চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২০

সর্বশেষ:

বন্যপ্রাণী ধ্বংস না কমালে প্রাদুর্ভাব বাড়ার আশঙ্কা জাতিসংঘের
বন্যপ্রাণী ধ্বংস না কমালে প্রাদুর্ভাব বাড়ার আশঙ্কা জাতিসংঘের

৭ জুলাই, ২০২০ | ৪:০৩ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বন্যপ্রাণী ধ্বংস না কমালে প্রাদুর্ভাব বাড়ার আশঙ্কা জাতিসংঘের

কোভিড-১৯ এর মতো রোগের প্রাদুর্ভাবের জন্য জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা প্রাণিজ প্রোটিনের উচ্চ চাহিদা, কৃষির অপরিবর্তনীয় ধরণ ও জলবায়ুর পরিবর্তনকে দায়ি করেন। বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষিত রাখার পদক্ষেপ না নেয়া হলে এ রকম প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে রোগ ছড়িয়ে পড়া চলতে থাকবে বলে সতর্ক করেন তারা।

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচী ও আন্তর্জাতিক প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেছেন বলে জানায় বিবিসি।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, “এনথ্রাক্স, বোভাইন টিউবারকুলোসিস ও জলাতঙ্কের মতো স্থানীয় জুনোটিক রোগগুলোতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে প্রতি বছর ২০ লাখ লোক মারা যায়। এগুলো প্রায়ই জটিল উন্নয়ন সমস্যাযুক্ত, গবাদিপশুর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল ও বন্যজীবের সান্নিধ্যে থাকা সমাজগুলোতেই ঘটেছে।”

কিন্তু মানুষের মাঝে এসব সংক্রমণ প্রাকৃতিকভাবে ছড়ায়নি, এগুলোকে ডেকে নিয়ে আসা হয়েছে। আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি করার মাধ্যমে এটি করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে ভূমির অবক্ষয়, বন্যপ্রাণী নিধন ও অবৈধভাবে সেগুলোকে বন্দি করা, খনিজ সম্পদ আহরণ ও জলবায়ু পরিবর্তন। এসব প্রক্রিয়া প্রাণী ও মানুষের মধ্যে যোগাযোগে উপায়কে পরিবর্তিত করে দিচ্ছে বলে জানান তারা।

বিশেষজ্ঞদের এই প্রতিবেদনে ভবিষ্যত প্রাদুর্ভাবগুলো প্রতিরোধে সরকারগুলোকে বিভিন্ন কৌশল গ্রহণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, এগুলোর মধ্যে টেকসই জমি ব্যবস্থাপনাকে উৎসাহিত করা, জীববৈচিত্র্যের উন্নয়ন ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বিনিয়োগ অন্যতম।

এদিকে, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচীর আন্ডার-সেক্রেটরি জেনারেল ও নির্বাহী পরিচালক ইঙ্গর আনাসন বলেন, “গত দুই দশকে এবং কোভিড-১৯ এর আগে জুনোটিক রোগে কারণে ১০০ বিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।’’ এছাড়া গত ৫০ বছরে বিশ্বজুড়ে মাংস উৎপাদন ২৬০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন “বনের জায়গা দখল করে আমরা কৃষির সম্প্রসারণ ঘটিয়েছি, অবকাঠামো গড়ে তুলেছি ও খনিজ সম্পদ আহরণ করেছি। এসব বনজঙ্গল ধ্বংস, বন্যপ্রাণী শিকার করতে থাকলে আগামী বছরগুলোতে আমরা প্রাণী থেকে মানুষের মাঝে এই রোগগুলোর নিয়মিতভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশা করতে পারি।’’

তাই আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদের উপর আরও বোশি যত্নবান ও বন্যপ্রাণী শিকার করা থেকে বিরত থাকতে হবে বলেও জানান তিনি।

পূর্বকোণ/এএ

The Post Viewed By: 77 People

সম্পর্কিত পোস্ট