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাড়া নিয়ে আপনার কি ধারণা?
বিল : আমি নিশ্চিত এখনো যথেষ্ট সময় আছে। তবে কথা হল- কোনও দেশের কাছেই সঠিক তথ্য নেই। হয়তো ব্যতিক্রম তাইওয়ান। কেননা তারা আসলেই এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিল এবং এটা দুঃখজনক যে তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অংশ না হওয়াতে এই সতর্কতায় দৃষ্টি দেওয়া হয়নি। এই সমস্যাটি যে এত বড় হয়ে যাবে তা বেশিরভাগ দেশ বুঝতেই পারেনি। তবে কিছু দেশ যাদের এই ধরনের বিপর্যয়ের সাথে মোকাবেলা করার অভিজ্ঞতা আছে, তারা দ্রুত সাড়া দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া এর একটি উদাহরণ। চীন, যাদের এই ধরনের অনেক ঘটনা ছিল, এখন অত্যন্ত ভিন্ন ধরনের অবস্থায় আছে যেখানে মানুষ স্কুলে ও কাজে ফিরতে পারছে না। এবং এখানে শিক্ষা হচ্ছে এই সংখ্যাটি কমাতে তারা কি করেছে? মূল কথা হচ্ছে, বিশ্বের বেশিরভাগ জনসংখ্যার জন্য যতক্ষণ না আমরা একটা কার্যকর ‘টীকা’ পাচ্ছি, আমরা ঝুঁকিতে রয়ে যাচ্ছি।
এফটি : এবং বর্তমানে যা হচ্ছে তার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিষয় কি বলে আপনি মনে করেন? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে টেস্ট, টেস্ট, টেস্ট। এখানে টেস্ট কি মূল? অথবা প্রযুক্তির ভূমিকা কি? আমরা দেখছি এশিয়ার কিছু দেশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে যা ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করতে সাহায্য করছে। অর্থাৎ বর্তমানে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয়টি কি বলে আপনি মনে করেন?
বিল : টেস্ট আপনাকে নির্দেশনা দিবে দেখার জন্য, আপনার কি আরও আইসলেশন প্রয়োজন কিনা, তবে শুধু টেস্ট- এর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে আপনাকে ফলাফল পেতে হবে এবং অগ্রাধিকার অনুসারে সাজাতে হবে কার আগে টেস্ট দরকার। প্রত্যেক দেশেই টেস্টের ‘চাহিদা’ ‘জোগান’র চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার মত কিছু দেশ ব্যবস্থা নিলো এবং কাদের টেস্টের প্রয়োজন তা নিশ্চিত

করলো। তারা এমন ভাবে পদ্ধতিগুলকে সমন্বয় করেছে যেন প্রত্যেকটি বিষয়কে আলোকপাত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র তা করেনি। আমাদের অনেক কোম্পানি, ল্যাব আছে। এবং বেশিরভাগ টেস্টের কোন মানদ- নেই। তাই সংখ্যাটা বেশি হওয়া মানে এই না যে আমরা ভাল করছি। আমাদের এখনও অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে গোছানো হতে হবে। আপনার আশেপাশের মানুষের যদি সংক্রমনের আগে টেস্টে ধরা পড়ে তাহলে তাদের আইসলেসনে পাঠাতে হবে। পিসিআর টেস্টটি এত বেশি সংবেদনশীল যে তাতে কোন লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই ধরা পড়বে। আর এটাই উত্তম, যেখানে আপনি কাউকে সংক্রমিত করছেন না, যা সংখ্যাটিকে কমাবে। তাই আজকে যথাযথ টেস্ট আর আইসোলেশন হচ্ছে প্রাথমিক কার্যপদ্ধতি। এর মধ্যে কিছু ঔষধ সেবনে হাসপাতাল ভর্তি ও মৃত্যুর হারটিকে কমান যাবে, যা এখন খুবই দরকার। এবং চূড়ান্ত সমাধান হচ্ছে নিরাপদ টীকা যা অধিক কার্যকরি। অধিক ঔষধ সেবনও কিন্তু কষ্টকর।
এফটি : আপনি কি কিছু বিনিয়োগ বাড়াবেন? যেভাবে আপনি বলেছেন আপনার ফাউন্ডেশন বিশ্বকে সাড়া দিতে ১০০ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করেছে। আপনি কি ধারণা দিবেন এইগুলো কোথায় যাবে?
