চট্টগ্রাম বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০

১০ জুলাই, ২০২০ | ১২:৪৩ অপরাহ্ণ

মরিয়ম জাহান মুন্নী

বর্ষা আর কদম যেন দু’জনে দু’জনার

কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বর্ষার রূপ বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছেন-‘বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছো দান, আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান, মেঘের ছায়ায় অন্ধকারে রেখেছি ঢেকে তারে, এই যে আমার সুরের ক্ষেতের প্রথম সোনার ধান।’

রবি ঠাকুরের এ গানে বৃষ্টি আর কদম যেন দু’জন দু’জনের। প্রকৃতি তার রুষ্ট রূপকে বিদায় দিয়ে বরণ করেছে ঋতুরাণী বর্ষাকে। তীব্র গরম শেষে প্রকৃতিতে এসেছে সবুজের আবহ। ফুটেছে বর্ষার ফুল কদম। ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে গাছ। কিন্তু যান্ত্রিক সভ্যতা ও নগরায়ণের যুগে কমতে শুরু করেছে কদমগাছ। অথচ আদিকাল থেকে কদম ফুল বর্ষার প্রকৃতিকে রাঙিয়ে যাচ্ছে। কদমফুল ছাড়া বর্ষা যেন একেবারে একা, নিঃসঙ্গ। তবে নগরীতে এখন আগের মত কদম গাছ দেখা যায় না। আগে এ শহরে সবুজের সমাহার ছিল। ছিল নানা ফুল ও ফলের গাছ। আগের সেই চট্টগ্রাম শহর এখন আর নেই। এখন অট্টালিকার শহর। নগরীর বাকলিয়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রাজ্জাক আলী বলেন, এ শহরেই আমার বসবাস। আমার বাপ-দাদার ভিটা-বাড়ি এখানে। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখনকার চট্টগ্রাম শহর আর এখনের চট্টগ্রাম শহর আকাশ পাতাল তফাৎ। তখনের শহর যেন একটা স্বপ্নময় শহর ছিল। চারদিকে ছিল নানা রকম ফুল আর ফল গাছের সমাহার। কারণ চট্টগ্রাম শহর তো পাহাড়ি এলাকা। এখানে ছিল না এমন কোনো গাছ নেই। কিন্তু এখন এর ছিটে ফোঁটাও নেই। এক এক ঋতুতে প্রকৃতি এক এক রকম সাজতো। কি সুন্দর ছিল সেই দিনগুলো। বসন্তের এক রূপ, বৈশাখের আরেক সৌন্দর্য আর বর্ষাকালে বৃষ্টিস্নাত আকাশ যেন মন কেড়ে নিত। ছেলেদের বিকেলে মাঠে ফুটবল খেলার সেই মিষ্টি স্মৃতি মনে পড়লে এখনো মনকে দোলা দিয়ে যায়। আর বর্ষাকালে প্রকৃতির এক অপরূপ সৃষ্টি হচ্ছে এ কদম ফুল। যার সৌন্দর্য বিষণ্ন মনকে এক দেখায় ভালো করে দেয়। এখনতো আর সেই কদম ফুল দেখা যায় না। এ ফুলের অনেক মিষ্টি স্মৃতিও রয়েছে।

পাড়ার বড় ভাইয়েরা এ ফুল দিয়ে আপুদের প্রেম নিবেদন করতো। সেটা আবার আমরা যারা ছোট ছিলাম তাদেরকে দিয়ে করাতো। তার বিনিময়ে আমাদের নানা রকম খাবার দিত। তিনি বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরের যে দিকে তাকাই বড় বড় দালানকোঠা আর লাল-নীল রঙের বাতি ছাড়া কিছুই দেখা যায় না। ক্যালেন্ডার না দেখলে বুঝার উপায় নেই যে প্রকৃতিতে কখন কি ঋতু চলছে। আমাদের সন্তানরা তো প্রকৃতির আসল রূপ দেখেইনি। তারা যা দেখছে সবই কৃত্রিম। বিশুদ্ধ প্রকৃতির সান্নিধ্য মানুষের মনের উপরও একটি ভালো প্রভাব ফেলে। এতে মানুষ নিজেকে প্রকৃতির খুব কাছে আনতে পারে আর প্রকৃতির বিশুদ্ধতায় নিজেকে গড়ে তুলতে পারে।
পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 241 People

সম্পর্কিত পোস্ট