চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২০

২০৩০ সাল পর্যন্ত এলডিসি সুবিধা চায় বাংলাদেশ

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

২০৩০ সাল পর্যন্ত এলডিসি সুবিধা চায় বাংলাদেশ

উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পরও অন্তত ২০৩০ সাল পর্যন্ত স্বল্পোন্নত দেশের (মতোই সব ধরনের বাণিজ্য সুবিধা পেতে চায় বাংলাদেশ। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পরও শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধাসহ এলডিসির অন্যান্য সুবিধা অব্যাহত রাখতে অনুরোধ করলেও তাতে সাড়া না পাওয়ায় দাবি আদায়ে জোটবদ্ধ হওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়া তিন দেশসহ আগামী কয়েক বছরে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশ হবে এমন আরও ৯টি দেশকে সঙ্গে নিয়ে ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েটেড ফোরাম’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে ঢাকা। জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের স্বার্থে এই ১৩টি দেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পরও জোটবদ্ধভাবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এলডিসির সুবিধা দাবি করবে। ফোরামের নেতৃত্বে থাকবে বাংলাদেশ। সূত্র : দেশ রূপান্তর

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডাব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. কামাল হোসেন গতকাল বলেন, এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পরও এসডিজি বাস্তবায়নে বৈশ্বিক বাণিজ্য সহযোগিতা প্রয়োজন। এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে এই দাবি আদায় করা কঠিন হবে। তাই বাংলাদেশের মতো যারা এলডিসি থেকে উন্নীত পর্যায়ে আছে তাদের নিয়ে এলডিসি গ্র্যাজুয়েটেড ফোরাম গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন অনানুষ্ঠানিকভাবে কাজ চলছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘ ঘোষিত এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবে। তখন একদিনের ব্যবধানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়া অন্য দেশগুলোতে বিদ্যমান জিএসপি বা শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে। এছাড়া, ওষুধ খাতে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যেসব সুবিধা ভোগ করছে, তাও উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার দিন থেকেই বাতিল হয়ে যাবে। এ অবস্থায় বিভিন্ন আঞ্চলিক, বৈশ্বিক ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পর যাতে এসব সুবিধা অব্যাহত রাখা হয়, সে বিষয়ে প্রস্তাব তুলে ধরা হচ্ছে। তাতে একমাত্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়া অন্য কোনো দেশের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস মিলছে না। তাই ঢাকা মনে করছে, এককভাবে এই দাবি আদায় করা কঠিন। সঙ্গে আরও ১২টি দেশকে নিয়ে জোটবদ্ধ হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আগামী জুন মাসে কাজাখস্তানের রাজধানী নূর সুলতানে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডাব্লিউটিও) ১২তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে এসডিজি বাস্তবায়নের স্বার্থে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এলডিসির সব সুবিধা অব্যাহত রাখার দাবি জোটবদ্ধভাবে উত্থাপন করবে এই ফোরাম।

বর্তমানে এলডিসিভুক্ত দেশের সংখ্যা ৪৭টি। মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করে জাতিসংঘ। বতসোয়ানা ১৯৯৪ সালে, কেপর্ভেদে ২০০৭ সালে, মালদ্বীপ ২০১১ সালে ও সামোয়া ২০১৪ সালে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া, ভানুয়াতু ২০২০ সালে, অ্যাঙ্গোলা ২০২১ সালে, ভুটান এবং বাংলাদেশ ২০২৩ সালে, মিয়ানমার, নেপাল, লাওস, পূর্ব-তিমুর, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ও সাও তুমে অ্যান্ড প্রিনসিপ ২০২৪ সালে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার প্রাথমিক সুপারিশ পেয়েছে। এর মধ্যে বতসোয়ানা বাদ দিয়ে বাকি ১৩ দেশ এলডিসি গ্র্যাজুয়েটেড ফোরামভুক্ত হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডাব্লিউটিও সেলের পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পাটওয়ারী গত রবিবার ইকোনমিক ফোরাম ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক কর্মশালায় বলেন, বাংলাদেশ ২০২৪ সালে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নীত হবে। যেদিন জাতিসংঘ থেকে এই স্বীকৃতি পাবে, সেদিন থেকেই এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্যে যেসব সুবিধা পাচ্ছে, তা বাতিল হবে। তাহলে আগের দিন সন্ধ্যায় আমরা এলডিসি হিসেবে যেসব সুবিধা পেলাম, এক রাতের ব্যবধানে আমাদের কী এমন পরিবর্তন ঘটবে যে সেই সুবিধা পরদিন সকাল থেকে আর থাকবে না। বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনায় এসব যুক্তি তুলে ধরার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পরও যাতে এখনকার মতো সব সুবিধা অব্যাহত থাকে, সে বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়ন আশ্বাস দিচ্ছে, শেষ পর্যন্ত তারা কী করবে তা এখনো নিশ্চিত নয়।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ ২০৩০ সালের মধ্যে এলডিসিগুলোকে এসডিজি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশসহ অন্য দেশগুলো বৈশ্বিক নানা সুবিধা ভোগ করে এসডিজি বাস্তবায়নে কাজ করছে। হঠাৎ করে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পর সুবিধাগুলো বাতিল হলে এসডিজি বাস্তবায়ন হোঁচট খাওয়ার আশঙ্কা আছে। আমরা বৈশ্বিক ও দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করছি। এই দাবি আদায়ে ইতিমধ্যে এলডিসি থেকে উন্নীত হওয়া তিন দেশ ও উন্নীত হওয়ার পর্যায়ে থাকা ১০ দেশ মিলে এলডিসি গ্র্যাজুয়েটেড ফোরাম গঠনের উদ্যোগ রয়েছে। তখন ১৩ দেশ একসঙ্গে এই দাবি আদায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) এর গবেষণা পরিচালক ও যুক্তরাজ্যে কমনওয়েলথ সচিবালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতি বিভাগের সাবেক প্রধান ড. মোহাম্মদ এ রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশ যেদিন উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নীত হবে, সেদিন থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাদে অন্যসব দেশে পাওয়া বাণিজ্য সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিজস্ব আইনের কারণে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়া সব দেশ অতিরিক্ত তিন বছর এভরিথিং বাট আর্মস (ইবিএ)-এর আওতায় অস্ত্র বাদে সব পণ্যে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পাবে। এর পরে বিভিন্ন শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জিএসপি প্লাস বা স্ট্যান্ডার্ড জিএসপি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ আছে। এর মধ্যে জিএসপি প্লাস পাওয়ার বিদ্যমান শর্ত পূরণ করা সম্ভব নয় বাংলাদেশের। আর স্ট্যান্ডার্ড জিএসপি সুবিধা পেলে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ইউরোপে শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকবে না। তবে চামড়াসহ অন্যান্য বিভিন্ন পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জিএসপি প্লাস না পেলে উচিত হবে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পর তিন বছর যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইবিএ সুবিধা অব্যাহত রাখে, তার মেয়াদ ২০৩০ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে অনুরোধ করা। তাছাড়া, ভিয়েতনাম যেহেতু ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর করেছে, তাই ভিয়েতনাম কীভাবে এটি করেছে, তা অনুসরণ করে বাংলাদেশেরও ইউরোপের সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

 

 

পূর্বকোণ/আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 112 People

সম্পর্কিত পোস্ট