চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

রোজা আসার আগেই পণ্য মজুদের হিড়িক

১৪ মার্চ, ২০২০ | ৬:০১ অপরাহ্ণ

পূর্বকোণ ডেস্ক

রোজা আসার আগেই পণ্য মজুদের হিড়িক

আগামী ২৩ অথবা ২৪ এপ্রিল রমজান মাস শুরু হতে পারে। সে হিসাবে রোজা আসতে বাকি আছে আর মাত্র ৪০ দিনের মতো। তা ছাড়া রোজার ১৫ দিন আগে হবে শবেবরাত। শবেবরাত এবং রোজাকে ঘিরে প্রতি বছরই দেশের মানুষকে ভুগতে হয় পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায়। অন্য বছরের তুলনায় এবারের প্রেক্ষাপটটা ভিন্ন। কারণ এবার করোনাভাইরাসের ব্যাপক প্রভাব বিশ^ব্যাপী। এ কারণে বাংলাদেশসহ বিশে^র ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর প্রভাব ভোগ্যপণ্যের দামেও পড়তে শুরু করেছে, আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে পণ্যমূল্য। সামনে রোজা ও শবেবরাত থাকায় এবার পণ্যমূল্য নিয়ে ভাবাচ্ছে বেশি। তাই সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে এবার আগেভাগেই রমজানের পণ্য মজুদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্র : সময়ের আলো।

সারা বছরের তুলনায় রমজান মাসেই দেশে পণ্যমূল্য বেশি বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে রোজায় যেসব পণ্যের চাহিদা সব থেকে সেগুলোরই দামও বেশি হয়। তা ছাড়া অসাধু ব্যবসায়ীরা পথ চেয়ে বসে থাকে কবে রমজান মাস আসবে, আর সারা বছরের মুনাফা লুফে নেবে এই এক মাসে। এবারের প্রেক্ষাপট যেহেতু ভিন্ন, তাই সরকারও আগে থেকেই নড়েচড়ে বসেছে। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে সরকার এবার বেশি করে পণ্য মজুদের পদক্ষেপ নিয়েছে। তা ছাড়া সরকার ভোগ্যপণ্যের বড় বড় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে এবার অন্য বারের চেয়ে বেশি প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য তাগিদ দিয়েছে।

আসন্ন রমজানের বাজার পরিস্থিতি ও মজুদ প্রস্তুতি সম্পর্কে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশে (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান সময়ের আলোকে বলেন, ‘আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের ওপর কোনে আস্থা নেই। কারণ রোজা আসলেই তারা ভোগ্যপণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেশের মানুষকে কষ্ট দেয়। এবারও যে তেমনটি ঘটবে না সেটি বলার কোনো সুযোগ নেই। তা ছাড়া এবার তারা আরও বেশি ভেগাতে পারে। কেননা এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। করোনার কারণে ভোগ্যেপণ্যের দাম এবারের রোজায় বাড়তে পারে অন্য যেকোনো বছরের চেয়ে বেশি। সুতরাং সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে, সরকারি উদ্যোগে পণ্য মজুদ বৃদ্ধির পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে যারা যেসব পণ্য আমদানি করছে তার সঠিক তথ্য জেনে রাখা। কোন প্রতিষ্ঠান কি পণ্য আমদানি করছে, কত দামে আমদানি করছে আর কত দামে বিক্রি করতে পারবেÑ সেটি যেন সঠিকভাবে মনিটরিং করা হয়। প্রয়োজনে সরকার প্রধান কয়েকটি পণ্যের বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করে দিতে পারে। একই সঙ্গে এখন থেকেই আমদানিকারক, পাইকারি এবং খুচরা পর্যায়ে বাজার মনিটরিং জোরালোভাবে শুরু করা দরকার।

