চট্টগ্রাম বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

১৮ মার্চ, ২০২০ | ৩:০৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা, উখিয়া

আতঙ্কে উখিয়া-টেকনাফের ৩২ ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা

উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নাগরিক বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস আতঙ্কে ভুগছে। দেশি-বিদেশি এনজিও সংস্থার কর্মকর্তাদের অবাধ বিচরণ ও রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে গোপনে আসা-যাওয়ার কারণে যেকোনো মুহূর্তে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন রোহিঙ্গা নেতারা। তারা অবিলম্বে ক্যাম্প ভিত্তিক করোনাভাইরাস প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
২০১৭ সালে ২৫ আগস্টের পর উখিয়া টেকনাফের ৩২টি ক্যাম্পে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত প্রায় ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা এদেশে পালিয়ে আসে আশ্রয় নেয়। সরকার মানবতার খাতিরে এসব রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে ঝুপড়িঘর তৈরি করে থাকার ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি চিকিৎসা, ছেলে মেয়েদের পড়ালেখা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিলেও গাদাগাদি করে বসবাসরত রোহিঙ্গারা প্রায় সময় অপরিচ্ছন্নভাবে বসবাস করে আসছেন। তারা তাদের ব্যবহৃত ময়লা ও আর্বজনাগুলো অপসারণ করছে খোলামেলা ও বাড়ির আশপাশে। এ নিয়ে উখিয়ার কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের চেয়ারম্যান হাফেজ জালাল আহম্মদ জানান, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস নিয়ে মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে অথচ গাদাগাদি করে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের করোনাভাইরাস থেকে রক্ষার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তার উপর এনজিও সংস্থার লোকজন বিদেশ থেকে এখনো পর্যন্ত পরিদর্শনের নামে অবাধ ক্যাম্পে আসা যাওয়া করছে। তাদের শরীরেও করোনাভাইরাস থাকতে পারে দাবি করে ওই রোহিঙ্গা নেতা বলেন, সোমবার ক্যাম্পে লিডারশিপ সংক্রান্ত একটি সেমিনারে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের বিষয়টি উত্থাপন করা হলে ইউএনএইচসিআর এর নেতৃবৃন্দরা দু’একদিনের মধ্যে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণে আশ্বস্ত করেছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজন বড়ুয়া বলেন, গত ১৪ দিন থেকে কোন বিদেশি যাতে ক্যাম্পে ঢুকতে না পারে সে ব্যাপারে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। তাছাড়াও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিদেশ থেকে কোনো লোক আসার সম্ভাবনা নাই। তথাপি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে।
তিনি বলেন, রামু ও চকরিয়ায় ১০০ বেডের একটি আইসোলেশন সেন্টার রয়েছে। তাছাড়া ক্যাম্পভিত্তিক যেসমস্ত ডায়রিয়া ট্রিটমেন্ট সেন্টার রয়েছে সেগুলোকে আইসোলেশন সেন্টার হিসাবে ব্যবহার করার উপযুক্ত করে তোলা হয়েছে। ক্যাম্পে যে সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন তাদেরকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রবাসী যাতে বিদেশ থেকে এসে অবাধে বিচরণ করতে না পারে সেজন্য স্থানীয়দের সজাগ থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 79 People

সম্পর্কিত পোস্ট