চট্টগ্রাম রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২০

সর্বশেষ:

ঝুলে যাচ্ছে ৫শ কোটি টাকার দুই প্রকল্প

৬ জুন, ২০২০ | ১২:১৯ অপরাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম

চসিকে করোনার থাবা

ঝুলে যাচ্ছে ৫শ কোটি টাকার দুই প্রকল্প

২৩৩ কোটি টাকার সেবক কলোনি নির্মাণ প্রকল্প এবং ২৬০ কোটি টাকার এলইডি বাতি স্থাপন প্রকল্প

করোনা ভাইরাসের থাবা পড়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন প্রকল্পেও। সরকার ব্যয় সংকোচন করতে গিয়ে চসিকের প্রায় ৫০০ কোটি টাকার দুইটি প্রকল্প ঝুলে যাচ্ছে। প্রকল্প দুইটি হল ২৩৩ কোটি টাকার সেবক কলোনি নির্মাণ এবং ২৬০ কোটি টাকার নগরীর এলইডি সড়কবাতি স্থাপন। মহামারি ঠেকাতে অতিরিক্ত অর্থের যোগান দিতে গিয়ে প্রকল্প দুইটিকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ফেলেছে মন্ত্রণালয়। তাই প্রকল্প দুইটি অর্থ ছাড় হবে অত্যন্ত ধীর গতিতে।
বিষয়টি স্বীকার করে চসিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন পূর্বকোণকে জানান, সিটি কর্পোরেশনের চারটি প্রকল্প ‘এ’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে। দুইটি প্রকল্প ‘বি’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে। তবে ‘এ’ ক্যাটাগরির প্রকল্পসমূহ স্বাভাবিকভাবে অর্থ বরাদ্দ পাবে। ‘বি’ ক্যাটাগরির প্রকল্পসমূহ একটু কম অর্থ বরাদ্দ পাবে। তবে বি ক্যাটাগরির প্রকল্পসমূহের কাজও চলবে।
চসিক পরিচ্ছন্নকর্মী ও সেবকদের জন্য আবাসন প্রকল্প : এ আবাসন প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চসিক পরিচ্ছন্নকর্মী ও সেবকদের জীবন-যাত্রার মান অনেকখানি পাল্টে যাবে। সিটি মেয়রের একান্ত আগ্রহে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। চসিকের পরিচ্ছন্নকর্মীরা আবাসন ব্যবস্থার দিক দিয়ে অত্যন্ত মানবেতন জীবনযাপন করেন। পরিচ্ছন্নকর্মী আব্দুল গফুর ও রমজান আলী জানান, চসিকে তারা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সেবকের কাজ করে করছেন। এখনো পর্যন্ত কোন স্থায়ী ঠিকানা পাননি। পরিবার-পরিজন নিয়ে দুঃখে কষ্টে দিনাতিপাত করেছেন। প্রকল্প গ্রহণের কথা শুনে তারা খুশি হয়েছেন। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে প্রকল্পের অর্থ ছাড়ে ধীর গতির কথা শুনে কষ্ট পেয়েছেন। সেবকরা জানান, তারা যেভাবে কষ্টের মধ্যে পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকছেন, তাদের আবাসন প্রকল্পটি ‘এ’ ক্যাটাগরির হওয়া উচিত ছিল। তারা আশা করছেন সরকার তা বিবেচনা করবে।
আলোকায়ন প্রকল্প : নগরীতে আলোকায়নের লক্ষে সড়কসমূহে ২০ হাজার ৬০০ এলইডি সড়কবাতি লাগানোর এই প্রকল্প গ্রহণ করেছে চসিক। তবে করোনা মহামারির থাবা পড়েছে প্রকল্পে। প্রকল্পটি ‘বি’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে মন্ত্রণালয়। অর্থাৎ এর অর্থায়ন হবে ধীর গতিতে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চসিক এলইডি বাতির সাহায্যে ৪৬৬ কিলোমিটার সড়ক আলোকায়নের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছিল। এলইডি বাতির ক্ষেত্রে ৫ বছর রক্ষণাবেক্ষণ খাতে কোনো খরচই থাকবে না। নগরের ৪১ ওয়ার্ডের সড়ক আলোকায়ন ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন কাজ শীর্যক প্রকল্পটি ২০২১ সালের জুনে সম্পন্ন হওয়ার কথা। প্রকল্পটি বৈদেশিক মুদ্রা ঋণ সহায়তা ও সরকারের নিজস্ব অর্থে বাস্তবায়িত হবে। যার মধ্যে ভারত সরকার ঋণ দিচ্ছে ২১৪ কোটি ৪৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা এবং জিওবি থেকে ৪৬ কোটি ৪৩ লাখ ৫ হাজার টাকা।
উল্লেখ্য, গুরুত্বের বিষয় বিবেচনা করে সরকার উন্নয়ন প্রকল্পসমূহকে তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে। এ ক্যাটাগরির প্রকল্পসমূহ হল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বি ক্যাটাগরির প্রকল্প মাঝারি গুরুত্বপূর্ণ। আর সি ক্যাটাগরির প্রকল্প হচ্ছে একেবারে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। সিটি কর্পোরেশনে সি ক্যাটাগরির প্রকল্প নেই। ‘এ’ ক্যাটাগরির প্রকল্পে বরাদ্দ শতভাগ সচল রাখা, ‘বি’ ক্যাটাগরির প্রকল্প বাস্তবায়নে ৬০ শতাংশ বরাদ্দ নিয়মিত রাখার কথা বলা হয়। আর ‘সি’ ক্যাটাগরির প্রকল্পে আপাতত: আর্থিক সংস্থান না করার কথাও উল্লেখ করা হয় নির্দেশনায়।

The Post Viewed By: 143 People

সম্পর্কিত পোস্ট