চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২০

বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয় ৮০ শতাংশ রোগীর
kidney

১২ মার্চ, ২০২০ | ৪:৫৯ পূর্বাহ্ণ

ইমাম হোসাইন রাজু

আজ বিশ্ব কিডনি দিবস

বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয় ৮০ শতাংশ রোগীর

বর্তমান বিশ্বে অসংক্রামক ব্যাধিগুলোর মধ্যে কিডনি রোগ অন্যতম। বাংলাদেশেও দিন দিন এ রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ২ কোটি লোক কোনো না কোনো কিডনি রোগে ভুগছে। এরমধ্যে বিকল হয়ে যাওয়া রোগীদের ডায়ালাইসিস বা কিডনি সংযোজন ছাড়া বাঁচানো সম্ভব হয় না। কিন্তু এ দুই চিকিৎসা পদ্ধতিই অত্যন্ত ব্যয়বহুল। যার কারণে অর্থের অভাবে শতকরা প্রায় ৮০ জন রোগী সেবা না পেয়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেন।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আজ ১২ মার্চ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ^ কিডনি দিবস। সারা বিশ্বে কিডনি রোগের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এই দিনটি পালন করা হয়ে আসছে। প্রতিবছরের মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের বৃহস্পতিবার দিবসটি পালিত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবার পালিত হবে বিশ্ব কিডনি দিবস-২০২০। এবারের কিডনি দিবসের প্রতিপাদ্য:‘সুস্থ্য কিডনি, সর্বত্র সবার জন্য’। কিডনি রোগের ব্যাপকতা ও ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং কিডনি বিকল হলে, তার কার্যকারিতা হারানোরোধে প্রাথমিক অবস্থায় কিডনি রোগকে শনাক্ত করে চিকিৎসা করাই হলো এবারের উদ্দেশ্যে।
কিডনি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে বর্তমানে ৮৫০ মিলিয়ন মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর ২ দশমিক ৪ মিলিয়ন মানুষ দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত ও ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন মানুষ আকস্মিক কিডনি রোগে মারা যায়। এছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশে দেশে প্রায় ৪০ হাজার রোগী দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। দেশে প্রতিবছর ১৬ হাজার জন রোগী মারা যায়।
এদিকে, দেশের কিডনি রোগীদের মধ্যে আট লাখ রোগীর ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হয়। যাদের জন্য দেশে প্রায় ১০১টি ডায়ালাইসিস সেন্টার আছে। প্রতি ডায়ালাইসিসের খরচ হয় আটশ’ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। কিন্তু মাত্র ৩০ হাজার জন রোগী এ ডায়ালাইসিস করতে পারেন। বাকিরা চিকিৎসা খরচ ও অন্যান্য কারণে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনদিন কিডনি রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বিশ্বের অনেক দেশেই মানসম্মত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। যার কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং প্রশিক্ষিত জনবলের অভাবকেই দেখছেন তারা।
এদিকে, কিডনি দিবসটি উপলক্ষে বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও পালন করা হচ্ছে। এরমধ্যে চট্টগ্রামেও পালিত হচ্ছে এ দিবস। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্যোগে পালন করা হচ্ছে আলোচনা সভা ও র‌্যালি। এছাড়া কিডনি ফাউন্ডেশন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যেগে পালন করা হচ্ছে বিভিন্ন কর্মসূচি।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সাল থেকে প্রতিবছর মার্চ মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার বিশ্ব কিডনি দিবস পালিত হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব নেফ্রোলজি এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব কিডনি ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে সারা বিশ্বে এই দিবসটি পালন করা হয়।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 240 People

সম্পর্কিত পোস্ট