রোজায় অন্য পণ্যের পাশাপাশি ভোজ্যতেল, চিনি. পেঁয়াজ, মসুর ডাল, ছোলা ও খেজুরের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এর পাশাপাশি বেগুন, কাঁচা মরিচ, শসাসহ কয়েকটি সবজিজাতীয় পণ্যেরও চাহিদা বাড়ে, বাড়ে দামও। এ জন্য রোজার আগে এসব পণ্যের মজুদের দিকেই নজর দিতে হবে বেশি। আশার কথা হচ্ছে এবার সরকার টিসিবির মাধ্যমে আগে থেকেই প্রধান ছয় পণ্য মজুদের উদ্যোগ নিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছর এসব পণ্য যে পরিমাণে আমদানি করেছে টিসিবি, এবার তার দ্বিগুণ-তিনগুণ আমদানি করা হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাজারে পণ্যের সরবরাহ ও মজুদ ঠিক রাখতে আমদানিতে শুল্ক ছাড়, টিসিবিকে সক্রিয় রাখা ও ভোক্তা অধিকারের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রমযানে সহনীয় মূল্যে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনে সৎ ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমদানির ক্ষেত্রে এলসি মার্জিন এবং ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা ২০ লাখ টন। আর রমজানে চাহিদা থাকে সাড়ে তিন লাখ টন। বর্তমানে দেশে ১৩ লাখ ২২ হাজার টন ভোজ্যতেলের সরবরাহ আছে। রমজান  উপলক্ষে টিসিবিকে আরও ৫০ হাজার টন ভোজ্যতেল আমদানির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মজুত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে বেসরকারি খাতের গুদাম ভাড়া করতে বলা হয়েছে। দরকার হলে জেলা প্রশাসনের প্রয়োজনে সহায়তা নিতে হবে।

প্রতিবেদন বলছে, চিনির বার্ষিক চাহিদা ১৮ লাখ টন। এর মধ্যে কেবল রমজানেই চাহিদা থাকে ৩ লাখ টন। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও আমদানিসহ মোট নয় লাখ ১৬ হাজার টন চিনি মজুত আছে। রমজান  উপলক্ষে টিসিবি আরও ৩০ হাজার টন চিনি কিনবে।

একইভাবে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২৪ লাখ টন। আর রমজান মাসের চাহিদা ৫ লাখ টন। বর্তমান মজুত আছে ১৫ লাখ ২৫ হাজার টন। মার্চ মাসের শেষ নাগাদ দেশি পেঁয়াজ পুরোপুরি বাজারে চলে আসবে। এ সময় বাজারে সঙ্কট হওয়ার আশঙ্কা নেই। তারপরও ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ কিনবে টিসিবি।
মসুর ডালের বার্ষিক চাহিদা পাঁচ লাখ টন। এর মধ্যে রমজান  মাসের চাহিদা ৮০ হাজার টন। বর্তমানে সরবরাহ লাইনে আছে তিন লাখ ২৪ হাজার টন। রমজান  উপলক্ষে টিসিবি আরও তিন হাজার টন মসুর ডাল কেনার পরিকল্পনা করেছে। ছোলার চাহিদাটা রমজানকেন্দ্রিক। বার্ষিক এক লাখ টন চাহিদার মধ্যে কেবল রমজানেই লাগে ৮০ হাজার টন। এর মধ্যে ৭৪ হাজার ২৪৬ টন সরবরাহ ব্যবস্থায় আছে। আরও আট হাজার টন ছোলা আমদানি করা হবে।
আর দেশে খেজুরের বার্ষিক চাহিদা ২৫ হাজার টন, যার মধ্যে ৭ হাজার ১৮৭ টন জুলাই-ডিসেম্বরে আমদানি করা হয়েছে। রমজানের বাড়তি চাহিদা মেটাতে টিসিবি আরও পাঁচশ টন খেজুর আমদানি করবে।

সার্বিক বিষয়ে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন বলেন, আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রস্তুত রয়েছেন। বিশেষ কওে ভোগ্য ও নিত্যপণ্যের দাম যাতে ওই সময় না বাড়ে সেদিকে সবচেয়ে বেশি নজরদারি রাখা হবে। রজমান ও করোনাভাইরাসকে পুঁজি করে কোনো ব্যবসায়ী মনোপলি ব্যবসা করছে কি-না, বিষয়টি কঠোরভাবে নজর রাখতে বলা হয়েছে। তা ছাড়া অন্য বারের চেয়ে এবার বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে।

 

 

 

 

পূর্বকোণ/আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 277 People

সম্পর্কিত পোস্ট