চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

দু'মাসে দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর লোকসান ১৩৬১ কোটি টাকা
দু'মাসে দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর লোকসান ১৩৬১ কোটি টাকা

১৮ মে, ২০২০ | ৩:১২ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দু’মাসে দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর লোকসান ১৩৬১ কোটি টাকা

বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসের মহামারী ঠেকাতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটে সব ফ্লাইট স্থগিত থাকায় মার্চ এবং এপ্রিল মাসে সকল দেশীয় এবং রাষ্ট্র পরিচালিত এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো ১ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা লোকসান করেছে।
করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বিমান চলাচল স্থগিত থাকায় মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনন্সের লোকসান হয়েছে ৯৩৯ কোটি টাকা, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ২৫০ কোটি টাকা, নভোএয়ারের ৩২ কোটি টাকা এবং রিজেন্ট এয়ারের ১৪০ কোটি টাকা।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মহিবুল হক বলেন, ‘এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মে ও জুন মাসে সম্ভাব্য লোকসান হবে আরও এক হাজার কোটি টাকার বেশি।’

এদিকে, পরিস্থিতি আরো দীর্ঘায়িত হলে রাষ্ট্র পরিচালিত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ক্ষতি হবে ৭৮০ কোটি টাকা। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, নভোএয়ার ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজের লোকসান হবে যথাক্রমে ১২৫ কোটি, ৩৬ কোটি এবং ৬০ কোটি টাকা’, যোগ করেন তিনি।
সিনিয়র সচিব বলেন, ‘যদি বিমানের আয় বাড়ে তাহলে কিছু সমস্যা হবে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসলে আমাদের কোনো লাভের দরকার নেই। আমরা কেবল কর্মীদের বেতন প্রদানের পর কার্যক্রম চালু রাখতে চাই। লাভ নিয়ে আমরা পরে চিন্তা করব যখন পরিস্থিতি আরও ভালো হবে, কারণ আমরা লকডাউনের আগে ৪৬০ কোটি টাকা লাভ করেছি।’

বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো তাদের কর্মীদের বেতন প্রদান করছে কী না জানতে চাইলে মহিবুল বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না, তবে তাদের সমস্যা হওয়ার কথা।’

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ মোকব্বির হোসেন বলেন, ‘দেড় হাজার কোটি টাকা ঋণ চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি আবেদন করা হলেও, আমরা এক হাজার কোটি টাকা পেয়েছি এবং এটি পরবর্তী এক বছরের মধ্যে চার শতাংশ সুদে পরিশোধ করা হবে।’

তিনি জানান, রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ৬০০ জন কর্মী রয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বেতন দিতে সমস্যায় পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিমানের পরিচালনা পর্ষদ বোর্ড এর সিদ্ধান্ত অনুসারে বিমান কর্মীদের বেতন ১০-৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে সিইও বলেন, ‘বিমানের কোনো কর্মীকে প্রত্যাহার করার মতো সিদ্ধান্ত নেই। চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনা করে আমরা বিমানবন্দর গ্রাউন্ড পরিসেবা থেকে অর্থ পাচ্ছি।’
রিজেন্ট এয়ারওয়েজের সূত্র মতে, সংস্থাটিতে ৭০০ কর্মী রয়েছেন এবং লকডাউন ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তিন মাসের জন্য অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক উভয় রুটে বিমান পরিচালনা থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছে।

এ ছাড়া, বিজিএমইএ এবং এফবিসিসিআই এর অনুরোধের প্রেক্ষিতে ২৩ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত কার্গো সেবার কোনো অর্থ গ্রহণ করবে না বিমান।

নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এভিয়েশন অপারেটরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এওএবি) সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান জানান, সরকারের কাছে আবেদন করার পরও তারা পার্কিং, সিটিং ও ভাড়ার খরচ নেওয়ার এবং ব্যাংক ঋণের কিস্তি প্রদানের বিষয়ে কোনো সমাধান পাননি।

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বিমান সংস্থাগুলো ব্যাপক হুমকির মুখে পড়েছে কারণ বেসামরিক বিমান চলাচল, বেতন ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় তাকে বহন করতে হয়।’
কর্মীদের ছাঁটাই করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মফিজুর বলেন, ‘ কর্মীদের ছাঁটাই করার কোনো সংবাদ আমি পাইনি। নভোয়ারে ৮০০ কর্মী রয়েছেন এবং আমরা এখন পর্যন্ত কর্মীদের বেতনও দিয়েছি।’

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে ১৪০০ কর্মী রয়েছেন এবং সকল কর্মীই গত এক মাসের বেতন পেয়েছেন। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক থাকায় কাউকে ছাঁটাই করা হয়নি। আমরা এখন প্রতিদিন ১০০ কোটি টাকা লোকসান গুনছি।’
এদিকে,বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চীন ব্যতীত সকল দেশের সঙ্গে যাত্রীবাহী বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ৩০ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

পূর্বকোণ/ এএ

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 149 People