চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

২১ নভেম্বর, ২০২০ | ৩:১৫ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

ডায়বেটিসে কী কী খাবার কিভাবে খেতে হবে

ডায়বেটিস হলে মিষ্টি তো বটেই, ভাত-আলুও চলে যায় ‘না’র খাতায়। হাজির হয় ‘সুপার ফুড’। করোলা-লাউয়ের রস, মেথি ভেজানো জল, কাঁচা হলুদ-সহ রাজ্যের শাক-সব্জি। সরবত, ঠান্ডা- পানীয়ের জায়গা নেয় আমলা-্এলোভেরা জুস।

মাছ-মাংসের হালও তথৈবচ। রেড মিটের প্রশ্ন নেই। একটা ডিম খেতে হলেও হাজার প্রশ্ন। তৈলাক্ত মাছে হাই ক্যালোরি, তাই সেও প্রায় ব্রাত্য।

সে তাহলে খাবে কী? ডায়াবেটিক ডায়েট? কিন্তু বিজ্ঞানীরা যে বলছেন ডায়াবেটিক ডায়েট বলে কিছু হয় না। ডায়বেটিস হলেও বিজ্ঞানীরা সাধারণ সুষম খাবার খেতে বলেন, যা এমনিই আমাদের খাওয়ার কথা, যাতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট আছে মাপমতো, যে খাবারে নিষিদ্ধ কিছুই নেই।

এক্ষেত্রে হরমোন বিশেষজ্ঞ জানাচ্ছেন, স্বাভাবিক অবস্থায় যেমন ঘন ঘন অনিয়ম করলেও খুব ক্ষতি নেই, এক্ষেত্রে ততটা করা যায় না, বলাই বাহুল্য। কেউ যদি আলু খেতে চান, তাতে আপত্তি নেই। ‘চাল-গমের মতো আলুও তো স্টার্চ। তাহলে ডায়বেটিস হলে যদি ভাত-রুটি ব্রাত্য না হয়, আলু হবে কেন? বিশেষ করে যেখানে ১০০ গ্রাম চাল-গমে আছে ৩৪০ ক্যালোরি আর আলুতে ১০০ ক্যালোরি। এ ছাড়া আলুতে আছে ক্লোরোজেনিক এসিড, যা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমিয়ে ডায়াবেটিকদের উপকার করে। যদিও আলুর গ্লাইসিমিক ইনডেক্স (জিআই) বেশি। অর্থাৎ রক্তে চট করে সুগার বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু খোসাসমেত খেলে ও সঙ্গে অন্য শাক-সব্জি মিশিয়ে নিলে ফাইবারের দৌলতে পুরো খাবারের জিআই কমে যায়। তখন তা নিশ্চিন্তে খাওয়া যায়।’

পুষ্টিবিদ’রও প্রায় একই মত, ‘আলু ভাজা নয়। খেতে হবে সেদ্ধ করে বা তরকারি দিয়ে। আবার স্রেফ আলু-ভাতে না খেয়ে আলু–উচ্ছে, আলু–পটল বা আলু–বেগুন ভাতে খেলে পুষ্টি যেমন বেশি পাবেন, চট করে সুগারও বাড়বে না। আর কোনও দিন যদি আলু সেদ্ধ বা আলুর তরকারি খাওয়ার প্ল্যান থাকে, সে দিন ভাত-রুটি একটু কম খেলেই ঝামেলা মিটে যাবে।’

ফাইবারসমৃদ্ধ সুষম খাবার খেতে হবে : যদিও অনেকে ভাবেন, ডায়াবিটিস হলে কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট কমিয়ে খেতে হয় প্রচুর প্রোটিন, ব্যাপারটা তা নয়। মোট ক্যালোরির ৫০ শতাংশের বেশি কার্ব থেকে না এলেই হল এবং তা যেন ফাইবারসমৃদ্ধ হয়। তাই ময়দার বদলে হোল-গ্রেইন আটা, সাদা চালের বদলে ব্রাউন বা ওয়াইল্ড রাইস, সাদা পাউরুটির বদলে ব্রাউন ব্রেড, ফলের রসের বদলে গোটা ফল খেতে বলা হয়। সবজি, ডাল খেতে হয় খোসাসমেত। সবজি ও ফল দিনে ১০০ গ্রামের মতো খাওয়া দরকার। আম-কলাও মাঝেমধ্যে দু–’-এক টুকরো খাওয়া যায়। মিষ্টিও ন’মাসে ছ’মাসে খেতে পারেন। তবে ভরা পেটে, ফাইবারসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 57 People