চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০

সর্বশেষ:

১ অক্টোবর, ২০২০ | ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

এই করোনায় আপনার বাচ্চা কি খাচ্ছে?

করোনাকালীন এই সময়ে সবচেয়ে বেশি টেনশনে আছেন বাচ্চার মায়েরা।স্কুল,কলেজ,কোচিং সব বন্ধ হয়ে পড়ায় বাচ্চাদের উপর এর প্রভাব পড়ছে বিভিন্নভাবে।বাইরে যাওয়া,খেলাধুলা করা ইত্যাদি করতে না পেরে বাসায় একটা গন্ডির মধ্যে তাদের সময় কাটছে।অনলাইনে ক্লাস ইত্যাদি শুরু হলেও বাচ্চারা খুব একটা আগ্রহ পাচ্ছেনা লেখাপড়ায়।বেশিরভাগ সময় টিভি দেখা,মোবাইলে গেম খেলা আর খাবার খাওয়া ছাড়া কিছু না করায় হয়ে পড়ছে অলস,অমনোযোগী আর খিটখিটে মেজাজের।

যেহতু শারীরিক কর্ম অনেকাংশে কমে গিয়েছে আর খাবার ব্যাপারে কোন চিন্তা না করেই ইচ্ছেমত খাবার গ্রহন করছে তাই লকডাউনে মুটিয়ে যাওয়ার সংখ্যাও বেরেছে প্রচুর।এই অনাকাঙ্ক্ষিত মোটা হয়ে স্থুলতা নিয়ে বেড়ে উঠা শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভেবেছেন কি??

এভাবে শিশুরা যদি ছোটবেলা থেকে অতিরিক্ত ওজন নিয়ে বড় হতে থাকে বড় হওয়ার সাথে সাথে অনেক রকম সমস্যায় পড়বে।স্থুলতা,ডায়াবেটিস,পায়ে ব্যাথা,পেট ফুলে যাওয়া ইত্যাদি নানা রকম জটিলতা দেখা দিবে।তাই এসব থেকে রেহাই পেতে মেনে চলতে হবে নিয়ম অনুযায়ী সঠিক খাবার গ্রহন করা।

শিশুরা সাধারনত বাইরের খাবার,ফাস্টফুড,মুখরোচক ভাজা পোড়া এসবের প্রতি আগ্রহী।তাদের জন্য পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার কোনটি তা পরিবার থেকেই জানাতে ও আগ্রহী করে তুলতে হবে।মা পারেন শিশুদের সঠিক খাবারে অভ্যস্ত করে তুলতে।

বাড়িতেই তৈরি করে দিতে হবে পুষ্টিকর খাবার।জন্ম থেকে ১০ বছর পর্যন্ত শিশুদের বলা হয় বাড়ন্ত।এই সময়ে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে।টিভি বা মোবাইলের স্ক্রিনে আটকে না রেখে তাদের জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে হবে।ছোট পরিসরে দড়ি লাফ,দোলনা,সাইকেলিং ইত্যাদি তাদের শারীরিক ব্যায়াম হিসেবে এবং ছবি আকা,গল্প বলা বা শোনা,বই পড়া,নাচ,গান ইত্যাদি মানসিক বিকাশে সাহায্য করবে।

অতিরিক্ত তেল চর্বিযুক্ত খাবার বাদ দিয়ে তাদের খাবার তালিকায় রাখা যেতে পারে বাদাম ও বীচি জাতীয় খাবার,বিভিন্ন ধরনের ফলমূলে তাদের অভ্যস্ত করতে হবে।পেয়ারা,আপেল,মাল্টা,কলা,খেজুর, এবং শাক সবজি হিসেবে লাউ,পটল,বরবটি,গাজর,ট্মেটো,লালশাক,লাউশাক ইত্যাদি রাখতে হবে।

সাধারনভাবে রান্না না করে তাদের জন্য বিশেষভাবে রান্না করে দিলে সহজেই তারা এসবে অভ্যস্ত হতে পারবে।যেমন,পটলের দোলমা,সবজি রোল,শাকপাতা দিয়ে পাতুরী,সবজি বড়া,বিভিন্ন রকম ভর্তা বানিয়ে দিতে পারেন। ব্রেন ফুড হিসেবে সামান্য ঘি,মধু ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় রাখা যাবে।চাল,ডাল,বিভিন্ন সবজি দিয়ে মজাদার খিচুরি তাদের বাড়তি পুষ্টি যোগাবে।

আজকের শিশু আগামী দিনের সম্ভাবনা।তাই তাদের দিকে বাড়তি মনযোগ দিতে হবে।বাইরের খাবার চিপস,চকলেট এসবের প্রতি আকর্ষন কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা মা হিসেবে আপনাকেই নিতে হবে।শিশুর ভালো মন্দের দায়ভার আপনার উপর পড়ে তাই এড়িয়ে যাওয়া বা অবহেলা করার  সুযোগ নেই।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 65 People

সম্পর্কিত পোস্ট