চট্টগ্রাম সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

করোনা: মধ্যপ্রাচ্যে রমজানের আমেজহীন প্রস্তুতি

২১ এপ্রিল, ২০২০ | ৫:৪৬ অপরাহ্ণ

করোনা: মধ্যপ্রাচ্যে রমজানের আমেজহীন প্রস্তুতি

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারী করোনাভাইরাসের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে এ বছর মধ্যপ্রাচ্যে নেয়া হয়েছে রমজানের আমেজহীন প্রস্তুতি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশে চলছে লকডাউন। সৌদি আরব থেকে লেবানন, এমনকি লিবিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশেও পড়েছে করোনার প্রভাব৷ পুরো অঞ্চল জুড়ে মসজিদ বন্ধ রয়েছে৷ এমনকি মুসল্লিদের তারাবির নামাজও বাসায় থেকে পড়তে বলা হচ্ছে৷

সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি আব্দুল আজিজ আল শেখসহ আরো বেশ কয়েকটি দেশের ধর্মীয় নেতা রমজান ও ঈদ এবার ঘরে থেকে পালন করার নির্দেশনা দিয়েছেন৷ মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদের মোয়াজ্জিন আলীমুল্লাহ দুঃখপ্রকাশ করে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের অন্তর কাঁদছে। আমরা এই পবিত্র মসজিদে দিন রাত সবসময় ধর্মপ্রাণ মানুষের ভিড় দেখে অভ্যস্ত৷ আমরা মনের গভীরে এ ব্যথা অনুভব করছি৷’ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কাবাতেও নেই মুসল্লিদের আনাগোণা৷ অন্য যেকোনো সময় কাবার চারপাশের চত্ত্বর লোকে লোকারণ্য থাকে৷ গত মাসে উমরাহ হজও বন্ধ করে দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ৷

জুলাই মাসের শেষে মূল হজও বাতিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷ এমন হলে এটিই হবে আধুনিক ইতিহাসে হজ বাতিলের প্রথম ঘটনা৷ এরই মধ্যে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের হজে আসার আগাম প্রস্তুতি না নেয়ার আহবান জানিয়েছে৷ জেরুজালেম ও ফিলিস্তিন অঞ্চলের গ্র্যান্ড মুফতি মোহাম্মদ হোসেইন রমজান মাসজুড়ে মসজিদে নামাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছেন৷ এছাড়া রমজান মাসের চাঁদ দেখতে একসঙ্গে জড়ো না হওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ীই এসব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে৷ সংস্থাটির পক্ষ থেকে বিশ্বের সব দেশকেই আহ্বান করা হচ্ছে রমজানকে কেন্দ্র করে যাতে বড় কোনো জমায়েত নিরুৎসাহিত করা হয়৷ রমজানকে কেন্দ্র করে ইফতারের পণ্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসাতেও মারাত্মক প্রভাব পড়েছে৷

অর্থনৈতিক অবরোধে বিপর্যস্ত ইরান গত সপ্তাহে তেহরানে কিছু দোকান খোলার অনুমতি দিয়েছে৷ মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত দেশ হওয়া সত্ত্বেও সংক্রমণ আর অর্থনৈতিক দুর্দশার মধ্যে ভারসাম্য খুঁজতে হচ্ছে দেশটিকে৷ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে এখন ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত, মারা গিয়েছেন পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ৷ কিন্তু আশঙ্কা করা হচ্ছে বাস্তবে এ সংখ্যা আরো অনেক বেশি হবে৷ দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি দেশটির নাগরিকদের রমজানে বাসায় বসে নামাজ আদায়ের আহবান জানিয়েছেন৷ মিশরের রাজধানী কায়রোতে কিছু সড়ক ও বাজারে রমজান উপলক্ষ্যে আলোকসজ্জা করা হয়েছে৷ তবে সব ধরনের রেস্টুরেন্ট ও খাবারের দোকান বন্ধ রয়েছে৷

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের বিভিন্ন পরামর্শের তালিকায় বলেছে, কোভিড-১৯ এর সঙ্গে রোজা থাকার সম্পর্ক নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা হয়নি৷ অন্যসব বছরের মতো সুস্থ মানুষের রোজা রাখলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না৷ তবে অন্য সব রোগের মতো কোভিড-১৯ এর রোগীদেরও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া উচিত৷

 

 

 

 

 

 

 

 

পূর্বকোণ/এম

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 289 People

সম্পর্কিত পোস্ট