চট্টগ্রাম রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

রেলওয়ে কর্মকর্তার হাতে লেখা কোরআনের অনুলিপি

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ৪:২৭ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

রেলওয়ে কর্মকর্তার হাতে লেখা কোরআনের অনুলিপি

হাতে কোরআনের অনুলিপি তৈরি করে এলাকায় রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের একজন সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা। সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের খাজাপুর গ্রামের খাজা মুহম্মদ আব্দুল হালিম। প্রায় এক বছর সময় ব্যয় করে তৈরি করেছেন কোরআনের অনুলিপি। ডায়েরিতে বলপেন দিয়ে লিখেছেন তিনি। মুহম্মদ আব্দুল হালিম ১৯৫৮ সালে তৎকালীন শাহজাদপুর থানার পোরজনা ইউনিয়নের জামিরতা হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। সামসুল হুদা খান নামের আত্মীয়ের হাত ধরে যোগ দেন চট্টগ্রামের রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীতে। দীর্ঘ ৩৯ বছর চাকরি করে ১৯৯৭ সালে সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে চাকরি থেকে তিনি অবসরে যান।

কোরআন শিক্ষা ও কোরআন শরিফ হাতে লেখার নানা গল্প বললেন তিনি। বলেন, ‘১৯৫৮ সালে জামিরতা হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে ওই বছর আমি রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীতে যোগ দেই। দীর্ঘ চাকরিজীবনে ঢাকাতেই বেশি সময় কাটিয়েছি। ১৯৯৫ সালে রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর চিফ কমান্ডার এম এ রব আমাকে রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর চট্টগ্রাম ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করেন। কিছুটা মনঃক্ষুণ্ন হয়ে রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর চট্টগ্রাম ট্রেনিং সেন্টারে যোগ দিই। ট্রেনিং সেন্টারে তেমন কোনো কাজ না থাকায় সেখানকার মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. সাইফ উদ্দিনের কাছে আমি ও আমিনুজ্জামান নামের এক সহকর্মীর সঙ্গে বিশুদ্ধ কোরআন তিলাওয়াত শিখতে যাই। শিশুকালে আমার মা মোসা. হালিমা খাতুন ও ফুফা খাজা মজিবুর রহমানের কাছে প্রথম কোরআন শিখি। আমার ফুফা পাবনা শহরের রাধানগর জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন।’

খাজা মুহম্মদ আব্দুল হালিম আরো বলেন, ‘আমি প্রায় ২০ বছর আগে নিজ হাতে কোরআন শরিফের অনুলিপি তৈরির কাজ শেষ করি। তখন হয়ত কোনো কারণে লেখাগুলো কিছুটা ঝাপসা হয়ে যায়। আমার ছোট ভাই খাজা আবু সাইদ (মানিক) ও সৈয়দ আবদুর রশিদ (মতিন মিয়া) সেটি ফটোকপি করার পরামর্শ দেয়।’ তিনি জানান, ৩১৪ পৃষ্ঠার কোরআনের অনুলিপি তৈরি করতে তাঁর সময় লেগেছে প্রায় এক বছর। কালো কালির বলপেন লেগেছে পাঁচটি। কোরআনের পবিত্রতা রক্ষায় কালি ফুরিয়ে যাওয়া কলমগুলো যমুনায় নিক্ষেপ করেছেন। সৈয়দ মফিজুর রহমান রন্টুর দেয়া দুটি ডায়েরি সহযোগিতা করে। প্রতিদিন নিয়ম করে মাগরিবের নামাজ শেষ করে লিখতে বসতেন। সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য হাতে লেখা কোরআনের অনুলিপিটি জাতীয় জাদুঘরে দান করে দিয়েছেন তিনি।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

পূর্বকোণ/এম

        

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 196 People

সম্পর্কিত পোস্ট