চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মার্চেই জন্ম বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের

১ মার্চ, ২০২০ | ৩:০৮ পূর্বাহ্ণ

মার্চেই জন্ম বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের

বাঙালি জাতির স্বপ্নসাধ যৌক্তিক পরিণতির মাস অগ্নিঝরা মার্চ আজ শুরু হলো। বাংলাদেশের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম ঘটনা হচ্ছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এ ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক-রাজনৈতিক স্বপ্নসাধ পূরণ হয় এ মাসে।
মার্চ মাসেই বাংলাদেশের ও বাঙালি জাতির নির্মাতা বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনও। আগামী ১৭ মার্চ তাঁর জন্মশতবার্ষিকী । এদিন থেকে আগামীবছরের ১৭ মার্চ পর্যন্ত সময়কে মুজিব বর্ষ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এখন চলছে ক্ষণগননা। মুজিববর্ষ উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই দেশ-বিদেশের তিন শতাধিক কর্মসূচি মনোনীত করা হয়েছে। আগামী ১৭ মার্চ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। অনুষ্ঠানে দেশী বিদেশী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।
একাত্তরের এ মাসেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এর আগে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ স্বাধীনতার অমর কাব্যের একটি পংক্তি বাঙালি জাতিকে ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তায় ঐক্যবদ্ধ করে ।
এ মার্চেই পাকিস্তানকে বাঙালি বিদায় সম্ভাষণ জানায়। পাকিস্তানি সৈন্যরা ২৫ মার্চ রাতে অতর্কিতে বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এইদিনে বাঙালি জাতির জীবনে এক বিভীষিকাময় রাত নেমে আসে। মধ্য রাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের পূর্বপরিকল্পিত অপারেশন সার্চ লাইটের নীলনকশা অনুযায়ী আন্দোলনরত বাঙালিদের কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার ঘৃণ্য লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষার জন্য যে আগুন জ্বলে উঠছিল, মার্চে এসে সেই আগুন ছড়িয়ে পরে বাংলার সর্বত্র। এর পরে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬-এর ছয় দফা এবং ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সিঁড়ি বেয়ে একাত্তরের মার্চ বাঙালির জীবনে নিয়ে আসে নতুন বার্তা। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে স্বাধীনতার আহ্বান। ২৫ মার্চ রাত ১টার দিকে পাকিস্তানি সৈন্যরা বঙ্গবন্ধুকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা।
এর আগে, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি শাসকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘সাত কোটি মানুষকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না। মরতে যখন শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না। রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো, ইনশা আল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।’
১৯৭১-এর ৭ মার্চ তৎকালীন রেসর্কোস ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) দেওয়া সেই ঐতিহাসিক ভাষণের সময় মুহুর্মুহু গর্জনে উত্তাল ছিল জনসমুদ্র। লাখো কণ্ঠে গর্জে ওঠা একই আওয়াজ উচ্চারিত হতে থাকে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। ঢাকাসহ গোটা দেশে পতপত করে উড়তে থাকে সবুজ জমিনে আঁকা লাল সূর্যের পতাকা।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 147 People

সম্পর্কিত পোস্ট