বিল : ভ্যাকসিনের জন্য বিলিয়ন ডলার খরচে আপত্তি নেই আমার। কতো দ্রুততম সময়ে প্রাণঘাতি এ রোগের ভ্যাকসিন বানানো যায়, সে প্রচেষ্টাই চালাচ্ছে আমাদের প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশন। আর এজন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ হলেও কোনো আপত্তি নেই। তবু আমি চাই, দ্রুত সময়ে ভ্যাকসিন আবিস্কার হয়ে এ মহামারি থেকে বিশ্ব রক্ষা পাক।
এদিকে সারাবিশ্বের বিখ্যাত বিজ্ঞানীরা ভ্যাকসিন তৈরিতে কোমর বেঁধে নেমেছেন। বেশ কয়েকজন আশার আলোও দেখাচ্ছেন। তবে কেউ এক থেকে দেড় বছর আগে এই ভ্যাকসিন বানাতে পারবে না, সে বিষয়ে মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেছেন। কিন্তু আমার হাতে সময় নেই। তিনি চাই দ্রুততম সময়ে এটি হোক। আর এজন্য ভ্যাকসিন তৈরির ল্যাব এবং ফ্যাক্টরিও বানানো হচ্ছে। আর সেখানে বিশ্বখ্যাত সাত বিজ্ঞানী কাজ করবেন। আমি চাইলে দুইজন বিজ্ঞানী বাছাই করতে পারতাম। কিন্তু আমি তা করিনি। আমি এর জন্য কোনো সময় নষ্ট করতে চাই না। তাই সাতজনকে একসঙ্গে কাজে লাগাচ্ছি। এজন্য যতো বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হবে, আমি প্রস্তুত।
এফটি : এখন আমরা আসি উন্নয়নশীল দেশগুলোর দিকে। আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়েছে এটি। দক্ষিণ এশিয়ায়ও ছড়াতে শুরু করেছে। দেশগুলোর যে অবকাঠামো, আপনার কী মনে হয় তারা এর সাথে ‘সঠিক’ যুদ্ধটি চালিযে যেতে পারবে? বিশেষ করে আক্রান্ত ও মৃত্যুও হার কী দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে?
বিল : এক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত একটা আশার কথা হলো- হয়তো ‘আবহাওয়া’ তাদের অনুকূলে রয়েছে এবং এজন্যেই এখনো সেভাবে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েনি। আবহাওয়ার কারণেই এমনটি হচ্ছে সে ধারণাটাও ভুল হতে পারে, তবে অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকায় এর সংক্রমণের গতির ‘ধীরতা’ দেখে এমন ধারণাই মনে আসে বৈকি! আরেকটা বিষয় লক্ষনীয়- আফ্রিকায় তরুণ সম্প্রদায়ের আধিক্য রয়েছে। এটাও হয়তো ঐ ধীরতার একটা কারণ। তবে ওখানে ঘরেবাইরে ধূমপান, এইচআইভি, পুষ্টিহীনতা, টিবি- ইত্যাদির আধিক্য রয়েছে। শেষমেষ হয়তো এসবের কারণেই সেখানে ক্যাজুয়ালটি বেড়ে যেতে পারে। এখানে ‘আইসোলেশন’, ‘লকডাউন’- ইত্যাদি মেইটেইন করা সত্যিই মুশকিল হবে।
এফটি : আপনি ‘আইসোলেশন’ বা ‘লকডাউন’র অসুবিধার কথা বলেছেন। যদি উন্নয়নশীল দেশগুলোর কথাই ধরি- সেখানকার লোকজন সেসব তেমন মানতে চাইছে না। বিশেষত: খেটেখাওয়া মানুষেরা-যারা দিনে আনে দিনে খায়, তাদের কাজের খোঁজে বেরোতেই হচ্ছে অর্থাৎ একটা ‘ভিড়’ সবসময়ই তাদের জন্যে লেগে আছে। জীবন-জীবিকার জন্যেই তারা এমনটা করছে। তাহলে কীভাবে মেইনটেইন হবে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা? কীভাবে সেখানে সংক্রমণের থেকে সুরক্ষা মিলবে?
বিল : ‘অত্যাবশ্যকীয়’ একটা প্রশ্ন। নিঃসন্দেহে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যে এটি একটি মহাঝামেলার ব্যাপার। তবে সরকারগুলো যার যার সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে- সেটা আমাদের বেশ কাড়ছে। যেমন, ভারত- তারা ইতিমধ্যেই দেশটাকে তিনটি জোনে ভাগ করে নিয়েছে- আক্রান্তহীন বা কম আক্রান্ত, আক্রান্ত এবং বেশি আক্রান্ত প্রবণ-এই তিন ভাগে ভাগ করে নিয়ে তাদের প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হবে সেখানকার ‘বস্তি’ এলাকা বা ঘনবসতিগুলো। এর বাইরে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ নিয়মগুলো হয়তো তারা মেনে চলবে, ফলে সংক্রমণও থাকবে নিয়ন্ত্রণে। তবে ঘনবসতিগুলোয় সংক্রমণ ঠেকানো না গেলে বিপদ আছে।
এফটি : আপনি নিজেকে একজন ‘আশাবাদী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। এখন বলুন- উন্নয়নশীল দেশগুলোর এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আপনি কোথায় সেই ‘আশা’টি দেখতে পাচ্ছেন?
