চট্টগ্রাম সোমবার, ২৫ মে, ২০২০

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস আজ

২ এপ্রিল, ২০২০ | ৮:১৪ অপরাহ্ণ

অধ্যাপক ডা. বাসনা মুহুরী

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস আজ

দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধ, আরো হয়তো দীর্ঘায়িত হবে প্রাতিষ্ঠানিক ছুটি। উপায় নেই, বেঁচে থাকতে হলে অন্যকে নিরাপদে রাখতে এর কোন বিকল্প নেই বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে। কিন্তু যে পরিবারে অটিজম আক্রান্ত শিশু/ ব্যক্তি আছে তাদের জন্য এ সময়টা পরিবারের জন্য খুবই দুর্বিসহ। অটিজম আক্রান্তদের অন্যতম সমস্যা সামাজিক যোগাযোগে তার সাথে থাকে অস্থিরতা, আচরণগত সমস্যা এবং একই কাজ বারবার করার প্রবনতা ইত্যাদি। তারা রুটিন মাফিক চলতে চাই, অন্যতা হলে অস্থিরতা বেড়ে যেতে পারে।স্কুলের রুটিন মাফিক চর্চ্চা না হলে লদ্ধ দক্ষতা গুলো কমে যেতে পারে। তাই এ দীর্ঘ ছুটিতে অটিজম আক্রান্ত পরিবারের বাড়তি চিন্তা তাদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এ সদস্যকে নিয়ে।

বর্তমানে এরা আমাদের সমাজের, তথা দেশের জনসংখ্যার বিশাল একটি অংশ। কিছুদিন আগে প্রকাশিত সিডিসি-আমেরিকার পরিসংখ্যান মতে অটিজম আক্রান্ত শিশুর হার সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১০% বেড়ে বর্তমানে প্রতি ৫৪জনে একজন অটিজম আক্রান্ত। সাদা,কালোর মধ্যে কোন ভেদাভেদ নেই, সমানভাবে আক্রান্ত। দেশ, জাতি, বর্ণ, গোত্রে কোন ভেদাভেদ নেই।

সুতারাং সহজেই অনুমেয় আমাদের দেশেও বিরাট অংশ অটিজম আক্রান্ত। আজ ২ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস, এ বিরাট জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়ন এবং সমাজে একিভূত করার লক্ষে ২০০৮ সাল থেকে জাতীয় সংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র যথাযথভাবেই এ দিন উদযাপিত করে আসছে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে এবারকার দিনটি ঘরে বসেই পালন করতে হবে। তবে বর্তমান সময়ে তথ্যের আদান প্রদানের ক্ষেত্র সহজ হওয়ায় ঘরে বসেও আমরা মানুষের মাঝে অটিজম বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করতে পারি। এ দুঃসময়ে তাদেরকে নিয়েও আমাদের ভাবতে হবে, কারণ অটিজম আক্রানের পরিবার, তথা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুর পরিবার যাতে বিপদগ্রস্ত না হয়, হতাশাগ্রস্ত না হয়।

পরিবারে অভিভাবকদের করণীয় :আপনার সন্তানের জন্য একটা রুটিন তৈরি করুন আপনার মতো করে , কিন্তু তাতে যেনো স্কুলের দৈনন্দিন রুটিন প্রতিফলিত হয়, যেমন ব্যয়াম, সমবেত প্রার্থনা, অংক, স্নেক্স, হাতের কাজ,বাংলা, দুপুরের খাবার, বিশ্রাম, ড্রইং ,নিজস্ব দক্ষতা, ইত্যাদি।আপনার শিশুর দক্ষতা অনুযায়ী (প্রয়োজনে স্কুল শিক্ষকের সাথে ফোনে যোগাযোগ করে) রুটিন তৈরি করতে পারেন।

