চট্টগ্রাম সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বছরজুড়ে উৎপাদন হবে নতুন জাতের উদ্ভাবিত পেঁয়াজ

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ১০:৪৩ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

বছরজুড়ে উৎপাদন হবে নতুন জাতের উদ্ভাবিত পেঁয়াজ

পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়াতে গবেষণা করছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। সারা বছর পেঁয়াজ উৎপাদনে বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবন করেছেন একাধিক জাত। এর সুফল পেতে শুরু করেছেন কৃষকরা। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মসলা গবেষণা কেন্দ্রে উদ্ভাবিত পাঁচটি জাতের মধ্যে বারি পেঁয়াজ-২, ৩ ও ৫ গ্রীষ্মকালে উৎপাদন করা যায়। সূত্র : দেশ রূপান্তর।

মসলা জাতীয় ফসলের গবেষণা জোরদারকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার জানান, দেশে প্রায় ২ দশমিক ১২ লাখ হেক্টর জমিতে ১৭ দশমিক ৩৫ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। এখানে পেঁয়াজের জাতীয় গড় ফলন ১০ দশমিক ৭৪ টন, যেখানে বিশ্বব্যাপী গড় ফলন ১৭ দশমিক ২৭ টন। পেঁয়াজ বীজের গড় ফলন ৪০০-৫০০ কেজি, যা অন্যান্য দেশে ১০০০-১২০০ কেজি। পেঁয়াজ বীজের চাহিদা প্রায় ৬৪০ টন। উন্নত মানের পেঁয়াজ বীজের সরবরাহ সরকারি পর্যায়ে ২০ টন ও বেসরকারি পর্যায়ে ২৫-৩০ টন। বাকিটা কৃষক নিজে উৎপাদন করেন, যা পুরোপুরি মানসম্মত নয়। পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য শীতকালের পাশাপাশি গ্রীষ্মকালেও এর আবাদ বৃদ্ধি প্রয়োজন। গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন শীতকালে হলেও এর কন্দ উৎপাদন গ্রীষ্মকালে করে নিতে হয়। এজন্য এর প্রস্তুতি ও যত্ন আলাদা ধরনের। জলবায়ু খুব বেশি ঠাণ্ডা বা গরম পড়ে না এবং অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হয় না, সেসব স্থানে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও এর বীজ ভালো হয়। প্রচুর দিনের আলো, কম উত্তাপ ও মাটিতে প্রয়োজনীয় রস থাকা দরকার। বীজ উৎপাদনের জন্য ১০ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং পুষ্পদণ্ড বের হওয়ার সময় ১০-১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রয়োজন। এর ফসল (বাল্ব) ও বীজ সংগ্রহ, কিউরিং ও থ্রেসিংয়ের সময়কালীন উষ্ণ শুষ্ক আবহাওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের জন্য পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাযুক্ত গভীর, ঝুরঝুরে, দোআঁশ বা পলিযুক্ত মাটি সবচেয়ে ভালো। হালকা মাটিতে জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগে পেঁয়াজ কন্দ বেশ বড় ও ভারী হয় এবং অনেক দিন সংরক্ষণ করা যায় ও তা থেকে ভালো বীজ পাওয়া যায়। মাটির পিএইচ ৫ দশমিক ৮ থেকে ৭ দশমিক ২ থাকলে পেঁয়াজের কন্দ ও বীজের ফলন ভালো হয়। অধিক অম্ল বা ক্ষার মাটিতে পেঁয়াজ আস্তে আস্তে বাড়ে, ছোট হয় এবং পরিপক্বতা দেরিতে হয়।

তিনি জানান, বারি পেঁয়াজ-৫ আগাম ও নাবি খরিপ মৌসুমে উপযোগী স্বল্পমেয়াদি উচ্চ ফলনশীল জাত। সারা বছর চাষোপযোগী, বাল্ব গোলাকার, বড় এবং লালচে বর্ণের। স্বল্পমেয়াদি, বীজ বোনা থেকে ৯৫-১১০ দিনের মধ্যে ফসল তোলা যায়। প্রতিটি কন্দের গড় ওজন প্রায় ৯০-১০০ গ্রাম হয়ে থাকে। হেক্টরপ্রতি ফলন ১৬-২২ টন।