বিল : বিশেষত: গ্রামীণ এলাকাগুলোয় লোকজনকে যদি বোঝানো যায় যে, মেলামেশা কম করে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এ ভাইরাস-সংক্রমণকে রুখে দেয়া যায়, তবে তা ফলদায়ক হবে। তবে ভাইরাসটির বৈশি^ক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার প্রাক্কালেই শহরের অনেকেই গ্রামে গিয়ে উঠেছেন, ফলে ব্যাপারটা কঠিন হয়ে দাঁড়ালো। তবে হ্যাঁ, এর সবচেয়ে কার্যকর উপায়টির পেছনেই ছুটছি আমরা- বিশ^ব্যাপী সহজলভ্য একটা ‘টীকা’। আসছে ক’বছরেই এটা আমাদের হাতে চলে আসবে। হয়তো বড়জোর ‘দেড়টি’ বছর আমাদের এজন্যে অপেক্ষা করতে হবে। এই সময়ে জনগণকে তাদের নিজেদের সুরক্ষা যেমন দিতে হবে, তেমনি স্ব স্ব সরকারগুলোকেও সহায়তা দিয়ে যেতে হবে। আজকে এই ক্ষতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সবাই যার যার দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে।
এফটি : ধনী দেশগুলো নিজেরাই লড়ছে স্ব স্ব দেশের জনগণকে নিয়ে। দায়বদ্ধতার দিক থেকে তাদের দরিদ্র দেশগুলোকে সহায়তার ব্যাপারটির তাহলে কী হবে?
বিল : এটা একটা চিরকালীন প্রশ্ন। সাধারণত: ধনী দেশগুলো তাদের জিডিপি’র ৭ শতাংশ দরিদ্র দেশগুলোর জন্য ব্যয় করে থাকে। তাদের অর্থেই বিশ^ ’হাম’মুক্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য, সুইডেন, নরওয়ে, জার্মনির দারুণ সুনাম রয়েছে। এ অর্থে মহামারি ইত্যাদির বিরুদ্ধে যেমন ফাইট করা হয় তেমনি দুর্বল কোনও দেশের অর্থনীতিও চাঙ্গা হয়। তবে ঐ ৭ শতাংশের অধিক কোনও দেশ যদি এখাতে খরচ করে তবে তা আমার মতে হবে একটা ভালো বিনিয়োগ। কেননা এটা হয়তো ঐ দেশটিকেও ভবিষ্যত মহামারি থেকে রক্ষায কাজ দেবে।
এফটি : আপনার কী মনে হয় একটি কার্যকর ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে এবারই সবচেয়ে বড় আয়োজন চলছে? ১৮ মাসের আগে এটি আসার সম্ভাবনা কতটুকু?
বিল : দ্য মডার্না ইতিমধ্যেই মানুষের ওপর তাদের ভ্যাকসিনের পরীক্ষা শুরু করেছে। এতেও বেশ কিছু সময় যাবে। তবে আমাদের মাথায় রাখতে হবে- আমরা একাধিক ‘বিলিয়ন’ ডোজের কাজ হাতে নিয়েছি। অনেকগুলো ধাপ আমাদের অতিক্রম করে তবেই কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। তবে সবকিছুর উপরে আমরা মাথায় রাখছি- নিরাপত্তা আর কার্যকারিতার ব্যাপারগুলো। কাজেই অতটুকুন সময় বোধহয় লাগছেই।
এফটি : এক্ষেত্রে জাতীয় সরকারগুলো, বুদ্ধিজীবীমহল কিংবা ব্যক্তিগত খাতগুলোর ভূমিকা কী থাকছে? প্রযুক্তি খাতেরই বা কী ভূমিকা এখানে?
