চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০

সর্বশেষ:

আরও একজনের মৃত্যু

২ এপ্রিল, ২০২০ | ২:২০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা অফিস

কমিউনিটি সংক্রমণ’র শঙ্কা : নতুন আক্রান্ত ৩

আরও একজনের মৃত্যু

দেশে করোনাভাইরাস জনিত কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে মোট মারা গেলেন ৬ জন। সবশেষ মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছিল এক সপ্তাহ আগে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও তিনজন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ জনে। সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন ২৫ জন।
গতকাল বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিযন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) কোভিড-১৯ সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন, আমরা দেখেছি গ্রামে, বাজারে অনেকে ঘোরাফেরা করছেন, চায়ের দোকানে বসছেন। এটা ঠিক হচ্ছে না। আপনাদের অনুরোধ, আপনারা ঘরে থাকবেন, বাইরে বের হবেন না।
গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। তার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম ব্যক্তির মৃত্যুর কথা জানায় আইইডিসিআর। গতকাল বুধবার প্রথম সংস্থাটি জানায়, ঢাকায় সীমিত আকারে ‘কমিউনিটি সংক্রমণ’ হচ্ছে বলে তারা সন্দেহ করছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রাজধানীসহ সারাদেশে কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আমরা চাই না কেউ পরীক্ষার বাইরে থাকুক। কারও মধ্যে কোভিডের উপসর্গ থাকলে নমুনা পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআর সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করুন। নিজে সুস্থ থাকুন, পরিবারকে সুরক্ষিত রাখুন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি হাসপাতালে ৫০০ ভেন্টিলেশন বসানোর কাজ চলছে। বেসরকারি হাসপাতালে প্রায় ৭০০ ভেন্টিলেশন প্রস্তুত আছে বলেও জানান হয়। প্রতিদিনই আমাদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নতি করে চলেছি। বিভিন্ন হাসপাতালে মেডিকেল ভেন্টিলেটর যুক্ত হচ্ছে। কোভিডের জন্য আরও হাসপাতাল তৈরি করছি। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে টেস্টিং সুবিধা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
ডাক্তারদের চেম্বার খোলা রাখার আহ্বান : আইইডিসিআর এর ব্রিফিংয়ে জানান হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করেছে আইইডিসিআর। এতে নতুন করে আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ৯ জনকে। এ নিয়ে আইসোলেশনে আছেন ৭৩ জন। একজনকে আইসোলেশন থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) আইইডিসিআর জানায়, ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ৫১ জনের শরীরে। এর মধ্যে পাঁচজন মারা গেছেন, ২৫ জন সুস্থ হয়েছেন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২১ জন।
অন্যদিকে সারা বিশ্বে এখন পর্যন্ত ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৪২ হাজার ১৫১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯ জন।
বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৪১৯ জন। তাদের মধ্যে ৬ লাখ ৫ হাজার ৫২১ জনের অবস্থা স্থিতিশীল এবং ৩২ হাজার ৮৮৯ জনের অবস্থা গুরুতর।
এখন পর্যন্ত এ ভাইরাস সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৩০ জন এবং মারা গেছেন ৩ হাজার ৮৮৯ জন।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের হটলাইনের কল সেন্টারে কাজ করা দু’জন নারী কর্মী ফেসবুক পোস্টে তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার বর্ণনা তুলে ধরেন।
এই প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমআইএস শাখার পরিচালক ডা. মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, কল সেন্টারে কেউ যদি অশালীন কথাবার্তা বলে থাকেন, সে বিষয়ে আমরা চিন্তা করছি, সেটা শালীনতা বিবর্জিত হলে তাদের ট্র্যাক করে (খুঁজে বের করে) ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
বিশেষজ্ঞরা কী বলেন : ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস ল্যাবরেটরির ভাইরোলজিস্ট ডা. খন্দকার মাহবুবা জামিল বলেন, মৃদু লেভেলে হলেও ‘কমিউনিটি সংক্রমণ’ হচ্ছে। আইইডিসিআর এর পরিচালক এর আগেই এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থান থেকে যেসব নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, তাতে আমরা ততটা পজিটিভ পাচ্ছি না। ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন’ যদি বেশি হতো, তাহলে এর সবগুলোতেই আমরা পজিটিভ দেখতে পেতাম। ফলে আমরা বলতে পারি, ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন’ হচ্ছে কিন্তু সেটা মৃদু পর্যায়ে হচ্ছে।

The Post Viewed By: 25 People

সম্পর্কিত পোস্ট