চট্টগ্রাম সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ঐক্যবদ্ধে হোক মোকাবিলা
ঐক্যবদ্ধে হোক মোকাবিলা

১৬ মার্চ, ২০২০ | ৩:০২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা অফিস

করোনা এক করলো সার্ক নেতাদের

ঐক্যবদ্ধে হোক মোকাবিলা

পারস্পরিক সহযোগিতা বিশেষ প্রয়োজন : প্রধানমন্ত্রী

বৈশ্বিক মহামারি করোনা মোকাবেলায় দীর্ঘ বিরতির পর এক হয়েছেন সার্ক নেতারা। একমত হয়েছেন এক সাথে কাজ করার। সংক্রমণ ঠেকাতে সার্ক দেশগুলো মিলে একটি স্বাস্থ্য সংস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসের কড়াল গ্রাসে আক্রান্ত, সেই মুহূর্তে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আহ্বানে ভিডিও কনফারেন্সে সার্কভুক্ত দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা।
গতকাল ভিডিও কনফারেন্সে সূচনা বক্তব্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, অজানা এমনসব দুর্যোগে সবাইকে এক সাথে কাজ করতে হবে তবেই আসবে সফলতা। আর ভারত নিজে ১০ বিলিয়ন ডলার দিয়ে ফান্ড গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন দুর্যোগ মোকবেলায় সার্ক স্বাস্থ্য সংস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ এ ধরনের বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবেলায় সবসময়ই পাশে থাকবে। এসময় সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশ গুলোর নেতারাও একমত হন করোনার মতো মহামারিসহ অন্যান্য সমস্যা মোকাবেলায় এক সাথে কাজ করতে।
করোনা মোকাবিলায় সার্কভুক্ত দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন একটি উদ্যোগ নেয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। গতকাল বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এই কনফারেন্স শুরু হয়। শেখ হাসিনা বলেন, করোনা মোকাবিলায় আমরা তিনটি কমিটি করেছি। আমাদের দেশে যারা করোনায় আক্রান্ত, তারা বিদেশ থেকে এসেছেন। আমরা আমাদের হাসপাতাল প্রস্তুত রেখেছি। তিনি বলেন, আমরা করোনা মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছি। আমাদের স্কুলগামী শিশুদের মধ্যেও সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মিলে এ রোগ মোকাবিলা করতে হবে। সার্কভুক্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও সচিবরাও এ ধরণের ভিডিও কনফারেন্স করতে পারে। যারা বিদেশ থেকে দেশে আসছেন, তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। মহামারি করোনা যাতে দেশব্যাপী না ছড়ায় সেক্ষেত্রে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি।
করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এই সঙ্কট মোকাবিলায় সার্ক দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ঘনিষ্ঠ সমন্বয় দরকার। আমাদের বিশেষজ্ঞ অভিজ্ঞতা শেয়ার করা দরকার। প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ রসদ সরবরাহ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মোকাবিলায় কৌশলগত বিষয় নিয়ে আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যসচিবরাও এ ধরনের সম্মেলনে আলোচনা করতে পারেন। তিনি বলেন, আমি আশা করছি, এই সম্মেলন করোনা মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে নতুন পথের দিশা দেবে।
করোনা ভাইরাস এবং এই ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য একটি সংস্থা স্থাপনের প্রস্তাব দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এ ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলার জন্য একটি ইনস্টিটিউট স্থাপন করা যেতে পারে। যদি সদস্য দেশগুলো রাজি থাকে তবে বাংলাদেশ এই সংস্থা স্থাপনে প্রস্তুত।
বিশ্ব মহামারি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রধানদের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্স আয়োজনের আহবান জানিয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত শুক্রবার দুটি টুইট বার্তা পাঠান। তার এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, আফগানিস্তান, মালদ্বীপের রাষ্ট্রপ্রধানরা কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন। প্রথম টুইটে নরেন্দ্র মোদি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর উচিৎ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে শক্তিশালী কৌশল নির্ধারণ করা, যাতে করে অঞ্চলটির মানুষদের সুস্থতা নিশ্চিতে কোনো চেষ্টার ত্রুটি না থাকে। প্রথম টুইটে তিনি বলেন, আমাদের গ্রহটি এখন করোনাভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। বিভিন্নভাবে সরকারগুলো ও দেশের জনগণ করোনা মোকাবেলায় সর্বোচ্চ শক্তি ব্যয় করছে। দক্ষিণ এশিয়া এমন এক অঞ্চল যেখানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাস করছে। তাই আমাদের উচিৎ তাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালু রাখা।
জরুরি সার্ক তহবিল গঠনের প্রস্তাব মোদির
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) সদস্য দেশগুলোর জন্য কোভিড-১৯ জরুরি তহবিল গঠনের প্রস্তাব করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় গতকাল সার্কের আট দেশের প্রতিনিধিদের ভিডিও কনফারেন্সে এই প্রস্তাব দেন তিনি। মোদি বলেন, আমাদের সবার স্বেচ্ছা-সহায়তার ভিত্তিতে এই তহবিল গঠন করা যেতে পারে। জরুরি এই তহবিলে প্রাথমিকভাবে ভারত এক কোটি ডলার দিয়ে শুরু করতে পারে। তিনি বলেন, এই তহবিলের ব্যবহারের জন্য আমাদের দূতাবাসগুলো সমন্বয় করে কাজ করতে পারে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন, পরীক্ষা সামগ্রী এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করছি। তারা সব সময় প্রস্তুত থাকবেন; আপনাদের প্রয়োজন হলে ভারত থেকে তাদের পাঠানো হবে।
মোদি বলেন, আমাদের একটি সাধারণ গবেষণা প্ল্যাটফর্মও গঠন করার বিষয়ে ভাবা উচিত। এ ধরনের কাজের সমন্বয়ে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিকেল রিসার্চ সহায়তা করতে পারে। এছাড়া অর্থনীতির ওপর কোভিড-১৯ এর দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবের বিষয়েও বিশেষজ্ঞরা আমাদের সহায়তা করতে পারেন। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সদস্য দেশগুলোকে সমন্বয় করে কাজের তাগিদ দিয়ে মোদি বলেন, এই মহামারি প্রথম নয়; এমনকি শেষও নয়। তিনি বলেন, সার্ক অঞ্চলে বিশ্বের পাঁচ ভাগের একভাগ মানুষ বাস করে। সবাই খুব ঘনিষ্ঠভাবে বাস করে। আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ভারতের অভিজ্ঞতা শেয়ার করব। আমরা প্রস্তুতি নেব, কিন্তু আতঙ্ক সৃষ্টি করব না।
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ভারত সরকারের নেয়া সতর্কতামূলক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে নরেন্দ্র মোদি আরও বলেন, ভারত ধীরে ধীরে পদক্ষেপ নিয়েছে। ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, ৬৬টি ল্যাব তৈরি করা হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 108 People

সম্পর্কিত পোস্ট