চট্টগ্রাম সোমবার, ২৫ মে, ২০২০

মেয়র প্রার্থীর প্রতিক্রিয়া

২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ৩:০৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক হ ঢাকা অফিস

মেয়র প্রার্থীর প্রতিক্রিয়া

গতকাল শনিবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। ফলে নির্বাচন ছিল উৎসবমুখর। নির্বাচনে ভোট গ্রহণের পর নির্বাচন নিয়ে মেয়র প্রার্থীদের প্রতিক্রিয়া ছিল আওয়ামী লীগ বলেছে, ভোট সুষ্ঠ হয়েছে তবে ভোটার উপস্থিতি কম হয়েছে। কম হওয়ার কারণও তারা বলেছে। বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা ভোটের নানা অনিয়ম তুলে ধরে কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়া সহ কিছু অভিযোগ করেছে।
আতিকুল ইসলাম
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী

লীগ মনোনীত প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেছেন, দেশ উন্নতির দিকে যাচ্ছে তার প্রমাণ হলো ভোটার উপস্থিতি কম হওয়া। উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখবেন যে সেখানে মানুষের ভোট দেয়ার হার কমে থাকে। শনিবার ভোটগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি শুক্রবারের পর শনিবারও ছুটির দিন পাওয়ায় ঢাকার বাসিন্দাদের অনেকেই ঢাকার বাইরে বেড়াতে গিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন আতিকুল ইসলাম। আতিক বলেন, সারাদিনে যা দেখেছি তাতে নির্বাচন খুব সুষ্ঠু হয়েছে। আমি শতভাগ আশাবাদী ঢাকাবাসী আমাকে তাদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেবে। এর চেয়ে বড় কথা যে আওয়ামী লীগ দেশকে স্বাধীনতা দিয়েছে, দেশকে উন্নয়ন, দেশকে লাল সবুজের পতাকা দিয়েছে সে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় দেখেছি জনসভা পথসভা গুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। এখন অপেক্ষা বিজয় দেখার। আশা করছি জয় আমাদের পক্ষে আসবে ইনশাল্লাহ।

ব্যারিস্টার তাপস
নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোর হওয়া ও প্রচারণায় রঙিন ছবি ব্যবহার না করার কারণে ভোটারের সংখ্যা কম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস। শনিবার বিকেল ৪টার দিকে ভোটগ্রহণ শেষে রাজধানীর গ্রিনরোডে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ভোটের হার ৪০ শতাংশের মতো হতে পারে। তবে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোর না হয়ে সহজ করা হলে আরও বেশি ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করা যেত। এ ছাড়া সাদা-কালো ছবির চেয়ে রঙিন ছবি নিয়ে গেলে ভোটারদের আগ্রহ হয়তো আরও বাড়ত।
তবে প্রার্থীরা চেষ্টা করেছেন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে। এছাড়া আমরা গণসংযোগ করতে ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়েছি। তখন সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছিলেন। তাই আরও বেশি ভোটার উপস্থিতি আশা করেছিলাম। তাছাড়া মাত্র এক বছর আগে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কারণে স্থানীয় নির্বাচনে হয়তো অনেকে ভোট দিতে আসেননি। প্রতিপক্ষের অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের শুরু থেকেই তারা অভিযোগ করে যাচ্ছেন। অভিযোগের ঝুড়ি ভরে গেছে। তারা নির্বাচনে অংশ নিয়ে অভিযোগ তালিকা সম্পন্ন করতে পেরেছে। এসব অভিযোগ অমূলক।
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে তাপস বলেন, ভোটাররা সাদরে গ্রহণ করেছে। মেয়র নির্বাচিত হলে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে।

ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে (ডিএসসিসি) ভোটগ্রহণ চলাকালীন প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে বারবার কেন্দ্র দখল ও এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন বিএনপির মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন। তবুও হাল ছাড়েননি অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার এই জ্যেষ্ঠ ছেলে। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এক কেন্দ্র থেকে অন্য কেন্দ্রে চষে বেড়িয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের এই প্রার্থী।

শনিবার সকালে গোপীবাগে নিজের ভোট দিয়ে ইশরাকের এই ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শুরু হয়। এরপর একে একে দক্ষিণ সিটির সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজ, স্বামীবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নারিন্দা মহিলা সমিতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, করাতি টোলা সি.এম.এস মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রায়ের বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অর্ধশতাধিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

এসময় বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ইশরাক। এজেন্টদের বরাত দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, অধিকাংশ কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্টকে বের করা দেওয়া হয়েছে। কোথাও মারধর করে, কোথাও ভয়ভীতি দেখিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

ইশরাক নিজে উপস্থিত থেকে এজেন্টকে আবারও কেন্দ্রে প্রবেশ করান। একই সঙ্গে সকল প্রতিকূলতা অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত ভোটে থাকতে তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ সময় ভোট কেন্দ্রে তিনি পৌঁছালে ভোটাদের ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
পরিদর্শন শেষে ইশরাক সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অজুহাতে, জোর-জবরদস্তি করে আমাদের এজেন্টদেরকে বের করে দেয়া হচ্ছে। এতকিছুর পরও আমরা নির্বাচনে আছি। আমি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকার অঙ্গীকার করেছিলাম। সেই কথা রেখেছি।

The Post Viewed By: 67 People

সম্পর্কিত পোস্ট