চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২০

সর্বশেষ:

কামাল খাঁ’র রাঙা ঘোড়ায় চড়ো

১০ মার্চ, ২০২০ | ৩:০৭ পূর্বাহ্ণ

মোহাম্মদ অংকন

কামাল খাঁ’র রাঙা ঘোড়ায় চড়ো

ছড়াকাররা ছন্দ নিয়ে খেলা করেন। শব্দকে ছড়ায় খেলিয়ে একটি সার্থক ছড়া তৈরি করেন। ছড়াটি পাঠের সময় মুখে একবারের জন্যও আটকে যায় না যেন সেদিকে ছড়াকাররা নজর দেন সব সময়। ছড়ায় ছন্দে খেলিয়ে চমৎকার সব ছড়া লিখেছেন ছড়াকার কামাল খাঁ। চল্লিশটি ছড়া নিয়ে বইটির নাম দিয়েছেন ‘রাঙা ঘোড়ায় চড়ো’।
বর্তমান সময়ের অন্যতম অনুষঙ্গ ফেসবুক। যা ছাড়া আমাদের একদিনও চলে না। সেই ফেস বুক নিয়ে তিনি লিখেছেন- বাসে ট্রেনে যেতে যেতে/ চা ও কফি খেতে/ ফেসবুকচলে/ ফেসবুক চলে আহা/ ফেসবুক চলে।‘ফেসবুক’ ছড়ায় বাস্তবাকে তুলে ধরেছেন। কামাল খাঁ ছড়ায় ছন্দ প্রয়োগের পাশাপাশি রস দিতেও পারদর্শী। ‘জাপানি’ ছড়ায় লিখেছেন- লোকটা ছিল জাপানি/ খেতো শুধু চা-পানি/ হঠাৎ জ¦রে কাঁপানি/ হায়রে সে কী দাপানি। ‘চাটুকার’ ছড়ায় লিখেছেন- চাটুকার পা চাটে/ নো পিঠ গা চাটে।/ চেটে চেটে তুষ্ট/ হয় পরিপুষ্ট। ‘তিলকেতাল’ ছড়ায় লিখেছেন- তিলটাকে তাল করে দেখি/ আপনি ভীষণ ফাঁপাচ্ছেন/ তারও পরে বক্তৃতাতে/ মঞ্চ একাই কাঁপাচ্ছেন। সার্থক ছন্দ প্রয়োগ ও হাস্য-রসাত্মক করে তোলায় ছড়াগুলো যেন পূর্ণতা পেয়েছে।
‘রাঙা ঘোড়ায় চড়ো’ বইটিতে হরেক রকমের ছড়া আছে। নববর্ষের ছড়া আছে, বাংলা ভাষার ছড়া আছে, ব্যাঙ্গাত্মক ছড়া তো আছেই। ‘গপ্পো’ ছড়ায় লিখেছেন- কী খান না- খান/ চাখান/ বলুন কেমন/ পা খান। ‘চাইন্দা’ ছড়ায় লিখেছেন- ‘বাড়ি কই-/ চাইন্দা?/ ওরে ফালা বাইন্দা। ‘সাক্ষাৎকার’ ছড়ায় লিখেছেন- কিমুন আছেন মামু/ একটু পরে যামু।/ কিমুন আছেন বলেন/ তাইলে লগে চলেন। তার বেশ কিছু ছড়ায় এমন আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহারও আছে, এটি তারই প্রমাণ। ‘বক্কর’ ছড়ায় লিখেছেন- গ্রাম থেকে ঢাকা আসে/ আলী আবু বক্কর,/ ঢাকা এসে গাড়ি চড়ে/ লক্কর ঝক্কর। ঢাকা শহরের ফিটনেসবিহীন গাড়ির রূঢ় বাস্তবতা যেন এ ছড়া ফুটে উঠেছে।
বইটিতে গ্রামের ছড়া উঠে এসেছে, উঠে এসেছে শহর-নগরের ছড়া। শহরের মানুষ যখন যানজটে পড়ে, তখন চলার উপায় কি? ‘রাঙা ঘোড়ায় চড়ো’ ছড়ায় লিখেছেন- দাঁত খিচিয়ে লাভ হবে না/ রাস্তা করো বড়ো/ আর না-হলে যান ছেড়ে সব/ রাঙা ঘোড়ায় চড়ো। শহরের নানান স্থানের নানান নাম। সেসব নামের কাজ কেমন তা লিখেছেন ‘নামের বাহার’ ছড়ায়। রাজার বাগে ফিরতো যদি রাজা/ হতো খবর দারুণ মজার তাজা।/ কাঁঠালবাগান, কলাবাগান নামে/ আসলে নাই সত্যিকারের কামে। ‘রাঙায় ঘোড়ায় চড়ো’ বইয়ের ছড়াগুলো ছোটদের যেমন আনন্দ দিবে, তেমনি বড়রাও আনন্দের খোরাক পাবে। সব মিলিয়ে ছন্দের দোলায় দুলুনিটা ছড়াকার কামাল খাঁ ভালোভাবেই দিতে পেরেছেন। তাইতো ছোটদের সঙ্গে বড়রাও ছড়াগুলো পাঠের মাধ্যমে ছন্দের দোলনায় দুলবে। দুলতে দুলতেই তারা ঘুরেআসবে বন-বাদাড়, নদী-সমুদ্র, পাহাড়-পর্বত। রাঙা ঘোড়ায় চড়ে আমাদের শিশুমন ছুটতে চায় দেশ-বিদেশে, ছড়াগুলো পাঠ করলে এমন উপলব্ধির সঞ্চারও হবে।

The Post Viewed By: 108 People

সম্পর্কিত পোস্ট