বিল : সরকারগুলোর বেশিরভাগই এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়ে গেছে।
দু’ একটি ব্যক্তিগত খাত কিছুটা এগিয়ে গেলেও, তাদের ক্ষেত্রে ‘নিরাপত্তা’ এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। তবে আমাদের ফাউন্ডেশন ‘নিরাপত্তা’ আর ‘কার্যকারিতা’ রক্ষার পাশাপাশি চেষ্টা করছে অপেক্ষাকৃত কম খরচে ঐ ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের। অতীতে আমাদের ফাউন্ডেশন এভাবেই অনেক দরিদ্রের প্রাণ বাঁচিয়েছে। ব্যক্তিগত খাতকে অবশ্যি অস্বীকার করার জো নেই, তবে মূল উদ্যোগটা থাকতে হবে সরকারের। আমাদের সাথে আছেন ড. অ্যান্থনি ফাউসি, বেশ ক’জন অভিনেতা- সর্বোপরি সরকারি সহায়তা। এভাবে বড় একটা টিম থাকলে বোধহয় ব্যাপারটা সহজ হয়। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সরাসরি ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের কাজ হয়তো করছে না, তবে এ সংক্রান্ত তথ্যাদি সরবরাহ করে, আর্টিক্যাল ইত্যাদির মাধ্যমে জনগণের সাথে আমাদের যোগাযোগটা তারাই রক্ষা করে চলেছে।
এফটি : ব্যবসা-বানিজ্য এখন কার্যতঃ বন্ধ। জনগণের মৃত্যু রোধ বা কমিয়ে অর্থনৈতিক ব্যাপারটা এখন কীভাবে সামলানো যাবে? আপনার কী মনে হয় বিশ^-বানিজ্য বছর বা তারও বেশি সময়ের জন্যে স্থবির হতে চলেছে?
বিল : একদম থেমে যাবে না ঠিকই তবে বৈশি^ক বানিজ্য দারুণ একটা ধাক্কা খেতে চলেছে নিঃসন্দেহে। হয়তো ১৮৭৩-এর মন্দাকেও এটা অতিক্রম করে যাবে। আমার জীবদ্দশাায় এতোবড় ধাক্কা বিশ^ অর্থনীতি খাবে আমি ভাবিনি। কিন্তু কারোরই কিচ্ছুটি করার নেই। আগামী ৫-৬ মাসের মধ্যে এ ধাক্কা (ভাইরাস সংক্রমণ) সামলানো গেলে ধনী দেশগুলো হয়তো সামলে উঠবে, তবে বিশ^ সার্বিকভাবে একটা জোর ধাক্কা অবশ্যি খেতে চলেছে। কার্যকর একটি ভ্যাকসিনের বিশ^ব্যাপী প্রয়োগ অচিরেই করা না গেলে আসলেই বিশ^ অর্থনীতির কী হবে তা এখনি সঠিক বলা যাবে না।
এফটি : ধরুন এ মহামারির অবসান ঘটেছে। সুদূর ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আপনার কী মনে হয়- লোকজন একধরনের ‘শর্ট-টার্মিজমে’ (স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ) ভুগবে? লোকজন কী ‘শতকের এক মহামারির’ কাছে আত্মসমর্পণ করে বসবে? বিশ^ নেতৃত্ব তথা বৈশি^ক নীতি নির্ধারকদের জন্য আপনার ম্যাসেজটি কী হবে?
বিল : নিঃসন্দেহে এ বিশে^র দারুণ একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে, অনেককিছুই হারাতে হয়েছে, অনেক প্রাণের পাশাপাশি অনেক সম্পদহানিও হয়েছে। এ অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা বিশ^বাসীর মনোবলে হানা দেবে তাতে আর বলতে বাকি কী? তবে এর থেকে শিক্ষাটাই বড়ো করে নিতে হবে আমাদের। কাউকেই ছাড়েনি এ মহামারি- ধনী, দরিদ্র-সবাই আক্রান্ত হয়েছে। তাই আমাদের এমন ল্যাব থাকতে হবে যেটা আমাদের জানান দেবে সম্মুখ মহামারির সম্ভাব্যতাটিও। ধরে নিতে হবে শতকে একবার নয়, প্রতি ২০ বছর অন্তর এটি হানা দেবে, তাই আমাদের প্রস্তুতিটাও হবে সেরকম। সেজন্যে এখন থেকেই সরকারগুলোর একটা ‘অর্থবহ’ বাজেট থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, মহামারির ক্ষেত্রে- স্বল্পমূল্যে ভ্যাকসিন কিংবা দ্রুত রোগ নিরূপণই যথেষ্ট নয়।
এফটি : তো, আপনি বলতে চাচ্ছেন এ ‘অভিজ্ঞতা’কে কাজে লাগিয়ে যথার্থ প্রস্তুতি নেয়া থাকলে পরবর্তী দুর্যোগকে মোকাবিলা সহজ হবে?
বিল : হ্যাঁ, অবশ্যি। তবে এর মানে এই নয় যে, আমার এবারকার ‘ট্রিলিয়ন’ ডলার ক্ষতি পুষিয়ে নিতেও আমাকে নতুন এক যুদ্ধে নামতে হবে। হ্যাঁ, নতুন যুদ্ধতো বটেই, তবে এটা হবে ‘আগাম প্রস্তুতি’র যুদ্ধ। এজন্যে সকলকে একযোগে বিজ্ঞানকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
এফটি : সময় দেবার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
বিল : ধন্যবাদ আপনাকেও।
ভাষান্তর করেছেন জাকারিয়া চেীধুরী

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 360 People

সম্পর্কিত পোস্ট