চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

করোনা পরবর্তী যত্ন-আত্তি
করোনা পরবর্তী যত্ন-আত্তি

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ৪:৫১ অপরাহ্ণ

ডা. গোলাম মোর্শেদ

করোনা পরবর্তী যত্ন-আত্তি

করোনাভাইরাস শরীরের উপরে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে। স্বল্পমেয়াদী প্রভাবের মধ্যে রয়েছে মারাত্মক দুর্বলতা, স্বাদ চলে যাওয়া, ঘ্রাণ চলে যাওয়া, শরীর ব্যাথা, মাথা ব্যথা, গলা ব্যাথা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব, পাতলা পায়খানা সহ নানান রকম অসুবিধা। দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের মধ্যে রয়েছে রোগীর স্থায়ীভাবে শ্বাসকষ্ট হওয়া। তাছাড়া শারীরিক দুর্বলতা ও ঘুমের সমস্যা হওয়াসহ পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার নামে একটি মানসিক রোগও হতে পারে।

করোনা রোগী ভালো হয়ে যাওয়ার পরে পরবর্তীতে পুরোপুরি সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় একটি গাইডলাইন তৈরি করেছে। উক্ত গাইডলাইনে শারীরিক ব্যায়াম, স্বাসের ব্যায়াম, ঘুম ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং খাবার দাবারের ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

শারীরিক ব্যায়াম:

করোনা পরবর্তী সময়ে হাঁটা সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যায়াম। বাসার মধ্যেই হাঁটবেন। প্রথম সপ্তাহে দৈনিক ৫ মিনিট করে ৫ বার করবেন এটি। দ্বিতীয় সপ্তাহে দৈনিক ১০ মিনিট করে ৩ বার করতে হবে। এবং তৃতীয় সপ্তাহে দৈনিক ১৫ মিনিট করে ২ বার করতে হবে। সারাদিন শুয়ে থাকা যাবে না। বসে থাকতে হবে অথবা হাঁটাচলার মাঝে থাকতে হবে। ব্যায়াম করার সময় কাছাকাছি একটি মোবাইল রাখবেন। কোন সমস্যা হলে যাতে কাউকে জানাতে পারেন। এবং পালস অক্সিমিটার রাখবেন। দেখবেন অক্সিজেন কমে যায় কিনা। এক্সারসাইজের সময় অক্সিজেন যদি ৮৮ এর নিচে নেমে যায় তাহলে ব্যায়াম বন্ধ করে বিশ্রাম নিবেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

শ্বাসের ব্যায়াম:

যাদের মারাত্মক বা ক্রিটিকাল কোভিড হয়েছে, ফুসফুস আক্রান্ত হয়েছে এবং শ্বাসকষ্ট হয়েছিল, অক্সিজেন নিতে হয়েছিল তাদের একটি ইন্সেন্টিভ স্পাইরোমিটার কিনে নিতে হবে। এই মেশিনটি দিয়ে কোভিড পরবর্তী সময়ে ব্যায়াম করতে হবে। এতে তার স্বাসের মাংস পেশিগুলোতে দ্রুত শক্তি ফিরে আসবে। দ্রুত শ্বাসকষ্ট লাঘব হবে। দীর্ঘমেয়াদী স্বাস কষ্ট দেখা দিবে না। যাদের মাইল্ড কোভিড হয়েছে তাদের এই মেশিন দিয়ে স্বাসের ব্যায়াম দরকার নাই।

খাবার-দাবার:

খুব ভালো ভালো খাবার-দাবার খেতে হবে। প্রতিদিনই ডিম দুধ মাছ মাংস শাক-সবজি ফল মূল বিশেষ করে যেকোন দেশি ফল ইত্যাদি খেতে হবে। প্রথম এক-দুই মাস একটু খাবারের পরিমাণ বাড়িয়ে খাবেন। যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা সেদিকে লক্ষ্য রেখে মিষ্টিজাতীয় খাবার বাদ দিয়ে প্রোটিন জাতীয় খাবার একটু বেশি খাবেন।

ঘুম ও মানসিক স্বাস্থ্য:

শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য দৈনিক ৭ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। সাত ঘন্টা যাতে ভালো ঘুম হয় সেজন্য কতগুলো কাজ করা যেতে পারে। খুব সকালে ঘুম থেকে উঠবেন এবং প্রতি রাতে একই সময়ে ঘুমাতে যাবেন। সারাদিনে এর মাঝখানে কখনো বিছানায় শুয়ে থাকবেন না। দিনের বেলা ব্যায়াম করলে রাতে ঘুমানোর জন্য সুবিধা হবে। ঘুমানোর আগে কোন ক্যাফেইন জাতীয় খাবার যেমন চা কফি খাবেন না। মোবাইল, ল্যাপটপ, টিভি ঘুমানোর বেশ কিছুক্ষণ আগেই বন্ধ করে রাখবেন। ব্লু লাইট ও মোবাইলে নাইট মুড দিয়ে রাখলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। শোবার ঘরটা একেবারে অন্ধকার করে ঘুমাতে যাবেন। তাহলে আপনার খুব ভালো ঘুম হবে। এর পরও ঘুম না হলে সেক্ষেত্রে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে একটি ঘুমের ঔষধ খেতে পারেন। যে করেই হোক আপনাকে অবশ্যই রাতে ৭ ঘন্টা ঘুমাতে হবে। আপনার শরীরের সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম খুবই প্রয়োজন।

মানসিক সুস্থতার জন্য সামাজিক যোগাযোগ বাড়িয়ে দিবেন। টিভি সিনেমা দেখবেন। পত্রিকা পড়তে পারেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটু ঢু মারতে পারেন। তবে মিডিয়া এক্সপোজার সারা দিনে ১০% সময়ের বেশি ভাল নয়। ফেসবুক, টিভি সীমিত সময়ের জন্য দেখবেন। বন্ধুবান্ধব আত্বীয় স্বজনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করবেন। আপনার যে দৈনন্দিন কাজবাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য বা চাকুরি- তাতে ধীরে ধীরে সংযুক্ত হয়ে যাবেন। তাহলে আপনার আত্মবিশ্বাস ফিরে আসবে। আপনি কনফিডেন্ট হবেন এবং আপনি মানসিক ও শারীরিকভাবে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।

 

লেখক: মেডিসিন ও হার্ট স্পেশালিস্ট

https://drgolammorshed.com

 

 

 

 

পূর্বকোণ/আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 70 People

সম্পর্কিত পোস্ট