বারি পেঁয়াজ-৩ গ্রীষ্মকালে চাষোপযোগী স্বল্পমেয়াদি উচ্চ ফলনশীল জাত। কন্দ গোলাকার আকৃতির এবং রং লালচে। গাছের উচ্চতা ৩৫-৫০ সেমি এবং গড় ওজন ৪৫-৬৫ গ্রাম। জীবনকাল ৯৫-১১০ দিন এবং হেক্টরপ্রতি ফলন ১৬-২২ টন।

বারি পেঁয়াজ-২ গ্রীষ্মকালীন স্বল্পমেয়াদি, গোলাকার লালচে কন্দ। গাছের উচ্চতা ৩৫-৪৫ সেন্টিমিটার এবং কন্দের ওজন ৫৫-১৫০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। বীজ বপন থেকে ফসল উত্তোলন পর্যন্ত প্রায় ৯০-১১০ দিন সময় লাগে এবং হেক্টরপ্রতি ফলন ১৬-১৮ টন।

ড. শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার জানান, বাংলাদেশে পেঁয়াজের উৎপাদন, চাহিদা ও আমদানি বাংলাদেশে মূলত তিন পদ্ধতিতে পেঁয়াজ উৎপাদন করা হয়। চারা থেকে পেঁয়াজ, মুড়িকাটা পেঁয়াজ ও সরাসরি বীজ বপন করে কন্দ উৎপাদন করা হয়।

চারা থেকে পেঁয়াজ কার্তিক মাসে (মধ্য অক্টোবর-মধ্য নভেম্বর) বীজতলায় বীজ বপন করে (৩৫-৪৫ দিন বয়সী) চারা ডিসেম্বর-মধ্য জানুয়ারি মাসে জমিতে রোপণ করে পেঁয়াজ কন্দ উপাদন করা হয়। এদেশের মোট উৎপাদনের সিংহভাগ পেঁয়াজ (৮০-৯০ ভাগ) এ পদ্ধতিতে উৎপাদন করা হয়। মুড়িকাটা পেঁয়াজ ছোট আকারের কন্দ জমিতে আগাম (ভাদ্র-কার্তিক বা মধ্য সেপ্টেম্বর-মধ্য নভেম্বর) রোপণ করে বড় কন্দ (মুড়িকাটা পেঁয়াজ) উৎপাদন করা হয়। সরাসরি বীজ বপন করে কন্দ উৎপাদন শীতকালে অগ্রহায়ণ (মধ্য নভেম্বর-মধ্য ডিসেম্বর) মাসে সরাসরি বীজ বপন করেও পেয়াজ কন্দ উৎপাদন করা হয়। চরাঞ্চল ও সমতল ভূমিতে সীমিত পরিসরে এ পেঁয়াজ উৎপাদন করা হয়। এতে পেঁয়াজের আকার কিছুটা ছোট ও ফলন কম হলেও শ্রমিক কম লাগায় উৎপাদন খরচ কম হয় এবং পরিপক্ব অবস্থায় সংগ্রহ করা হলে ৬-৮ মাস সংরক্ষণ করা যায়। এছাড়া বারি উদ্ভাবিত গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত বীজ-চারা-কন্দ বা সরাসরি বীজ-কন্দ পদ্ধতিতে সারা বছর আবাদ করে কন্দ উৎপাদন করা যায়।

তিনি আরও জানান, বীজের অপ্রতুলতাই মূলত গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের চাষ সম্প্রসারণের অন্তরায়। সব ধরনের পেঁয়াজেরই শীতকালে বীজ উৎপাদন করা হয়। এদেশে পেঁয়াজ বীজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৬৪০ মেট্রিক টন। উন্নত মানের পেঁয়াজ বীজের সরবরারহ সরকারি পর্যায়ে ২০ মেট্রিক টন এবং বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় ২৫-৩০ মেট্রিক টন।

পূর্বকোণ/আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 193 People

সম্পর্কিত পোস্ট