যেসব শিশু মৌখিক রহংঃৎঁপঃরড়হ বুঝতে পারে না, তাদের জন্য ারংঁধষ ংপযবফঁষব তৈরি করুন।বেশ কিছু সময় তাদেরকে ঢ়যুংরপধষ ধপঃরারঃু তে নিয়োজিত করুন, এতে করে অস্থিরতা কমবে এবং রাতে ভালো ঘুম হবে। আপনারাও তাদের সাথে যুক্ত হয়ে নানা রকম ব্যায়াম করতে পারেন, এতে আপনাদেরও মানসিক স্থিরতা থাকবে।আপনার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানকে পারিবারিক কাজে নিয়োজিত করুন, রান্নার কাজে, ঘর গোছানোর কাজে, খাবার দাবার পরিবেশনের কাজে, তার দক্ষতা অনুযায়ী, এতে আপনার শিশুর দক্ষতা বাড়বে। তার যোগাযোগ এ যদি বেশী সমস্যা থাকে তবে সবক্ষেত্রে াররংঁধষ ংঁঢ়ঢ়ড়ৎঃং ব্যবহার করতে পারেন।

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে থাকা, হাত ধোয়ার বিষয়েও তাদেরকে অবগত করুন, প্রয়োজনে ারংঁধষ ংপযবফঁষব এর মাধ্যমে।দৈনন্দিন রুটিনের পাশাপাশি সাপ্তাহিক রুটিনও তৈরি করে রাখুন, যেখানে অবশ্যই সাপ্তাহিক ছুটি উল্লেখিত থাকবে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন অটিজম আক্রান্তরা রুটিন মাফিক চলতে পছন্দ করে, রুটিনের পরিবর্তন হলে তাদের মধ্যে অস্হিরতা বেড়ে যেতে পারে।তাই পরিবারের সবাই মিলে কাজ করলে এ সময়ে এ করোনা পরিস্থিতিতে ঘরেও আপনার প্রিয় সন্তানকে নিয়ে একটু স্বস্তিতে থাকতে পারবেন।

ঘরের মধ্যেই কিছু সময় ওকে নিয়ে খেলুন, গান শুনুন, গল্প করু ন, ওর সাথে কথা বলুন। ওরাও সবকিছু বোঝে, তবে ভিন্নভাবে। ঘুমের সমস্যা হলে ঘুমানোর পূর্বে হাল্কা ব্যায়াম করাতে পারেন, কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল বা সারা শরীর মুছিয়ে দিতে পারেন। ঘুম ভালো না হলে অস্থিরতা বেড়ে যেতে পারে।রুটিন মাফিক কাজে নিযুক্ত না করলে আপনার বিশেষ সন্তানটির অর্জিত দক্ষতাগুলো হারিয়ে যেতে পারে।

আপনার সন্তারের যতেœর পাশাপাশি আপনি নিজের প্রতিও খেয়াল রাখুন, আপনার মানসিক ভারসাম্য যাতে ঠিক থাকে সেজন্য নিজের প্রশান্তির জন্য মেডিটেশন, প্রার্থনা করতে পারেন, পছন্দের গান শুনতে পারেন, আপনার পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসাথে কাজ করুন, কিছু সময় একসাথে বসে টেলিভিশন দেখুন, গল্প করুন, এ বিশেষ সময়টা ভালোই কাটবে, দুর্বিসহ হবে না।

স্বাস্থ্যগত যেকোন সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিভিন্ন অটিজম আক্রান্ত পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারেন, এতে বিশেষ শিশুদের পরিবারের মধ্যে যেমন সোহাধ্যতা বাড়ে তেমনি একে অন্যের সাথে কথা বলে অনেক সমস্যারও সমাধান করতে পারেন। আপনার বিশেষ সন্তানের প্রয়োজনে তার শিক্ষক, থেরাপিষ্টের সাথে অবশ্যই যোগাযোগ করবেন। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের সকলের সহায় হউন।

 

 

 

লেখক : শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এবং অটিজম সন্তানের মা। (অটিজমের সংগঠক)

The Post Viewed By: 73 People

সম্পর্কিত পোস্ট