চট্টগ্রাম শনিবার, ০৬ জুন, ২০২০

হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবার বিফল খালেদা

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ৩:১১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক হ ঢাকা অফিস

হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবার বিফল খালেদা

ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। জামিন আবেদনের শুনানিশেষে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেয়। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ। সঙ্গে ছিলেন এডভোকেট সগীর হোসেন লিওন, মো. মাসুদ রানা, ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান প্রমুখ। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন এডভোকেট মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল সারোয়ার হোসেন বাপ্পী।

এর আগে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। আবেদনের যুক্তিতে বলা হয়, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ এবং তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে তার উন্নত চিকিৎসা হচ্ছে না। তাই জামিন পেলে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য যাবেন।

চ্যারিটেবল মামলায় ২০১৯ সালের ৩১ জুলাই বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করেছিল।
এরপর ২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর হাইকোটের খারিজাদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেন তার আইনজীবীরা। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ১,৪০১ পৃষ্ঠার ওই আপিল আবেদন দাখিল করা হয়। ওই আপিলের শুনানি নিয়ে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন চেয়ে আদেশ দেন আপিল আদালত। তবে শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার জামিন দেননি আপিল বিভাগ।

প্রসঙ্গত গত বছরের ৩০ এপ্রিল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের দ-ের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে অর্থদ- স্থগিত এবং সম্পত্তি জব্দের ওপর স্থিতাবস্থা দিয়ে দুই মাসের মধ্যে ওই মামলার নথি তলব করা হয়েছিল।
এরপর ২০ জুন বিচারিক আদালত থেকে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয় এবং ১৮ নভেম্বর হাইকোটের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করা হয়।
এর আগে, ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের সাত নম্বর কক্ষে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদ- ও অর্থদ- দেন।
এদিকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলে যেহেতু প্রয়োজনীয় সব রকম চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে, তাই এখানে হাইকোর্টের কিছু করণীয় নেই। খালেদা জিয়ার জামিন নাকচ হওয়ার পর গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টি গভীরভাবে দেখেই হাইকোর্ট তার জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।

আনিসুল হক আরও বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার অনুমতি না পাওয়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া যাচ্ছে না। হাইকোর্ট বিভাগ খালেদা জিয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গভীরভাবে দেখেছে। দেখে আইনি সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্ত নয় বরং উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার অনুমতি না দেয়াটাই অস্বাভাবিক। বিএনপির পক্ষ থেকে অনেক কিছুই দাবি করা হয়, যার বেশিরভাগই অযৌক্তিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে বৃহস্পতিবার ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, খালেদা জিয়ার জামিন একেবারে আদালতের বিষয়। এটি সরকারের কোনো বিষয় নয়। আদালত যদি মনে করে তিনি জামিন পাওয়ার যোগ্য তাহলে তাকে জামিন দেবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার রায় আদালতের রায়। এখানে সরকারের কিছু করার নেই।

The Post Viewed By: 87 People

সম্পর্কিত পোস্ট