চট্টগ্রাম বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০

২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রেকর্ড ধস ভারতের জিডিপিতে

ভারতের জিডিপি-তে ব্যাপক ধস নেমেছে। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাসে বা প্রথম আর্থিক কোয়ার্টারে দেশটিতে জিডিপি-র সংকোচন হয়েছে ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ। গত ৪০ বছরে ভারতে জিডিপি-র এতটা সংকোচন আরও কখনও হয়নি। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান দফতরের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের জিডিপি-র বিশাল পতন হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দেশটি এরইমধ্যে আর্থিক মন্দার মধ্যে প্রবেশ করেছে। এই পতন কেবল প্রথম তিন মাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর পরের তিন মাসেও পতনের ধারা বজায় থাকলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

পরিস্থিতি যে ভালো নয় তা সম্প্রতি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের মন্তব্য থেকেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিলে। তিনি বলেছিলেন, কোভিডের পেছনে ঈশ্বরের হাত আছে। তাই এবার রাজ্যগুলিকে জিএসটি-র ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব নয়। রাজ্যগুলো যেন রিজার্ভ ব্যাংক থেকে অর্থ ধার নেয়। এরপর শুধু বিরোধী শাসিত রাজ্য নয়, অনেক বিজেপি শাসিত রাজ্যও দাবি করেছিল, কেন্দ্রীয় সরকার রিজার্ভ ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিক এবং রাজ্যকে দিক। তারাই সুদ পরিশোধ করুক। রাজ্যগুলোর ঋণ নেওয়া মানে তাদেরই সুদ দিতে হবে। সেটা রাজ্য দিতে পারবে না। আর জিএসটি আইন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারকেই পাঁচ বছর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, দীর্ঘদিন লকডাউনের জেরে আর্থিক কার্যকলাপ বন্ধ ছিল। তাই এই অবস্থা হয়েছে। এখন আনলক পর্ব চলছে। এবার সব ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। জিডিপি-র হারও বাড়বে। সরকারের প্রধান আর্থিক উপদেষ্টা বলেছেন, এতে ঘাবড়ানোর কারণ নেই। করোনার জন্য সব দেশের অর্থনীতিতে দ্রুত পতন হয়েছে, এখন আবার দ্রুত উত্থান হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনায় গরিব ও অন্যদের সাহায্য করতে গিয়ে সরকরি খরচ ১৬ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে রাজস্ব আদায় অনেকটাই কমে গেছে। এই অবস্থার মধ্যে কোনও অস্বাভাবিকতা নেই। দেশের অর্থনীতি আবার দ্রুত তার নিজের জায়গায় ফিরে যাবে।

কিছু অর্থনীতিবিদ ও বিরোধী নেতাদের মতে, বিষয়টি এত সহজ নয়। তাদের মতে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়ার্টারেও জিডিপির ১০ থেকে ১৫ শতাংশ সংকোচন হতে পারে। আর অর্থনীতির এই হাল একদিনে হয়নি। মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র বলেছেন, ‘’জিএসটি নেটওয়ার্কের প্রধান নন্দন নীলকার্নি বলেছিলেন, জিএসটি-তে ৭০ হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি হয়েছে। তাই ভগবান নয়, জালিয়াতির হাত দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।’

চিদাম্বরমের মতে, ‘মোদি সরকার যে আর্থিক নীতি নিয়ে চলেছে, দেশ তার মূল্য দিচ্ছে।’ সূত্র: ডিডব্লিউ।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 107 People

সম্পর্কিত পোস্ট