চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০

১৬ অক্টোবর, ২০২০ | ১২:৪৮ অপরাহ্ণ

আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস

প্রতিদিন প্রায় আড়াই কোটি মানুষ না খেয়ে থাকে

মানুষের পাঁচটি মৌলিক চাহিদার মধ্যে খাদ্য প্রধান। মানুষ জন্মসূত্রে এ অধিকার অর্জন করেন। কিন্তু বিশ্বের সব মানুষ এখনো তার প্রথম ও প্রধান এ মৌলিক চাহিদা খাদ্য সঠিকভাবে পাচ্ছে না। ২০১৯ সালে জাতিসংঘের দেয়া একটি তথ্যমতে জানা যায়, বিশ্বে প্রতিদিন ২ কোটি ৪০ লাখ মানুষ না খেয়ে থাকে। তাদের মধ্যে এশিয়াতে রয়েছে ৫১ কোটির বেশি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রতি ছয়জনের একজন। তাদের ভাগ্যে জুটছে না পর্যাপ্ত খাদ্য। আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দিবসটির একটি নিদিষ্ট প্রতিপাদ্য রয়েছে। এবারের বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘সবাইকে নিয়ে একসাথে বিকশিত হোন, শরীরের যত্ন নিন, সুস্থ থাকুন। আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ’। তবে অত্যন্ত প্রশংসনীয় বিষয় হলো ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মৌলিক চাহিদা খাদ্য নিয়ে ভালো কাজ করেছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের মধ্যেও প্রশংসনীয় কাজ করেছে সংস্থাটি। যার কারণে এ বছর অক্টোবর মাসে ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়ার লড়াইয়ে ভূমিকার জন্য শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জিতে নিয়েছে ডব্লিউএইচও।

ডব্লিউএইচও’র কমিটি বলেন, যুদ্ধ ও সংঘাতের অস্ত্র হিসেবে ক্ষুধা রোধ করতে চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে ডব্লিউএইচও। এছাড়া করোনাকালে সংস্থাটির অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো টিকা হচ্ছে খাদ্য।’
খাদ্যে শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট হৃদরোগ ঝুঁকি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে। আশংকার কথা হলো ট্রান্সফ্যাট ঘটিত হৃদরোগে মৃত্যুর সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষ্যে এক প্রতিক্রিয়ায় গবেষণা ও এডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার (প্রগতির জন্য জ্ঞান) নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে বাংলাদেশে হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ৪.৪১ শতাংশের জন্য দায়ী ট্রান্সফ্যাট। খাদ্যে ট্রান্সফ্যাটের সীমা নির্ধারণ করার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব। তাই আমাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নীতি প্রণয়ন করতে হবে।’
ট্রান্সফ্যাটমুক্ত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ডব্লিউএইচও’র পরামর্শ অনুযায়ী সবধরনের ফ্যাট, তেল এবং খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা মোট ফ্যাটের ২ শতাংশ নির্ধারণ করে আইন প্রণয়ন এবং কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 83 People

সম্পর্কিত পোস্ট