চট্টগ্রাম সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

অপেক্ষা বাড়ল খালেদার

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ৭:০০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক হ ঢাকা অফিস

জামিন শুনানি অসমাপ্ত

অপেক্ষা বাড়ল খালেদার

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দ-িত কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি শেষ হয়নি। ফের শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পরবর্তী দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আগামী বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার মধ্যে শারীরিক অবস্থার প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
গতকাল রোববার খালেদার জামিন আবেদনের ওপর শুনানির একপর্যায়ে হাইকোটের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই দিন ধার্য করে।
এর আগে, দুপুর ২টায় শুনানি শুরু হয়। শুনানিকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা এড়াতে সুপ্রিম কোটের চারপাশে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। সর্বোচ্চ আদালতের প্রতিটি প্রবেশপথে ব্যাপক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পরিচয়পত্র দেখে প্রত্যেককে সুপ্রিম কোর্টের ভেতর প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি হবে বলে দিন নির্ধারণ করে। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুপুর ২টায় সময় ধার্য করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনটি দিনের কার্যতালিকার এক নম্বরে ছিল।
জামিন আবেদনে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে তথা যুক্তরাজ্যের মতো দেশে যাওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয়। রোববার সকালে আদালতে খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন উপস্থাপন করেন এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও এডভোকেট সগীর হোসেন লিওন। অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন এডভোকেট খুরশীদ আলম খান।
জামিন আবেদন উপস্থাপনের সময় আদালত খন্দকার মাহবুব হোসেনকে প্রশ্ন করে বলে, ‘এটা কী?’ জবাবে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন’।
এ সময় আদালত বলে, ‘এ আদালতে এসেছেন কেন? এর আগে আমরা জামিনের আবেদন খারিজ করেছি। এরপর আপনারা আপিল বিভাগে গেলেন। আপিল বিভাগও আমাদের আদেশ বহাল রেখেছে। এরপরও কেন এসেছেন?’
জবাবে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘একবার খারিজ হলে নতুন গ্রাউন্ডে বারবার আসতে আইনে তো বাধা নেই। সে সুযোগ তো রয়েছে। তিনি (খালেদা জিয়া) গুরুতর অসুস্থ। তার অবস্থার অবনতি হয়েছে।’ এরপর আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে এবং শুনানির দিন ধার্য করে।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে সাত বছর কারাদ- দিয়ে রায় ঘোষণা করে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। এরপর এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে জামিনের আবেদন করা হয়। বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ গত বছরের ৩০ এপ্রিল এ আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে। এরপর জামিনের আবেদনের ওপর এ আদালতে শুনানি হয়।
শুনানি শেষে গত বছর ৩১ জুলাই খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। ওই খারিজের রায়ের বিরুদ্ধে গত বছর ১৪ নভেম্বর আপিল করেন খালেদা জিয়া। এ আবেদন গত বছর ১২ ডিসেম্বর খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ। এই খারিজের রায় প্রকাশিত হয় গত ১৯ জানুয়ারি। এ অবস্থায় চিকিৎসা করতে বিদেশ যাওয়ার জন্যে নতুন করে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 148 People

সম্পর্কিত পোস্ট