চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

২৭ এপ্রিল, ২০১৯ | ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ

সেকান্দর আলম বাবর

নান্দনিক আয়োজনে

এ নূর ব্লসম স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

সাংস্কৃতিক পরিম-লে সমসাময়িকে অনেকাংশে অনগ্রসর বোয়ালখালীর সৈয়দপুর এলাকা। এমনই বাস্তবতায় ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠার প্রয়াস আধুনিক শিক্ষা নিকেতন এ নূর ব্লসম স্কুলের। ধর্মীয়, আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত জাতীয় পাঠ্যক্রম অনুসরণের মাধ্যমে শিক্ষার মানের উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি এ বিদ্যা নিকেতনে জোর দেয়া হয় নৃত্য, গান, অভিনয়সহ একটি পরিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় সহশিক্ষা কার্যক্রমের ওপর।
গত রবিবার এ উপলক্ষে স্কুল প্রাঙ্গণে বসে নতুন পুরাতন শিক্ষার্থীর মিলন মেলায়। এলাকাবাসীসহ অনন্ত দুই সহস্রাধিক দর্শনার্থী উপভোগ করে দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নৃত্য, গান, অভিনয়, কৌতুক। পুরো সময়টা মাতিয়ে রাখে এক অন্যরকম ভালবাসায়। এর মাঝে অনুষ্ঠানে যোগ দেন স্থানীয় সাংসদ মঈন উদ্দিন খান বাদল। অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করতে স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ দরবারে গাউসে হাওলার পীর গদিনশীন সৈয়দ নঈমুল কুদ্দুস আকবরী (মা.জি.আ)ও বাদ যাননি। পবিত্র কুরআন, গীতা, বাইবেল পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সুচনা। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সেকান্দর আলম বাবরের উপস্থাপনায় শুরুতেই দলীয় নৃত্য ‘সুর্যোদয়ে তুমি, সুর্যাস্তেও তুমি’ দেশাত্ববোধক গান নিয়ে আসে ৫ম শ্রেণির ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। এরপর ৭ম শ্রেণির শিল্পীদের ‘সবুজের বুকে লাল’, ও দক্ষিণা ঝনঝন ঝনঝন বইলো’, ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতা’ ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ‘কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নাই মানা’-দর্শকদের আনন্দকে উচ্চ মানে নিয়ে যায়।
এবার শুরু হয় গানের পালা, শিল্পী নীলা দাশ, স্কুল শিক্ষক ফজলুল কবির, সেজুয়ান হোসেন, নাসরিন আকতার পিংকি শিক্ষার্থী মুনতাছির আলম তৃপ্ত, নির্জনা বড়–য়া, পিয়ন্তি বড়–য়া মাতালেন হাজারো দর্শককে। পেশাদারী শিল্পী না হলেও যেন নিজের সর্বোচ্চটা উজার করে দিতে চাইলেন সব। এরপর আবারো দলীয় নৃত্য ১ম ও ২য় শ্রেণির সোনামনিদের। ‘একদিন ছুুট হবে’, ‘বেহুরে লগন’ ‘তাকডুম তাকডুম বাজায়’ ‘ধিতাং ধিতাং বলে’ কিংবা স্বপ্ন যেন আজ ইচ্ছেমতো’-মন কাড়ার মতো অনেক কিছু ছিল। কৌতুক, মুখাভিনয় একের পর এক যেন সময়কে জয় করার পালা। “চিটাইংগে ভাষা কেন্দ্র, অসাবধানতা দুর্ঘটনার কারণ, প্রশ্ন ফাঁস কিংবা প্রাইভেট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর হালচাল” এ এক অন্যরকম আবহ সৃষ্টি করেছে। নৃত্যে “স্কুল খুইলাছেরে মওলা, ঢাকার পোলা, আয় তবে সহচরী, কর্ণফুলির সাম্পানওয়ালা, বাজেরে বাজে ঢোল, ওহে শ্যাম, ফুলে ফুলে প্রজাপতি’সহ তিনদশক নৃত্য পুরো অনুষ্ঠানকে মাতিয়েছে। এতে অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্কুল শিক্ষিকা নাজমা সুলতানা নুপুর ও তার শিক্ষার্থীদের দলীয় নৃত্যগুলো। পুরো অনুষ্ঠানটির কোরিগ্রাফার ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা নাসরিন আকতার পিংকি। সবিশেষে সকলের মুখে মুখে ছিল – সংস্কৃতি লালনে গত এক দশকে জুরি নেই এ নূর ব্লসম স্কুলের।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 297 People

সম্পর্কিত পোস্ট