চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০

সর্বশেষ:

শিশুতোষ চলচ্চিত্রের গল্প

৩ মার্চ, ২০২০ | ১:৫০ পূর্বাহ্ণ

হৃদয় সাহা

শিশুতোষ চলচ্চিত্রের গল্প

শিশু-কিশোরদের মনন জগতের মানসিক বিকাশ ও নির্মল বিনোদনের জন্য নির্মিত সিনেমাই মূলত শিশুতোষ চলচ্চিত্র। বিভিন্ন দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির মতো বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতেও বিভিন্ন সময়ে শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।
স্বাধীনতার আগে ফজলুল হক পরিচালিত ‘সান অব পাকিস্তান’ (১৯৬৬) একমাত্র শিশুতোষ চলচ্চিত্র হিসেবে স্বীকৃত। কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের গল্প নিয়ে নির্মিত অ্যাডভেঞ্চার কাহিনীভিত্তিক এই ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছিলেন ফরিদুর রেজা সাগর। সিনেমাটি তেমন সফল না হলেও বাংলাদেশের প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার পরে ১৯৭৮ সালে ড. আশরাফ সিদ্দিকীর স্কুলপাঠ্য গল্প ‘গলির ধারের ছেলেটি’কে ‘ডুমুরের ফুল’ নামে চলচ্চিত্রায়ন করেন খ্যাতিমান পরিচালক সুভাষ দত্ত। তবে ছোটদের জন্য এটি নির্মিত হয়নি। কিন্তু দারিদ্র্যক্লিষ্ট এক কিশোরের জীবনকাহিনী বর্ণিত হওয়াই এটি শিশু-কিশোরদের বিশেষ আকর্ষণ করেছে।

তবে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ শিশুতোষ চলচ্চিত্র ধরা হয় ১৯৮০ সালে নির্মিত বাদল রহমানের ‘এমিলের গোয়েন্দাবাহিনী’কে। এটি ছিল সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র। গোয়েন্দাভিত্তিক এই ছবিটি জনপ্রিয়তা পাওয়ার পাশাপাশি সেরা চলচ্চিত্রসহ মোট ৫টি শাখায় জাতীয় পুরস্কার অর্জন করে। একই বছর মুক্তি পায় আজিজুর রহমানের কালজয়ী ছবি ‘ছুটির ঘণ্টা’। ছবিটি এখনো দর্শকপ্রিয়। মূলত এই ছবির পরই বাংলা চলচ্চিত্রে শিশুরা বিশেষ স্থান করে নেয়। ১৯৮০ সালে শিশুতোষ ছবি আরেকটি মুক্তি পায়। খান আতাউর রহমান পরিচালিত ছবিটির নাম ‘ডানপিটে ছেলে’। ছবিটি তখন আলোচিত হওয়ার পাশাপাশি একাধিক শাখায় জাতীয় পুরস্কার লাভ করে। ১৯৮৩ সালে মুক্তি পায় সি বি জামানের জনপ্রিয় শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘পুরস্কার’। এটি ছিল কিশোর অপরাধ নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ছবি। জনপ্রিয়তার পাশাপাশি এটি সেরা চলচ্চিত্রসহ মোট ৫টি পুরস্কার লাভ করে। আশির দশকে শিশুদের অন্যতম প্রধান চরিত্র করে বেশ কয়েকটি ছবি নির্মিত হয়। এর মধ্যে মাসুম, এতিম, রামের সুমতি, ক্ষতিপূরণ, রাঙা ভাবী অন্যতম।
আশির দশকে বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে শিশুদের বিশেষ স্থান দেয়া হয়েছিল, তা নব্বই দশকে এসে ক্রমশ কমতে থাকে। এর মাঝেও ১৯৯৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘দীপু নাম্বার টু’ বেশ আলোচিত হয়। ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের কিশোর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিটি সরকারি অনুদানে নির্মাণ করেন মোরশেদুল ইসলাম। শিশুতোষ চলচ্চিত্র হিসেবে এই ছবিটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। প্রথম ছবি নির্মাণের ২০ বছর পর বাদল রহমান ১৯৯৯ সালে নির্মাণ করেন শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘ছানা ও মুক্তিযুদ্ধ’। হুমায়ূন আহমেদের আগুনের পরশমণি (১৯৯৪) সিনেমার শিশু চরিত্র দুটি দর্শকদের নজর কাড়ে, দুটি চরিত্রের শিশুশিল্পী শীলা আহমেদ ও পুতুল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে।

২০০০ পরবর্তী সময়ে আবার বাংলা চলচ্চিত্রে শিশুদের নিয়ে ভাবা শুরু হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’। সত্তরের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ছবিটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কার লাভ করে। বাংলাদেশের অস্কারযাত্রা এই ছবির মাধ্যমে। ২০০৪ সালে হুমায়ূন আহমেদের কাহিনী নিয়ে মোরশেদুল ইসলাম নির্মাণ করেন ‘দূরত্ব’। একে একে নির্মিত হয় লিলিপুটরা বড় হবে, কাবুলিওয়ালা, দূরবীনসহ বেশকিছু শিশুতোষ চলচ্চিত্র। বাণিজ্যিক ধারায় ও শিশু চরিত্রের প্রভাব পড়তে থাকে, এর মধ্যে ‘চাচ্চু’ উল্লেখযোগ্য।

The Post Viewed By: 101 People

সম্পর্কিত পোস্ট