চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

খাবার দাবারের নিয়ম মানুন, গ্যাস্ট্রিকের ঔষধকে না বলুন
খাবার দাবারের নিয়ম মানুন, গ্যাস্ট্রিকের ঔষধকে না বলুন

১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ৬:১৬ অপরাহ্ণ

ডা. গোলাম মোর্শেদ

খাবার দাবারের নিয়ম মানুন, গ্যাস্ট্রিকের ঔষধকে না বলুন

অনেকেই সারা বছর গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খেতে থাকেন। গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ থেকে নানা রকম সাইড এফেক্ট হতে পার। গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ পেটের এসিড নিঃসরণ কমায়। এসিড খাবার হজমে ও পরিপাকে ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন গ্যাস্ট্রিকের  ঔষধ খেলে খাবারের পুষ্টি উপাদান থেকে আপনি বঞ্চিত হতে পারেন। গ্যাস্ট্রিকের ঔষধগুলো যতই নিরাপদ হোক দীর্ঘ দিন খেলে সাইড এফেক্ট হতে পারে। এমনকি পেটের গ্যাস, পেট ব্যাথা আরও বাড়াতে পারে। হতে পারে মাথা ব্যাথা, গলা ব্যথাও। হাড্ডি ক্ষয়সহ অনেক সাইড এফেক্ট হতে পারে  দীর্ঘ দিন গ্যাস্ট্রিকের ক্যাপ্সুল খেলে। তাই সারা বছর ধরে গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খাওয়া একদম কোন ভালো ব্যাপার নয়। কিন্তু আপনার পেটের  অবস্থাও তো ভালো রাখতে হবে। সেটা খুব ভালোভাবেই সম্ভব খাবার দাবারের নিয়ম কানুন মেনে।

পেটের একটা বড় অসুখ হল পেপটিক আলসার বা গ্যাস্ট্রিক। গ্যাস্ট্রিক আলসার একদিনে হয় না। হঠাৎ করেও দেখা দেয় না। নানাবিধ কারণে ধীরে ধীরে এ সমস্যা দেখা দেয়। সমস্যার একেবারে গোড়ার দিকে বেশির ভাগ সময়ে শুধু হয় এসিডিটি, বুকজ্বালা, বদহজম ইত্যাদি। এসব উপসর্গ এতোটাই সাধারণ যে আমরা ব্যাপারটিকে তেমন গুরুত্ব দেই না। দু একদিন অপেক্ষা করি, তারপর এন্টাসিড খাই। অনেক সময় এই এন্টাসিড খাওয়াটা অভ্যাসে পরিণত হয়। তখন এন্টাসিড না হলে আমাদের চলে না। লাগাতার এন্টাসিড খেয়েও যখন অবস্থার উন্নতি হয় না তখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই।

গ্যাস্ট্রিক বা পেপটিক আলসারের দুটি ভাগ আছে। ডিওডেনাল আলসার ও গ্যাসট্রিক আলসার। অর্থাৎ ডিউডেনাল ও পাকস্থলীর ক্ষতকে একত্রে বলা হয় পেপটিক আলসার।

কেন এই আলসার হয় তার সঠিক কারণ সম্বন্ধে রয়েছে বিভিন্ন মতামত। তবে অনিয়মিত খাবার; যখন তখন খাওয়া; অতিরিক্ত তেল, ঘি, মশলাযুক্ত খাবার; ভাজাভুজি বেশি পরিমাণ খাওয়া, অতিরিক্ত চা, কফি ও মদ্যপান, অত্যধিক মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা ইত্যাদি পেপটিক আলসার হওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসাবে ধরা হয়। হেলিকোব্যাক্ট্রর পাইলোরি নামক একটি ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণেও গাস্ট্রিক আলসার হয়। কিছু ব্যাথার ঔষধেও গাস্ট্রিক আলসার হতে পারে। তবে যে কারণেই হোক না কেন গ্যাস্ট্রিক আলসারের চিকিৎসা করা আবশ্যক। আর তা নিরাময়ে খাদ্যের ভূমিকা অপরিসীম।

খাবারের নিয়ম

নিয়মিত ও সময় মতো খাবার খাবেন। অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকবেন না। খাবার ভালভাবে চিবিয়ে খেতে হবে। অনেক বেশি গরম এবং অনেক বেশি ঠান্ডা খাবার খাওয়া উচিত নয়। অকারণে টেনশন করবেন না। মদ্যপান একেবারেই করবেন না। সিগারেটের ধোঁয়াও আলসারের পক্ষে ক্ষতিকর। তাই ওটাও ছেড়ে দিন।

যা খাবেন

আধাসিদ্ধ এবং সিদ্ধ ডিম, মাছ, ফলের রস, আলু, দুধ, জেলি, মধু, চিনি, নরম ভাত, মুরগির মাংস, ছানা, কচি মাংস, পাকা কলা, আঁশহীন সবজি। যেমন লাউ, কাঁচা পেঁপে, চালকুমড়া, পটল, চিচিঙ্গা, কাঁচা কলা, ইত্যাদি। যথা সম্ভব হালকা পাতলা খাবার আলসার রোগীদের জন্য ভালো।

যা খাবেন না

অতিরিক্ত ঝাল মশলা দেয়া খাবার কখনই খাওয়া উচিত নয়। তা ছাড়াও যা খাবেন না তা হল খোসাসহ আস্ত ফল, ডাল (তবে মুগডাল কাঁচা অবস্থায় সিদ্ধ করে খাওয়া যাবে), যে কোন বাজারজাত পানীয় বা সফট ড্রিঙ্কস, চা ও কফি (তবে দুধ ছাড়া হালকা লিকার ও অল্প পরিমানে খাওয়া যেতে পারে)।

সবজি- বাঁধাকপি, পিয়াজ, শালগম, মটরশুটি, বরবটি, ফুলকপি, ওলকপি এবং সব রকমের শাক। এগুলোতে আঁশ বেশি। পেট ফাঁপা বাড়িয়ে দেয়। আচার, সস ও সালাদ কম খাবেন। ভূষিযুক্ত আটা এবং লবণযুক্ত ভাঁপানো ও ভাজা মাংস খাবেন না। তেল ও চর্বি জাতীয় খাবারও কম খাবেন।

 

লেখক: মেডিসিন ও হার্ট স্পেশালিস্ট

https://drgolammorshed.com

 

 

 

পূর্বকোণ/আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 139 People

সম্পর্কিত পোস্ট