চট্টগ্রাম রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

১৭ নভেম্বর, ২০২০ | ২:০৩ অপরাহ্ণ

ইমাম হোসাইন রাজু

চমেক হাসপাতালে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু মার্চে

একটি কক্ষ, তাতেই মিলবে সব ধরণের সেবা। থাকবে আইসিইউ-সিসিইউ এবং ছোট অস্ত্রোপচারসহ সব ধরণের সুবিধাও। আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যেই এমন জরুরি সুবিধা মিলবে চমেক হাসপাতালে।

চমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, ওয়ান স্টপ সার্ভিসের ভৌত অবকাঠামোগত কাজের প্রায় ৩০ শতাংশ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। পুরো কাজ আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। গণপূর্ত বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে কাজ শুরু হয় জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের। প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ শেষ হয়েছে। ইমারতের (সিভিল) কাজ বা মূল কাঠামোর ৭০ শতাংশ কাজ আগামী ফেব্রুয়ারি মধ্যে শেষ করার জোর চেষ্টা চলছে। এরপর শয্যা, যন্ত্রাংশ ও ইলেক্ট্রনিক্স কাজ সম্পন্ন করে মার্চ মাসের মধ্যেই ওয়ান স্টপ সার্ভিসের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বলে আশাবাদ গণপূর্ত বিভাগের। এদিকে, ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সার্ভিস বাস্তবায়নে একটি কমিটি গঠন করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যাতে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরীসহ মেডিসিন, সার্জারি ও অর্থপেডিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের নিয়ে গঠন করা হয়।

জানা যায়, ওয়ান স্টপ সার্ভিসেস কমিটির এক সভা আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ের এ সভায় চিকিৎসক, নার্সসহ জনবল, যন্ত্রপাতি এবং শয্যা আধুনিক এ কক্ষটি চালু করতে নানাবিধ বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

চমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. সাজ্জদ হোসেন চৌধুরী পূর্বকোণকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এর ডিজাইন করা হয়নি। তবে কমিটির প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনার পর প্রকৌশলীকে বুঝিয়ে দেয়া হবে। তাদের দিয়ে ডিজাইনটি বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া এখানে কত শয্যা বসানো হবে, কিংবা কত জনবল প্রয়োজন আছে, কি কি যন্ত্রপাতির প্রয়োজন সব বিষয়েই আলোচনা হবে। এরপর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

জানা গেছে, ২৪ ঘণ্টা রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে ওয়ান স্টপ সার্ভিসে যুক্ত করা হবে অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি, সিটি স্ক্যান, প্যাথলজি ল্যাবসহ পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ড ও ডে-কেয়ার সুবিধা। যাতে মেডিসিন, গাইনি, কার্ডিওলজি, অর্থোসার্জারি, শিশু, পেডি-সার্জারি ও এনেসথেসিওলজি এন্ড ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্ট কর্মীও থাকবে তাতে। ছোট অস্ত্রোপচার সুবিধাসহ থাকবে সব ধরণের সেবা কার্যক্রমও। এর ফলে সহজেই পাওয়া যাবে সব ধরণের সেবা। এছাড়া ভোগান্তি কমবে। চিকিৎসা ব্যয়ও কমবে। একই সাথে হাসপাতালের উপর চাপ কমবে।

চমেক হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫শ রোগী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে গড়ে আটশ’ রোগী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। আবার এই আটশ’ রোগীর মধ্যে দুই থেকে আড়াইশ’ রোগী কয়েক ঘণ্টা চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে থাকার পর সুস্থ হয়ে ওঠেন। এতদিন এসব রোগীদের ওয়ার্ডে ভর্তি দিয়ে সেবা দেওয়া হতো। কিন্তু এর কারণে ওয়ার্ডগুলোতে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সৃষ্টি হতো। এতে স্বজনদের পাশাপাশি হিমশিম খেতে হতো চিকিৎসকদেরও।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আফতাবুল ইসলাম পূর্বকোণকে বলেন,  ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে অবজারবেশন শয্যা রাখা হবে। যেখানে যে কোন জরুরি রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হবে। রোগীর অবস্থা বুঝে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হবে। না হয় সেখান থেকেই রোগীকে ছাড় দেয়া হবে। এতে করে ওয়ার্ডগুলোতেও রোগীর চাপ কমে আসবে। একই সাথে দ্রুততার সাথে চিকিৎসাও মিলবে রোগীর।’

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 75 People

সম্পর্কিত পোস্ট