চট্টগ্রাম সোমবার, ২৫ মে, ২০২০

সর্বশেষ:

রোবট আবিষ্কারের কথা

২১ জানুয়ারি, ২০২০ | ৫:৪১ পূর্বাহ্ণ

রোজী আকতার

রোবট আবিষ্কারের কথা

রাত্রে ঘুমোতে যাচ্ছো কিন্তু মশারি টানাতে খুব আলসেমী লাগছে। সমস্যা নেই, তুমি রোবটটিকে বলে দিলে, সে-ই আপনার মশারি টানিয়ে দেবে।
সকালে ঘুম ভাঙলো বিছানা ছেড়ে উঠলে, শীতের ভয়ে গোসলে যেতে ইচ্ছে করছে না অথচ গোসল না করে তোমার স্কুলে যেতে মন সায় দিচ্ছে না। একটু গরম পানি হলে খুব আরামের সাথেই গোসলটা সেরে নিতে পারো! সমস্যা নেই, রোবটটাকেই বলে দিলে, গরম পানি রেডি হয়ে যাবে।
ঘুম থেকে উঠে ঘুমোনো পর্যন্ত তোমার সকল কাজই করে দিতে পারবে মানুষের তৈরি রোবট যাকে তুমি যন্ত্রমানব বলতে পারেন। এবার এই যন্ত্রমানব, রোবট সম্পর্কে জানি।
রোবট একটি মেশিন বা যন্ত্র যা কারো দ্বারা কম্পিউটারে প্রোগ্রাম করা হয় এবং যা নানা ধরনের জটিল কাজ করে দিতে পারে। ইন্টারনাল অথবা এক্সটারনাল কন্ট্রোলিং ডিভাইসের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হয়। রোবটকে সাধারণত মানুষের আকৃতিতে তৈরি করা হলেও অন্যান্য অনেক আকৃতিতেই রোবট দেখা যায়।
১৯২৩ সালে চেক নাট্যকার কারেল কাপেক তাঁর ‘রসামস ইউনিভার্সাল রোবটস’ বইতে চেক ভাষায় ‘ রোবট’ শব্দটা প্রথম ব্যবহার করেন। ১৯৪০ সালে বিখ্যাত মার্কিন কল্পবিজ্ঞান গল্পকার আইজ্যাক অ্যাসিমভ রোবট সংক্রান্ত বিষয়ের নাম দেন রোবটিক্স।
রোবট প্রধানত দুই রকমÑ সার্ভো কন্ট্রোলড এবং নন-সার্ভো কন্ট্রোলড। নন-সার্ভো কন্ট্রোলড রোবটের ব্যাপারটা অপেক্ষাকৃত সহজ। এই ধরনের রোবটের কাজকর্মও একটু স্থুল ধরনের। সাধারণত এই ধরনের রোবট একটা নির্দিষ্ট অক্ষ বরাবর সমবেগে সামনে বা পিছনে চলাচল বা নড়াচড়া করে। বাঞ্ছিত জায়গায় থামানাের জন্যে নিয়ন্ত্রণ সুইচ ব্যবহার করা হয়। নন-সার্ভো কন্ট্রোলড রোবটে সাধারণত যে অংশগুলো থাকে, তা হলÑ শক্তি উৎস, প্রোগ্রামার, ক্রম নির্ধারক, রোবট ড্রাইভ, রোবট প্রত্যঙ্গ, নিয়ন্ত্রণ সুইচ, ইন্টারলক।
সার্ভো কন্ট্রোলড রােবট অনেক জটিল এবং উন্নতমানের। এই ধরনের রােবট অনেক দিকে নানান জটিল প্রক্রিয়ার সূক্ষ্ম কাজ করতে পারে। অনেক রোবটই নানা ধরনের সংবেদক ব্যবহৃত হয়। এই ধরনের একটা রোবটের মূল অংশগুলাে অনেকটা এই রকমÑ সমবর্তী প্রবাহ বিভব উৎস, রোবট প্রত্যঙ্গ নির্দেশক পোটেনসিওমিটার, রোবট প্রত্যঙ্গের সংবেদক পোটেনসিওমিটার, তৌলিক, প্রবর্ধক এবং শোধক, শক্তি উৎস, কপাটক, হাইড্রোলিক বেলন, রোবট প্রত্যঙ্গ।
রোবট হচ্ছে এমন এক যন্ত্র, যাকে আগে থেকে ঠিকমতো প্রোগ্রাম করে দিলে নানা ধরনের কাজ সুষ্ঠভাবে ক্রমানুসারে বা অবস্থানুসারে করে ফেলতে পারে। যেমন- কারখানায় স্কু লাগানো, ওয়েল্ডিং করা, ছিদ্র করা, ভারী জিনিস এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি।
পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্রের মতো তেজস্ক্রিয় জায়গায় রোবট ব্যবহার করা হয়। এছাড়া আগুন নেভানো, মহাকাশ গবেষণা, বিস্ফোরণ অনুসন্ধান, এসবেও ব্যবহার করা হচ্ছে রোবট। জাপান এবং ব্রিটেনে এমন রোবট বানানো হয়েছে যা অন্ধ লোককে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে।
নন-সার্ভো কন্ট্রোলড রােবট কীভাবে কাজ করে সেটা আগে দেখা যাক। শক্তি উৎস বৈদ্যুতিক, হাইড্রোলিক বা বাত-তিন রকমই হতে পারে। শক্তি উৎসই প্রয়েজনীয় শক্তির যোগান দেয়। কাজের ক্রম বা ধারাবাহিকতা ঠিক করা হয় প্রোগ্রামার দিয়ে। রোবট প্রত্যঙ্গ সাধারণভাবে সর্বাধিক ছয়রকম নড়াচড়া করতে পারে। নিয়ন্ত্রণ সুইচ সঠিক সময়ে নড়াচড়া বন্ধ করে। বিভিন্ন রোবট ড্রাইভে পর্যায়ক্রমে শক্তি যোগান দেয় ক্রম নির্ধারক। নিয়ন্ত্রণ সুইচ থেকে আসা সংকেত ক্রম নির্ধারককে সক্রিয় করে। ক্রম নির্ধারক রােবটের বিভিন্ন ড্রাইভে শক্তি যুগিয়ে কাজের পুরো পর্যায়টা সমাধা হয়। ইন্টারলক ব্যবস্থা থাকার ফলে ধাক্কা লেগে ক্ষতি হওয়ার ভয় কম থাকে।
সার্ভো কন্ট্রোলড রোবটের কার্যপদ্ধতির মূল পার্থক্যটা হলো, এই ধরনের রােবট দুটো সংকেতের তুলনার দ্বারা এর গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত হয়। কোনাে একটা নির্দেশের জন্যে যে সংকেত থাকা উচিত, তার সঙ্গে রোবট-প্রত্যঙ্গের প্রকৃত অবস্থানজনিত সংকেতের তুলনা করা হয় তৌলিকে। রোবটের মূল অংশ হচ্ছে প্রোগ্রামার। এটা আসলে এক ধরনের কম্পিউটার। এছাড়া রােবট প্রত্যঙ্গও খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে থাকে নানান ধরনের যান্ত্রিক ব্যবস্থা। সংবেদক হিসাবে থাকে ভিডিকন নল, ক্যামেরা ইত্যাদি।

The Post Viewed By: 74 People

সম্পর্কিত পোস্ট