চট্টগ্রাম সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০

২৫ অক্টোবর, ২০২০ | ১:১৬ অপরাহ্ণ

ইমাম হোসাইন রাজু

প্রাণহানিকর শতাধিক ভাইরাস শনাক্ত হবে মাত্র এক ঘণ্টায়!

প্রাণহানিকর শতাধিক ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত হবে মাত্র এক ঘণ্টায়। এমনই একটি অত্যাধুনিক যন্ত্র যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইনফেকসাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতালের ল্যাবে। এ যন্ত্রের মাধ্যমে অজানা প্রায় শতাধিক রোগের সংক্রমণ শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের প্রথম স্থাপিত মাল্টিপ্লেক্স পিসিআর সিস্টেমটির মাধ্যমে ব্যাকটিরিয়া, ভাইরাস, ইয়েস্ট, প্যারাসাইট্স এবং এন্ট্রিমাইক্রোবায়াল রেজিস্ট্যান্স জিনগুলো একযোগে পরীক্ষা করা সক্ষম হবে এ যন্ত্র দ্বারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সপ্তাহে বিআইটিআইডি ল্যাবরেটরিতে আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়া ‘বায়োফায়ার ফিল্মারি টর্চ সিস্টেম’র মাল্টিপ্লেক্স এ পিসিআর মেশিনটি যুক্ত করা হয়। মূলত এটি ফ্রান্সের একটি সংস্থার সাথে চলমান গবেষণা কাজে ব্যবহার করতেই মেশিনটি যুক্ত করা হয়েছে। যদিও এ পিসিআরে ব্যবহৃত রি-এজেন্টের মূল্য বেশি হওয়ায় আপাতত গবেষণা কাজেই ব্যবহার করা হবে এ মেশিনটি। তবে তা পরবর্তীতে ডিজিজ শনাক্তে উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে ল্যাব সংশ্লিষ্টদের।

ল্যাব সংশ্লিষ্টরা জানান, মাল্টিপ্লেক্স পিসিআরটির মাধ্যমে পাঁচটি প্যানেলের অন্তত শতাধিক ব্যাকটিরিয়া, ভাইরাস, ইয়েস্ট, প্যারাসাইট্স এবং এন্ট্রিমাইক্রোবায়াল রেজিস্ট্যান্স জিনগুলো পরীক্ষা করা যাবে। এরমধ্যে ২০ ধরনের শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া, ব্লাড কালচারের ২৪ ধরনের প্যাথোজেন এবং তিনটি এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধ জিনের পরীক্ষা, গ্যাস্টোইনটেন্সিনালের ২২ ধরনের রোগ জীবাণু, নিউমোনিয়া প্যানেল পরীক্ষার ১৮ ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ৭ ধরনের ভাইরাস এবং ৭ ধরনের এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধের চিহ্নিত করে এ যন্ত্র। এ যন্ত্রের মাধ্যমে রোগ শনাক্তসহ তার প্রতিকারের বিষয়েও জানা যাবে। তাও মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই এর ফলাফল পাওয়া সম্ভব। যা বিশ্বের প্রথম আমেরিকাতেই ব্যবহার হয়ে আসছিল মেশিনটি। সেখানে আমেরিকান মেরিন সেনা যারা ছিল, তাদের জন্যই ব্যবহারের নির্ধারিত ছিল বলেও জানান ল্যাব সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে বিআইটিআইডি ল্যাবের প্রধান অধ্যাপক ডা. শাকিল আহমেদ পূর্বকোণকে বলেন, ‘এটা খুবই অত্যাধুনিক মেশিন। এটা দিয়ে সাধারণভাবে যতগুলো ইনফেকসাস ডিজিজ আছে, সেটা শরীরের যে জায়গাতেই হোক, তা এক ঘন্টার মধ্যেই তা ডায়াগনস্টিক করে দিতে পারবে।’

‘তবে এ মেশিনটা এখন পর্যন্ত কমার্শিয়ালভাবে ব্যবহার করার মতো পর্যায়ে আসেনি। কেননা এর রি-এজেন্ট অনেক কস্টলি। একটা টেস্টের মূল্য দশ হাজার টাকা পড়ে যায়। সে জন্য এটা কমার্শিয়ালভাবে ব্যবহার করা যাবে কিনা তা এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। মূলত ফ্রান্সের সাথে যৌথ একটি রিসার্চের কাজে মেশিনটি আনা হয়। যা রোহিঙ্গাদের মধ্যে কোন অজানা ডিজিজ অবস্থান করছে কি-না বা তাদের থেকে কোন ভাইরাস বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়বে কি-না তা দেখা হবে। তবে এক সময়ে রি-এজেন্টের দাম কমে আসলে তা পুরোপুরি কমার্শিয়াল পর্যায়েও ব্যবহার শুরু করা হবে বলেও জানান এ বিশেষজ্ঞ।’

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 119 People

সম্পর্কিত পোস্ট