চট্টগ্রাম সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

মডেল ও অভিনেত্রী সারিকা সাবরিন

২৫ জানুয়ারি, ২০২০ | ৫:৩০ পূর্বাহ্ণ

ইয়াসমিন আকতার

মডেল ও অভিনেত্রী সারিকা সাবরিন

সারিকা সাবরিন বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী। ২০০৮ সালে মডেলিং এর মাধ্যমে মিডিয়ায় পদার্পণ করেন। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে বেশ কিছু বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি টিভি নাটকেও অভিনয় করেছেন।

সারিকার জন্ম ১৯৯২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে। শফিয়ার রহমান ও রোজী রহমানের ঘরে। তার বাবা ব্যাংকের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মাতা ইংরেজি মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষক। তার প্রথম জীবনে, তিনি একজন পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু তার বন্ধুরা তাকে মডেলিং-এ ক্যারিয়ার গড়তে উৎসাহিত করেছিল। তিনি স্কুলে র‌্যাম্প মডেলিং শুরু করেন। কিন্তু তার বাবা-মা এটি পছন্দ করেননি। তারপর তিনি অধ্যয়নের উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসেন।
সারিকা আশুতোষ সুজন পরিচালিত ক্যামেলিয়া নাটকের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি বাংলালিংক টেলিযোগাযোগ ব্র্যান্ড দূত ছিলেন। সাবরিনের প্রথমবারের মতো বিজ্ঞাপনে করার সুযোগ অমিতাভ রেজা চৌধুরীর কাছ থেকে এসেছিল, যা অ্যারোমেটিক বিউটি সোপের বিজ্ঞাপন ছিল। বিজ্ঞাপনটি ২০০৮ সালে প্রচারিত হয়েছিল এবং সমালোচকদের দ্বারা সেরা মডেল বিভাগে বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেছিলেন। সেই প্রারম্ভিক সাফল্যের পর তিনি সিঙ্গার এবং অ্যারোমেটিক এর ব্র্যান্ড এম্ব্যাসডর হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি ওয়ালটন এবং কেয়া ব্র্যান্ড এম্ব্যাসেডর হন । তিনি বাংলালিংক এর বারোটি বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেছেন। এছাড়া তিনি প্রাণ, আমিন জুয়েলারী, এলিট মেহেদী ও ওয়ালটন বিজ্ঞাপনে মডেল হিসাবে অভিনয় করেছিলেন।

সারিকার পূর্ব পুরুষদের বাড়ি কলকাতায়, বাবা ঘর বেঁধেছিলেন সাতক্ষীরায় আর এখন পুরো পরিবারই মিডিয়া শহর ঢাকার বাসিন্দা। হুট করেই অমিতাভ রেজার পরিচালনায় একটি বিজ্ঞাপনচিত্র দিয়ে ২০০৮ এর দিকে মিডিয়ায় হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন মডেল ও অভিনেত্রী সারিকা। পত্রিকার বিনোদন পাতায়, টেলিভিশন পর্দায়, বিলবোর্ডে এবং সাধারণ মানুষের মনে অল্প সময়েই জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। ব্যস্ততা বেড়ে যায় টেলিভিশন নাটকে। জনপ্রিয়তা তুঙ্গে উঠতে থাকে। প্রস্তাব আসে চলচ্চিত্রেরও। সারিকা যেন সত্যিই তারা হয়ে আকাশে ভাসতে থাকলেন। কিন্তু তিনি হয়তো জানেন না আকাশের তারাও মাঝে মাঝে খসে পড়ে। সে দৃশ্য খুব বেশি মানুষের দেখা হয় না। তারকাদের পতনও নীরবেই ঘটে। সারিকা নামের এ তারকার পতনও অনেকটা নীরবেই ঘটেছে। অভিনয় জগত ছেড়ে এখন তিনি স্বামী-সংসার নিয়ে দিব্যি সুখে রয়েছেন।
অভিনয় জীবন :

টিভি নাটকে সারিকার হাতেখড়ি ২০০৯ সালে। ওই বছর আশুতোষ সুজনের পরিচালনায় রবীন্দ্র জয়ন্তীর বিশেষ নাটক ‘ক্যামেলিয়া’য় অভিনয় করেন। নাটকটি প্রচারের পর পরই একের পর এক নাটকের অফার তার পিছু নেয়। সারিকা অভিনীত জনপ্রিয় নাটকের মধ্যে রয়েছে মোহন খানের ‘রাধা তুমি কার’, এস এ হক অলিকের ‘গেন্দুচোরা ও প্রেম কাহিনী’, অরুণ চৌধুরীর ‘রুমালী’, হিমেল আশরাফের ‘প্রেমের বেদনা’, চয়নিকা চৌধুরীর ‘আহা বালিকা’, ও ‘বিকেলে সোনা রোদ’, সাইফ চন্দনের ‘একটু বোকামি অনেকটা পাগলামি’ প্রভৃতি।

প্রেম-ভালোবাসা ও বিয়ে :
৮ বছর আগে বান্ধবী সুমাইয়ার একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে হোটেল ওয়েস্টিনে মাহিমের সঙ্গে সারিকার পরিচয়। সেদিনই সারিকাকে ভীষণ ভালো লেগে যায় মাহিমের। কিছু দিনের মধ্যেই সারিকার সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে যায় মাহিমের। ২০১৩ সালে এসে মাহিম অনুভব করেন সারিকা কেবল একজন বন্ধু নন, এর চাইতে বেশি কিছু। অপেক্ষা না করে তিনিই প্রথম সারিকাকে ভালোবাসার কথাটি জানিয়ে দেন। পুরনো বন্ধুর মুখে ভালোবাসার কথা শুনে অবাকই হয়েছিলেন সারিকা। তিনিও মনে মনে মাহিমকে ভালোবেসে ফেলেছিলেন বলে মাহিমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেননি। এরপর এক বছর প্রেম করে বিয়ের কাজটা সেরেই ফেললেন ৭ বছরের পুরোনো বন্ধুর সাথে। মাহিম করিম পেশায় ব্যবসায়ী। ২০১৪ সালের ১২ আগস্ট রাতে ঘরোয়া আয়োজনে তার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 198 People

সম্পর্কিত পোস্ট